• ঢাকা
  • সোমবার, ২৩ মে, ২০২২, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৫, ২০২২, ০৪:১৫ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : জানুয়ারি ১৫, ২০২২, ১০:১৫ এএম

টিকা না নিলে চাকরি খোয়ানোর ঝুঁকি আছে

টিকা না নিলে চাকরি খোয়ানোর ঝুঁকি আছে

সিঙ্গাপুরে বিভিন্ন খাতে কর্মরত যেসব কর্মী এখনও টিকার কোনো ডোজ নেননি, তারা সবাই চাকরি খোয়ানোর ঝুঁকিতে আছেন। টিকাদানের আওতা বাড়াতে দেশটির সরকার সম্প্রতি যে নীতি নিয়েছে, তার ফলেই এই ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

শনিবার এক প্রতিবেদনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, এতদিন সিঙ্গাপুরে যেসব কর্মী করোনা টেস্টে নেগেটিভ হিসেবে শনাক্ত হতেন, তাদেরকে টিকা নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হতো না; কিন্তু শুক্রবার এই নীতিতে পরিবর্তন এনেছে দেশটির সরকার।

করোনা প্রতিরোধে মহামারি প্রতিরোধে সিঙ্গাপুর সরকারের গঠিত উপদেষ্টা পর্ষদের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে শুক্রবার বলা হয়, যেসব কর্মী এখন পর্যন্ত করোনা টিকার কোনো ডোজ নেননি, তাদের কর্মস্থলে আসতে বাধা দেওয়া হবে এবং বাড়িতে থেকে কাজ করতে বলা হবে। অফিসের বাইরে থেকে যদি তারা কাজ করতে না পারেন, সেক্ষেত্রে তাদের চাকরিচ্যুত করা হবে।

তবে স্বাস্থ্যগত কারণে যেসব কর্মী টিকা নিতে পারছেন না, তাদের ছাড় দেওয়া হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে বিবৃতিতে। তেমনি অফিসের বাইরে থেকে যারা কাজ করতে পারবেন, তাদের কাজের মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও টিকা নিয়েছেন না-কি নেননি; তা বিবেচনা করা হবে।

শনিবার (১৫ জানুয়ারি) থেকে দেশজুড়ে এই নীতি কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছেন সরকারি কর্মকর্তারা।

বিশ্বের যেসব দেশ এ পর্যন্ত সবচেয়ে সফলভাবে টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করেছে, সেসবের মধ্যে অন্যতম সিঙ্গপুরে মোট জনসংখ্যার ৮৭ শতাংশই টিকার দুই ডোজ সম্পূর্ণ করেছেন; আর টিকার তৃতীয় বা বুস্টার ডোজ নিয়েছেন দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক।

মহামারির শুরু থেকে প্রায় দুই বছর কঠোর করোনা বিধিনিষেধ ও টিকাদান কর্মসূচির সাফল্যের কারণে করোনা পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে ছিল সিঙ্গাপুরে। কিন্তু ২০২১ সালের নভেম্বরের শেষ দিকে ওমিক্রনের আবির্ভাবের পর থেকে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো সিঙ্গাপুরেও বাড়ছে করোনা পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত হওয়াদের হার। সেই সঙ্গে হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে গুরুতর অসুস্থ রোগীর চাপও।

সিঙ্গাপুরের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পার্লামেন্টারি সচিব রাহায়উ মাহজাম ব্লুমবার্গকে বলেন, ‘আমাদের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী, সিঙ্গাপুরে এখনও টিকার কোনো ডোজ নেননি; এমন মানুষের সংখ্যা অন্তত ৪৮ হাজার। যদি তাদের অর্ধেকও করোনায় আক্রান্ত হন, সেক্ষেত্রে দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় যে চাপ সৃষ্টি হবে তা সামলাতে সরকার হিমসিম খেয়ে যাবে।’

‘আমরা দেশের সব মানুষকে টিকার আওতায় আনতে চাই এবং তার অংশ হিসেবেই শুক্রবার সরকারি পর্যায়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

ইউএম