• ঢাকা
  • রবিবার, ০১ আগস্ট, ২০২১, ১৬ শ্রাবণ ১৪২৮
প্রকাশিত: জুলাই ২০, ২০২১, ১২:৩৯ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : জুলাই ২০, ২০২১, ০৩:২৬ পিএম

বাংলা ও বাঙালির বন্ধু সাংবাদিক সাইমন ড্রিং আর নেই

বাংলা ও বাঙালির বন্ধু সাংবাদিক সাইমন ড্রিং আর নেই

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বাঙালির স্বাধিকার আদায়ের সংগ্রামে পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন নানা দেশের অজস্র সহমর্মী মানুষ। তাদের কেউ কেউ ভূমিকা রেখেছিলেন রাইফেল কাঁধে যুদ্ধের মাঠে, শরণার্থী শিবিরে, কেউবা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন বিভিন্নভাবে প্রতিবাদ ও জনমত গঠন করে। তাঁদের মাঝে কলম হাতে যে মানুষটি দুঃসাহসি বীরের মতো লড়াই করেছিলেন, যার হাত ধরে বাঙালির নিপীড়ন আর সংগ্রামের কথা পৌঁছে গিয়েছিল বিশ্ব মানবতার দরবারে তিনি ব্রিটিশ সাংবাদিক সাইমন ড্রিং।

আজ বাঙালি জাতি তাঁর সেই শ্রেষ্ঠ বন্ধুটিকে হারালো। জীবনের পাট চুকিয়ে প্রয়াত হলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক সাইমন ড্রিং। গত শুক্রবার অসুস্থ সায়মন ড্রিং তলপেটে সার্জারি চলাকালে লন্ডনে মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর।

বিশেষ একটি সূত্র মঙ্গলবার সকালে দৈনিক জাগরণকে সাইমন ড্রিং এর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে।

বাংলাদেশে টিভি মিডিয়ার সম্প্রসারণে আইকনিক ক্যারেক্টর ছিলেন সাইমন ড্রিং। শুধু তাই নয়, কলম আর ক্যামেরা হাতে নিজের জীবন বাজি রেখে মুক্তিযুদ্ধে নিরীহ বাংলাদেশিদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন সাংবাদিক সায়মন ড্রিং।

সাইমন ড্রিং বাংলাদেশে ২০০০ সালে এসেছিলেন এ দেশের প্রথম বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল একুশে টিভি গড়ে তোলার প্রধান কারিগর হিসেবে। কিন্তু ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর একুশে টিভি বন্ধ করে দেয়। ২০০২ সালের অক্টোবরে সরকার সাইমন ড্রিংয়ের ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিট বাতিল করে তাঁকে অবিলম্বে বাংলাদেশ ত্যাগের আদেশ দিলে তিনি চলে যান।

সাইমন ড্রিংয়ের জন্ম ইংল্যান্ডে, ১৯৪৫ সালে। তিনি সংবাদপত্র ও টেলিভিশনের সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেছেন ১৮ বছর বয়স থেকে। দেখেছেন ২২টি যুদ্ধ, অভ্যুত্থান ও বিপ্লব।

উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বাঙালির পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন নানা দেশের অজস্র সহমর্মী মানুষ। তাদের কেউ কেউ ভূমিকা রেখেছিলেন রাইফেল কাঁধে যুদ্ধের মাঠে, শরণার্থী শিবিরে, কেউবা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন বিভিন্নভাবে প্রতিবাদ ও জনমত গঠন করে। কঠিন সেই সময়ে তাঁরা যে ভূমিকা রেখেছেন নিঃসন্দেহে তা অবিস্মরণীয়। তেমনি একজন ‘সাহসী যোদ্ধা’ ছিলেন সাইমন ড্রিং।

জাগরণ/এসকে