• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল, ২০২১, ৭ বৈশাখ ১৪২৮
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২১, ০৯:৩৯ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২১, ০৯:৪৫ পিএম

ইসরায়েলে নবীজির শাসনামলে নির্মিত মসজিদ আবিষ্কার

ইসরায়েলে নবীজির শাসনামলে নির্মিত মসজিদ আবিষ্কার

“৬৭০ খ্রিস্টাব্দের দিকে যখন এই মসজিদটি নির্মাণ করা হয়, তখন মুসলিম শাসন চলছিল তিবেরিয়াস শহরে। ২০ খ্রিস্টাব্দের দিকে দ্বিতীয় রোমান সম্রাটের নামানুসারে তিবেরিয়াসের নামকরণ হয়। একসময় শহরটি ইহুদিদের জীবন ও জীবিকার প্রাণকেন্দ্র হিসেবেও পরিচিত ছিল। ৬৩৫ খ্রিস্টাব্দে মুসলিম সেনারা গালীল সাগরের উপকূলএর এই শহরটি জয় করে। এই মসজিদটির নির্মাণকাল বা এর আশপাশের কয়েক দশক আগেও এখানে আধিপত্য ছিল মুসলিমদের।”

এভাবেই ইসরায়েলে আবিষ্কৃত মসজিদটির বর্ননা করছিলেন ইসরায়েলের প্রত্নতত্ত্ববীদরা। গালীল সাগরের দক্ষিণে প্রাচীন এই মসজিদটি পুনরুদ্ধারে খননকাজ পরিচালনা করেছে জেরুজালেমের হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়। মসজিদের ধ্বংসাবশেষ ও মূল ভিত্তি দেখে তারা ধারণা করেন, মুসলমানদের সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মদ মুহাম্মদ (স.) এর পরবর্তী প্রজন্মের লোকেরা এটি নির্মাণ করেছে। মূলত ইসালামি যুগের সূচনাকালেই স্থাপিত হয় মসজিদটি।

মসজিদের নির্মাণশৈলী পর্যবেক্ষণ করে প্রত্নতাত্ত্বিকরা ধারণা করছেন, মুসলিম সাম্রাজ্যের শুরুর দিকে অন্য ধর্মাবলম্বীদের প্রতি ইসলামি শাসকদের দৃষ্টিভঙ্গি আনেকটাই সহনশীল ছিল। এসময় মুসলিম ছাড়াও অন্য ধর্মাবলম্বীদের সহাবস্থান ছিল এ অঞ্চলে। মুসলিম শাসকদের অধীনেই তিবেরিয়াসে মুসলিম সাম্রাজ্যের আঞ্চলিক রাজধানী হয়ে উঠে এবং ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে। গবেষকরা মনে করছেন, ইসলামী শাসনের শুরু দিকে খলিফারা গালীল তীরবর্তী শহরটির উপকণ্ঠে একটি প্রাসাদও নির্মাণ করেছিলেন।

হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক প্রত্নতত্ত্ব গবেষক এবং খননকাজের নেতৃত্বে থাকা কাটিয়া সিট্রিন সিলভারম্যান বলেন, “এই শহরের সর্বপ্রথম মসজিদটি ইহুদীদের উপাসনালয় ও বাইজেন্টাইন আমলের একটি চার্চের পাশেই নির্মাণ করা হয়েছিল। মুসলিমরা অন্য ধর্মের উপাসনালয়গুলো ধ্বংস করেনি। তাছাড়া প্রথমদিকের এই মসজিদগুলো নির্মাণে তেমন চাকচিক্য ছিল না। তবে পরবর্তী সময়ের মুসলিমরা জাঁকজমকপূর্ণ বিশাল আকারে মসজিদ নির্মাণ করতে শুরু করে।”

“ইসলামি শাসন শুরুর দিকে নির্মিত অনেক মসজিদের কথাই আমরা জানি। ওই সময়ে নির্মিত মদিনায় নবীর মসজিদ নামে পরিচিত মসজিদে নববী ছাড়াও দামেস্কের বিখ্যাত উম্মিয়াদ মসজিদ এবং জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদও ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে। তবে এসব মসজিদ এখনো ব্যবহৃত হচ্ছে।”

ইসরায়েলের পুরাতত্ত্ব কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রত্নতত্ত্ববিদ গিডেওন অভনি বলেন, “সপ্তম শতকের শুরুতে মুসলিমদের লেভেন্ট ও মেসোপটমিয়া শহর জয় করা দেখে অনেকেই ভাবতেন তাঁরা বেশ আক্রমণাত্মক ও কঠোর ছিলেন। তবে নতুন নতুন এসব আবিষ্কার দেখে প্রত্নতাত্ত্বিকরা বুঝতে পারছেন মুসলিম শাসকরা খুব ধীরভাবে এগিয়েছেন এবং অনেক অঞ্চলেই ভিন্ন ধর্মের লোকজনরা তাদের সঙ্গে বসবাস করতো। তিবেরিয়াসও এমটাই নির্দেশ করে।”
এদিকে সিলভারম্যান বলেন, “ইসলামি শাসন শুরুর দিকে নির্মিত অনেক মসজিদের কথাই আমরা জানি। ওই সময়ে নির্মিত মদিনায় নবীর মসজিদ নামে পরিচিত মসজিদে নববী ছাড়াও দামেস্কের বিখ্যাত উম্মিয়াদ মসজিদ এবং জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদও ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে। তবে এসব মসজিদ এখনো ব্যবহৃত হচ্ছে।”

আর গিডেওন অভনি বলছেন, “কবে থেকে মুসলিমরা মক্কার দিকে কিবলামুখী মিম্বারসহ মসজিদ নির্মাণ শুরু করেন, এমন তথ্য জানতেও নতুন আবিষ্কারগুলো সাহায্য করবে।”

এর আগে ১৯৫০ সালে এই শহরে আরেকটি প্রত্নতাত্ত্বিক ভবন আবিষ্কৃত হয়। প্রত্নতাত্ত্বিকরা প্রাথমে এটিকে বাইজেনটাইন শাসনামলে নির্মিত বাজার বলে মনে করেছিলেন, যা পরবর্তীতে মুসলিমরা মসজিদ হিসেবেও ব্যবহার করতো। তবে সিলভারম্যানের গবেষক দল ভবনের তলদেশ খনন করতে গিয়ে কিছু মুদ্রা ও মৃৎশিল্প উদ্ধার করেন। এসব নমুনা দেখে তারা মনে করছেন এই ভবনটিও ৬৬০ থেকে ৬৮০ খ্রিস্টাব্দে মুসলিমদের বিজয়ের পরই নির্মাণ হয়।

নতুন আবিষ্কৃত এই মসজিদটির সঙ্গেও মহানবীর শাসনামলে নির্মিত বিভিন্ন মসজিদের নির্মাণকৌশল, গঠন, কিবলা, নামাজের জায়গাসহ অনেক অংশের মিল রয়েছে। জানুয়ারিতে এক ভার্চুয়াল কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রাচীন মসজিদটি আবিষ্কারের ঘোষণা দেয় ইসরায়েলি প্রত্নতাত্ত্বিকরা। এটিকে বিভিন্ন ধর্মের অনুসারীদের সহাবস্থানের ‘সোনালী যুগের নিদর্শন’ বলে অভিহিত করছেন তাঁরা।

সূত্র: এপি