• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২১, ৩ বৈশাখ ১৪২৮
প্রকাশিত: মার্চ ২, ২০২১, ০৬:০৮ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : মার্চ ২, ২০২১, ০৬:০৮ পিএম

ভারতের সুপ্রিমকোর্টের রায় 

‘বিয়ের প্রলোভন’ ও ‘ধর্ষণ’ আলাদা অপরাধ

‘বিয়ের প্রলোভন’ ও ‘ধর্ষণ’ আলাদা অপরাধ

ধর্ষণ মামলা নিয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের দেয়া এক রায় ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে দেশটিতে। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত বিনয় প্রতাপ সিংয়ের এক আবেদনের প্রেক্ষিতে সোমবার প্রধান বিচারপতি এসএ বোবদে প্রশ্ন রাখেন, কেউ যখন স্বামী-স্ত্রীর মতো সম্পর্কে জড়ায়, তখন তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক কিভাবে ধর্ষণ হতে পারে?

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, অভিযুক্ত বিনয় প্রতাপ সিংয়ের সঙ্গে তার সাবেক প্রেমিকার সম্পর্ক ছিল দুই বছর। এসময় তারা শারীরিক সম্পর্কে জড়ালেও বিনয় প্রতাপ পরে অন্য একজনকে বিয়ে করেন। তখন ২০১৯ সালে পুলিশের কাছে তার বিরুদ্ধে ‘বিয়ের প্রলোভন’ দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ করেন সাবেক প্রেমিকা।

যদিও এসএ বোবদে জানান, “কেউ যদি বিয়ের জন্য মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকে, সেটা অবশ্যই ভুল, নারী-পুরুষ কারোই এটা করা উচিত নয়।” তিনি আরো বলেন, “একজন নারী ও একজন পুরুষ যখন একসঙ্গে বসবাস করে এবং তাদের মধ্যে যদি স্বামী-স্ত্রীর মতো সম্পর্ক গড়ায় তখন সেই পুরুষ লোকটি যতই খারাপ হোক না কেন, সে যে ভুলই করুক না কেন, সেটাকে কি ধর্ষণ বলা যাবে?”

বাদীপক্ষের আইনজীবী দাবি করেন, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সম্পর্কে জড়ানোর পর সাবেক প্রেমিকাকে শারীরিক নির্যাতন ও ধর্ষণ করেন বিনয় প্রতাপ সিং। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে মেডিক্যাল রিপোর্টও পেশ করেন তিনি।

তবে আদালতে দায়ের করা আবেদনে বিনয় দাবি করেন, উভয়ের সম্মতিতেই তারা শারীরিক সম্পর্কে জড়ান এবং এই মামলা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এমনকি তার সাবেক প্রেমিকার আরো একজনের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে বলেও জানান তিনি। বিনয় দাবী করেন, হয়রানির জন্যই এই মিথ্যা মামলা করা হয়েছে।

উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত জানায়, এই নারী কোনভাবেই নিজেকে ‘ভুক্তভোগী’ দাবি করতে পারেন না।

এসময় বিনয় প্রতাপ সিংকে আট মাসের অগ্রিম জামিন দিয়ে, মামলা নিষ্পত্তির জন্য তাকে আবেদন করতে বলেন আদালত।

আরও পড়ুন