• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২৭ মে, ২০২২, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
প্রকাশিত: নভেম্বর ১৭, ২০২১, ০৩:৫০ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : নভেম্বর ১৭, ২০২১, ০৩:৫৩ পিএম

ইথিওপিয়ায় জরুরি অবস্থায় আটক অন্তত ১০০০

ইথিওপিয়ায় জরুরি অবস্থায়  আটক অন্তত ১০০০
ছবি-সংগৃহীত ।

পূর্ব আফ্রিকার দেশ ইথিওপিয়ায় জরুরি অবস্থা জারির পর থেকে কমপক্ষে এক হাজার মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দুই সপ্তাহ আগে জরুরি অবস্থা জারির পর দেশটির বিভিন্ন শহর থেকে এসব মানুষকে আটক করা হয়। আটককৃতদের বেশিরভাগই জাতিগতভাবে তাইগ্রে সম্প্রদায়ের মানুষ।

মঙ্গলবার (১৬ নভেম্বর) জাতিসংঘ এই তথ্য সামনে এনেছে বলে এক বুধবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।

মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কমিশনার জানান, ‘গত এক সপ্তাহে বা তারও আগে ইথিওপিয়ায় কমপক্ষে এক হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে। অবশ্য বেশ কিছু রিপোর্টে আটককৃত মানুষের সংখ্যা আরও বেশি বলে জানানো হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে- আটককৃতদের বেশিরভাগই তাইগ্রে অঞ্চলের মানুষ।

জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ‘ইথিওপিয়ায় নির্বিচারে আটক ও বন্দি করার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তেনিও গুতেরেস। এই ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে দেশটির বিবদমান পক্ষগুলোর মধ্যে বিভক্তি ও উত্তেজনা আরও বাড়বে।’

গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কার্যত যুদ্ধক্ষেত্র হয়ে আছে ইথিওপিয়া। তাইগ্রের বিচ্ছিন্নতাবাদী বাহিনী তাইগ্রে পিপলস লিবারেশন ফ্রন্টের (টিপিএলএফ) সঙ্গে লাগাতার লড়াই হয়েছে ইথিওপিয়ার সেনাবাহিনীর। তাইগ্রে আগেই দখল করে নিয়েছিল টিপিএলএফ। এখন তারা ইথিওপিয়ার রাজধানীর কাছে পৌঁছে গেছে। যার কারণে ইথিওপিয়াজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে সরকার।

জাতিসংঘের প্রকাশিত রিপোর্টে বলা হয়েছে, কোনো কারণ না দেখিয়ে তাইগ্রে অঞ্চলের হাজারেরও বেশি মানুষকে আটকের পাশাপাশি জাতিসংঘের ৩৫ জন স্থানীয় কর্মীকেও আটক করা হয়েছে। এমনকি আটক করা হয়েছে জাতিসংঘে কাজ করা একাধিক গাড়ি চালককে। কেন তাদের আটক করা হয়েছে, তা বলা হয়নি।

ইথিওপিয়ার আইন অনুযায়ী, যতদিন জরুরি অবস্থা থাকবে, ততদিন কোনো কারণ না দেখিয়ে যে কাউকে কারাগারে আটক রাখা যাবে। সমস্যা এখানেই শেষ নয়। তাইগ্রেতে কার্যত অর্থনৈতিক সংকট তৈরি করা হয়েছে। ফলে অনাহারে মানুষের মৃত্যু হচ্ছে।

জাতিসংঘের রিপোর্ট অনুযায়ী, তাইগ্রের হাসপাতালে অন্তত দেড়শ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সকলেরই বয়স পাঁচ বছরের কম। অনাহারে আরও বহু শিশু হাসপাতালে ভর্তি। গত কয়েকদিনে দেড়শর অনেক বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলেও।

টিপিএলএফের সদস্যদের রাজধানী আদ্দিস আবাবা দখলের হুমকির পর গত ২ নভেম্বর দেশটিতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। একই সঙ্গে আদালতের আদেশ ছাড়াই টিপিএলএফের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যে কাউকে গ্রেফতারে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীকে অনুমতি দেওয়া হয়। চলতি বছরের শুরুর দিকে টিপিএলএফকে দেশটির পার্লামেন্ট সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে ঘোষণা দেয়।

এসকেএইচ//