• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২২, ৫ মাঘ ১৪২৮
প্রকাশিত: নভেম্বর ২৭, ২০২১, ১১:০০ এএম
সর্বশেষ আপডেট : নভেম্বর ২৭, ২০২১, ০৫:০০ এএম

বিশ্বজুড়ে নয়া আতঙ্ক করোনার নতুন ধরন ‘ওমিক্রন’

বিশ্বজুড়ে নয়া আতঙ্ক করোনার নতুন ধরন ‘ওমিক্রন’

দক্ষিণ আফ্রিকায় করোনাভাইরাসের একটি নতুন ধরন ‘ওমিক্রন’শনাক্ত হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে নতুন আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ বিধিনিষেধ আবারো জারি করা শুরু করছে। নতুন এই ধরন বা ভ্যারিয়্যান্টের সংক্রমণের মাত্রাকে ‘উদ্বেগজনক’আখ্যা দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে এ কথা জানানো হয়েছে।

বিশ্বে করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ইতোমধ্যে ৫১ লাখ হাজার ছাড়িয়েছে। আর শনাক্ত হয়েছে ২৬ কোটির বেশি রোগী।

ডব্লিউএইচও বলছে, করোনার ওমিক্রন ভ্যারিয়্যান্টে এরই মধ্যে ব্যাপক রূপান্তর (মিউটেশন) ঘটেছে এবং প্রাথমিক তথ্যপ্রমাণ দেখে মনে হচ্ছে—এ ভ্যারিয়্যান্টে পুনরায় সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি। সময়ের ব্যবধানে নভেল করোনাভাইরাসের পরিবর্তন বা রূপান্তর অস্বাভাবিক নয়। তবে, করোনার একটি ভ্যারিয়্যান্ট যখন ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে বা টিকার কার্যকারিতাকে ব্যাহত করে, তখন তাকে ‘ভ্যারিয়্যান্ট অব কনসার্ন’, অর্থাৎ এর সংক্রমণের মাত্রাকে ‘উদ্বেগজনক’ ঘোষণা করে ডব্লিউএইচও।

গবেষকরা করোনাভাইরাসের এই নতুন ভ্যারিয়েন্টকে চিহ্নিত করছেন বি.১.১.৫২৯ নামে। তবে আলোচনার সুবিধার জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এর নাম দিয়েছে ‘ওমিক্রন’

বলা হচ্ছে, চীনের উহানে আবির্ভূত হওয়ার পর নতুন এই করোনাভাইরাসের যতগুলো ধরন এখন পর্যন্ত শনাক্ত হয়েছে, তার মধ্যে ওমিক্রনেই জিন বিন্যাসে পরিবর্তন এসেছে সবচেয়ে বেশি।

নতুন ধরনটি নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য আফ্রিকার কয়েকটি দেশের যাত্রীদের ভ্রমণে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে শুক্রবার। অবশ্য এমন উদ্যোগকে ‘তড়িঘড়ি’ আখ্যায়িত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

গত বুধবার দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম ‘ওমিক্রন’ ভ্যারিয়্যান্টের সংক্রমণের বিষয়টি ডব্লিউএইচও’র নজরে আসে। এরই মধ্যে বতসোয়ানা, বেলজিয়াম, হংকং ও ইসরায়েলে এর সংক্রমণ ধরা পড়েছে।

ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ডের জীববিজ্ঞানী অধ্যাপক জেমস নেইস্মিথ বিবিসিকে বলেছেন, ‘এটা দুঃখজনক খবর, কিন্তু তার মানে এই নয় যে—পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে।’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ড. অ্যান্থনি ফসি সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে বলেন, ‘নতুন ভ্যারিয়্যান্টের সতর্ক সংকেত এসেছে, কিন্তু টিকা এখনও হয়তো মারাত্মক অসুস্থতা প্রতিরোধে কাজ করতে সক্ষম।’

ড. ফাউচি বলেন, ‘সঠিকভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে ভাইরাসের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিতে আপনার শরীরে যেসব অ্যান্টিবডি রয়েছে, এ ভ্যারিয়্যান্ট সেই বুহ্য ভেদ করতে সক্ষম কি না, তা (এখনই) আমরা জানতে পারছি না।’

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অবশ্য বলছে, করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ‘ওমিক্রন’ কতোটা প্রভাব ফেলতে পারে সেটা বুঝতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগবে।