• ঢাকা
  • শনিবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২১, ৮ কার্তিক ১৪২৮
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২১, ০৮:০৪ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২১, ০২:০৪ পিএম

অঙ্গচ্ছেদ-মৃত্যুদণ্ডের বিধান ফিরছে আফগানিস্তানে

অঙ্গচ্ছেদ-মৃত্যুদণ্ডের বিধান ফিরছে আফগানিস্তানে
তালেবান নেতা নূরুদ্দিন তুরাবি। ছবি- সংগৃহিত

গত শতকের নব্বইয়ের দশকে অঙ্গচ্ছেদ, মাথায় গুলি করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার মতো যেসব কঠোর শাস্তির প্রচলন করেছিল তৎকালীন তালেবানগোষ্ঠী, সেসব শাস্তি ও প্রথা ফের ফিরে আসছে দেশটিতে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বার্তাসংস্থা এপিকে (অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস) সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই তথ্য জানিয়েছেন দেশটির সাবেক তালেবান সরকারের বিচার ও ধর্মীয় পুলিশ বিষয়ক মন্ত্রী এবং ক্ষমতাসীন তালেবান বাহিনীর অন্যতম শীর্ষ নেতা মোল্লা নূরুদ্দিন তুরাবি।

সাক্ষাৎকারে মোল্লা তুরাবি বলেন, আগে আমরা যখন স্টেডিয়ামে শাস্তি (অঙ্গছেদন) বা মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতাম তখন বাইরের বিভিন্ন দেশ আমাদের আইন ও দণ্ডবিধির সমালোচনা করেছে। আমরা কিন্তু কখনও তাদের আইন ও দণ্ডবিধি নিয়ে কোনো কথা বলিনি। আমাদের আইন ও দণ্ডবিধি কেমন হবে- তা অন্য কাউকে শিখিয়ে দিতে হবে না। আমরা ইসলামকে অনুসরণ করব এবং আমাদের আইন হবে কোরআনভিত্তিক।

গত ১৫ আগস্ট আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল দখলের পর থেকেই বিশ্ববাসী ও দেশটির সাধারণ জনগণ উৎকণ্ঠায় ছিলেন আফগানিস্তানে ফের সেসব কঠোর নীতি ফিরে আসবে কি না, যেসব কার্যকর ছিল ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত।

ওই সময় চুরির অপরাধে স্টেডিয়াম বা ঈদগাহ ময়দানের মতো কোনো খোলা স্থানে শত শত মানুষের সামনে অপরাধীর হাত কেটে ফেলা হতো। ডাকাতির অপরাধে কেউ অপরাধী সাব্যস্ত হলে প্রকাশ্যে কেটে ফেলা হতো তার একটি হাত এবং একটি পা।

এছাড়া কারো বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রকাশ্যে তার মাথায় গুলি করে হত্যা করা হতো এবং সেই গুলির খরচবাবদ অর্থ দিতে হতো অপরাধীর পরিবারের সদস্যদের। অবশ্য এক্ষেত্রে অপরাধীর পরিবার যদি নিহতদের পরিবারের সদস্যদের আর্থিক ক্ষতিপূরণ বা ‘রক্তপণ’ দিতে সম্মত হতো সেক্ষেত্রে সেই অপরাধীর মুক্তি পাওয়ার সুযোগ ছিল।

সেসময় অধিকাংশ বিচার প্রক্রিয়া চলত গোপনে, রুদ্ধদ্বার কক্ষে। বিচারকাজ পরিচালনা করতেন তালেবান ইসলামি পণ্ডিতরা । এই পণ্ডিতদের বেশিরভাগের জ্ঞান অবশ্য ধর্মীয় শরিয়া বিধির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। আন্তর্জাতিক আইন সম্পর্কে তারা বিশেষ কিছু জানতেন না।

এপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তুরাবি বলেন, তালেবানদের বর্তমান শাসনামলেও আগের পদ্ধতিই অনুসরণ করা হবে; তবে এক্ষেত্রে কিছু সংশোধনের ব্যাপারে চিন্তা করছে তালেবান বাহিনী। যেমন- আগে বিচারকরা ছিলেন সবাই পুরুষ। চলতি শাসনামলে নারীদেরও এই পদে কাজ করার সুযোগ থাকবে। কিন্তু সব বিচারককে অপরাধের বিচার ও শাস্তি প্রদান করতে হবে শরিয়া আইনের রীতি ও মূল্যবোধ অনুযায়ী।

এপির সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তুরাবি স্বীকার করেন, আফগানিস্তানের বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জনগণের মধ্যে তালেবান নীতি নিয়ে উদ্বেগ কাজ করছে। তবে কঠোর শাস্তি প্রচলনের পক্ষে যুক্তিও তুলে ধরেন তিনি।

তিনি বলেন, আমরা জানি, আমাদের কিছু নীতি নিয়ে বিশ্ববাসীর মধ্যে উদ্বেগ কাজ করছে, যেমন অপরাধীদের হাত-পা কেটে ফেলার ব্যাপারটি; কিন্তু আমাদের বুঝতে হবে এটি প্রয়োজন এবং আফগানিস্তানের সাধারণ জনগণের দাবি। মনে করুন, আপনি যদি কোনো অপরাধের শাস্তি হিসেবে কোনো ব্যক্তির হাত কাটেন, সেক্ষেত্রে এটি একটি উদাহারণ হয়ে থাকবে এবং ওই ব্যক্তির মধ্যে আর কখনও একই অপরাধ করার সক্ষমতা থাকবে না। তাছাড়া এটি একটি উদাহারণ হয়ে থাকবে। দেশের জনগণ এখন দুর্নীতিগ্রস্ত, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষের মতো অপরাধের সঙ্গে যুক্ত। তাই হাত কাটা জননিরাপত্তাগত বিবেচনায় খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

গত ১০ সেপ্টেম্বর কাবুলে তালেবান বিরোধী বিক্ষোভে ৪ জনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তাছাড়া তালেবান বাহিনীর বিরুদ্ধে সাংবাদিক ও নাগরিক ও মানবাধিকারকর্মীদের নির্যাতনের ভুরি ভুরি প্রমাণ রয়েছে।

সাক্ষাৎকারে এসব বিষয়ে তুরাবিকে প্রশ্ন করা হয়েছিল; কিন্তু সেসবের কোনো উত্তর না দিয়ে তিনি বলেছেন,আমরা আফগানিস্তানে শান্তি ফিরিয়ে আনব। একবার যদি আমরা আমাদের নিয়ম চালু করা শুরু করি, কেউ তা ভাঙ্গার সাহস করবে না।

এসকে