• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন, ২০২১, ১০ আষাঢ় ১৪২৮
প্রকাশিত: এপ্রিল ২৯, ২০২১, ১১:০০ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : এপ্রিল ৩০, ২০২১, ১২:৪২ এএম

‘না ফেরার দেশে’ আগেও গিয়েছিলেন মাইকেল কলিন্স

‘না ফেরার দেশে’ আগেও গিয়েছিলেন মাইকেল কলিন্স

প্রথম চাঁদে অবতরণকারী নিল আর্মস্ট্রং যখন চন্দ্রপৃষ্ঠ স্পর্শ করেন তখন তার প্রথম বার্তা ছিল, ‘দ্য ঈগল হ্যাজ ল্যান্ডেড’। এই বার্তাটি পৃথিবীতে পৌঁছাতেই সেসময় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছিলেন অ্যাপোলো ১১ মহাকাশযানে একা অবস্থানরত আরেক মহাকাশচারী মাইকেল কলিন্স।

অ্যাপোলো ১১ এর প্রধান পাইলট ছিলেন ছিলেন তিনি। মহাকাশযানটি চাঁদে নিয়ে যাওয়া এবং ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি পৃথিবীর সঙ্গে যোগাযোগ নিশ্চিত করাই ছিল কলিন্সের প্রধান দায়িত্ব।

এক সাক্ষাৎকাররে তিনি জানান, চাঁদের পৃষ্ঠ থেকে মাত্র ৬০ মাইল দূরে অ্যাপোলো ১১-তে নিল আর্মস্ট্রংয়ের অবতরণের বার্তা পেয়ে সবচেয়ে উচ্ছ্বসিত হয়েছিলেন তিনি।

প্রায় ২২ ঘণ্টা চাঁদে অবস্থান করেন বাজ অলড্রিন ও নীল আর্মস্ট্রং। সেসময় মহাকাশযানে একাকী অবস্থান করছিলেন মাইকেল কলিন্স। যুক্তরাষ্ট্রের রেডিও স্টেশন এমপিআরকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ২০১৬ সালে তাঁর নির্জন অভিজ্ঞতার কথা জানান মাইকেল কলিন্স।

নিঃসঙ্গ নভোচারী কলিন্স
কলিন্সের দায়িত্ব ছিল অ্যাপোলো ১১ মহাকাশযানটি চালনা করা। আর তাই চন্দ্র অভিযানের পুরোটা সময় সেখানেই কাটান তিনি। অনেকেই তাকে ফরগটেন অ্যাস্ট্রোনাট (Forgotten astronaut) বা বিস্মৃত নভোচারী বলেও ডাকেন।

মহাকাশযানে বসে কলিন্স ধারণ করেন চাঁদের প্রথম স্পষ্ট ছবি। একসঙ্গে আরও একটি ঐতিহাসিক ছবির ফটগ্রাফারও তিনি, যেখানে তিনি আর দুই সহযাত্রী ছাড়া সবাই ছিলেন পৃথিবীতে।

কলিন্সের স্মরণে বুধবার সেই ছবিটি টুইট করে নাসা

বাকি দুই সহযাত্রী যখন চাঁদে বিচরণ করছেন, কলিন্স তখন অভিযানের সর্বশেষ তথ্য, চন্দ্রপৃষ্ঠের বিবরণ, ভৌগলিক গঠনসহ বিভিন্ন তথ্য লিপিবদ্ধ করেন। সেগুলো ছবিসহ পাঠাতে থাকেন পৃথিবীতে অবস্থিত মার্কিন মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র নাসাতে।

সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “দূর থেকে দেখা পৃথিবীর সেই দৃশ্যটি আমার আজও মনে আছে। উজ্বল সাদা-নীল রঙের ছোট্ট সুন্দর আমাদের গ্রহটি অদ্ভুত সুন্দর দেখাচ্ছিল।”

এসময় কলিন্স আরও বলেন, চাঁদের চতুর্দিকে ঘুরতে ঘুরতে একসময় তার সঙ্গে পৃথিবীর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। কেননা চাঁদের যে দিকটি পৃথিবীর বিপরীত দিকে অবস্থিত সেখানে কোন যোগাযোগ ব্যবস্থা কাজ করে না।

কলিন্স জানান, চাঁদের ঐ অংশকে ‘না ফেরার দেশ’ বলে উল্লেখ করে থাকেন কেউ কেউ। অনেকেই তাকে বিশ্বের সবচেয়ে নিঃসঙ্গ মানুষ বলেও উল্লেখ করেন। যদিও সেই নির্জনতা আর একাকীত্ব দারুণ উপভোগ করেছিলেন তিনি।

“আসলে আমার মাথায় তখন অভিযান সফলভাবে শেষ করার চিন্তাই কাজ করছিল। অ্যাপোলো ১১-এ আমি খুব ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছিলাম। আর তাই মহাকাশযানটি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় সময় আমার একটু বিশ্রামের ফুরসৎ মেলে।” – এভাবেই নিজের সেই অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন মাইকেল কলিন্স।

দীর্ঘদিন ধরেই ক্যান্সার আক্রান্ত মাইকেল কলিন্স ২৮ এপ্রিল (বুধবার) ৯০ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। না ফেরার দেশই হলো তাঁর শেষ গন্তব্য।

গবেষকরা বলেন, চন্দ্রপৃষ্ঠে অবতরণ না করায় অভিযানে কলিন্সের গুরুত্ব অনেকেই উপলব্ধি করতে পারেন না। অথচ অভিযানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ছিল তার ঘাড়েই। 

১৯৬৯ সালের ১৬ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে চন্দ্র অভিযান শুরু করে অ্যাপোলো-১১। ১ জুলাই ‘ইগল’ লুনার মডিউলে করে চাঁদে অবতরণ করেন নিল আর্মস্ট্রং ও বাজ অলড্রিন। প্রায় ১৯৫ ঘণ্টা মহাকাশে কাটিয়ে ২৪ জুলাই পৃথিবীতে ফিরে আসেন এই তিন নভোচারী।

আর পুরো অভিযানে একাই মহাকাশযান অ্যাপোলো-১১ পরিচালনা করে দুই সহযাত্রীকে চাঁদে পৌঁছে দিয়ে, আবারও নিরাপদে পৃথিবীর মাটিতে সবাইকে নিয়ে ফিরে আসেন মাইকেল কলিন্স। তাই নাসার সর্বকালের সেরা পাইলটের স্বীকৃতির দাবিদারও তিনি।

তথ্যসূত্র: মিনেসোটা পাবলিক রেডিও

আরও পড়ুন