• ঢাকা
  • রবিবার, ০১ আগস্ট, ২০২১, ১৬ শ্রাবণ ১৪২৮
প্রকাশিত: জুন ২৪, ২০২১, ০৬:১৫ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : জুন ২৪, ২০২১, ১২:১৫ পিএম

ব্রিটেনে দীর্ঘ কোভিডের ঝুঁকিতে ২০ লাখ মানুষ

ব্রিটেনে দীর্ঘ কোভিডের ঝুঁকিতে ২০ লাখ মানুষ

ব্রিটেনের ইংল্যান্ডে ২০ লাখেরও বেশি মানুষ দীর্ঘ কোভিডের ঝুঁকিতে আছেন। দেশটির রাজধানী লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজ ভিত্তিক স্বাস্থ্য জরিপ সংস্থা রিঅ্যাক্ট স্টাডিজের সাম্প্রতিক জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে।

করোনা থেকে সেরে ওঠার পরও কারও দেহে এই রোগের লক্ষণগুলো ১২ সপ্তাহ বা তার অধিক সময় স্থায়ী হলে তাকে দীর্ঘ কোভিড (লং কোভিড) বলে উল্লেখ করেছেন ব্রিটেনের প্রধান সরকারি স্বাস্থ্যসেবা দফতর ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস)-এর কর্মকর্তারা।

কী কারণে এমন ঘটে সে ব্যাপারে এখনও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়নি। দীর্ঘ কোভিডের কোনো স্বীকৃত সংজ্ঞাও এখন পর্যন্ত নেই। কিন্তু ব্রিটেনে এই সমস্যায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকায় বর্তমানে একে ‘বড় চ্যালেঞ্জ’ বলে উল্লেখ করেছেন দেশটির বিশেষজ্ঞরা।

দীর্ঘ কোভিড
করোনা বা কোভিড ১৯ এর সাধারণ লক্ষণগুলো হলো – জ্বর, মাংসপেশিতে ব্যথা, শুষ্ক কাশি, মাথাব্যথা, ঘ্রাণশক্তি ও স্বাদ নষ্ট হয়ে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, ক্লান্তি প্রভৃতি।

করোনা থেকে সেরে ওঠার পর কোনও ব্যক্তি যদি ১২ সপ্তাহ বা তার অধিক সময় এসব লক্ষণের কোনও একটি বা একাধিকে ভোগেন এবং এসব লক্ষণ যদি মাঝারি বা তার চেয়ে প্রকট আকারে দেখা দেয় সেক্ষেত্রে বলা যায়, তিনি দীর্ঘ কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন।

গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ব্রিটেনে যারা করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন, জরিপের জন্য তাদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশকে বেছে নিয়েছিল রিঅ্যাক্ট স্টাডিজ। জরিপে অংশ নেওয়া ৩৭ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, তারা ১২ সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে করোনার অন্তত একটি লক্ষণে ভুগছেন এবং ১৫ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা ১২ সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে এ রোগের তিনটি বা তারও বেশি লক্ষণে ভুগছেন।

স্থুলকায়, ধূমপায়ী, দীর্ঘস্থায়ী ঠাণ্ডাজনিত উপসর্গে ভোগা ও স্বল্প আয়ের মানুষের মধ্যে দীর্ঘ কোভিডে ভোগার হার বেশি বলে উঠে এসেছে জরিপে। আরও দেখা গেছে, এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে নারীদের।

সবচেয়ে বেশি যে লক্ষণটি দেখা গেছে, তা হলো শারীরিক অবসাদ। দীর্ঘ কোভিডে ভোগা বেশিরভাগ মানুষ রিঅ্যাক্ট স্টাডিজকে জানিয়েছেন, করোনা থেকে সেরে ওঠার পর থেকেই অবসাদে ভুগছেন। অনেকে জানিয়েছেন, এ রোগে আক্রান্ত থাকা অবস্থায় যে মাত্রার শ্বাসকষ্টে ভুগতেন তারা, সুস্থ হয়ে ওঠার পর সেই মাত্রায় না থকালেও শ্বাস-প্রশ্বাসে এখনও সমস্যা রয়ে গেছে তাদের।

ব্রিটেনের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা অবশ্য বলেছেন, করোনা থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার ১২ সপ্তাহ পরও যদি এর কোনো একটি লক্ষণের মৃদু উপস্থিতি মানবদেহে থাকে সেক্ষেত্রে সেটি দীর্ঘ কোভিডের অন্তর্ভূক্ত নয়। পাশাপাশি, এ বিষয়টি নিয়ে ব্যাপকমাত্রায় গবেষণা প্রয়োজন বলেও মত দিয়েছেন তারা।

রিঅ্যাক্ট স্টাডিজের পরিচালক ও ইম্পেরিয়াল কলেজের অধ্যাপক পল এলিয়ট এ বিষয়ে বিবিসিকে বলেন, ‘দীর্ঘ কোভিড রোগটির বিষয়ে এখন পর্যন্ত বিশ্বের কোথাও সেভাবে গবেষণা হয়নি। ফলে এ বিষয়ক পর্যাপ্ত তথ্যও আমাদের হাতে নেই। আমাদের জরিপের মূল উদ্দেশ্য ছিল এই রোগ সম্পর্কিত যতখানি সম্ভব তথ্য সংগ্রহ করা; যা শুধু যুক্তরাজ্য নয়, বরং বিশ্বের সব মানুষের কাজে আসবে।’

এদিকে ব্রিটেনের ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন ও কিংস কলেজ লন্ডনও এ বিষয়ে পৃথক একটি জরিপ চালিয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যে করোনা থেকে সেরে উঠেছেন এমন প্রতি ছয়জন মধ্যবয়স্ক ব্যক্তির মধ্যে একজন দীর্ঘ কোভিড উপসর্গে আক্রান্ত।

অপেক্ষাকৃত কমবয়স্কদের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, করোনা থেকে সেরে ওঠার পর প্রতি ১৩ জনে ১ জন দীর্ঘ কোভিড উপসর্গে ভুগছেন। সূত্র: বিবিসি

জাগরণ/এসকে