• ঢাকা
  • সোমবার, ১৫ আগস্ট, ২০২২, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৯
প্রকাশিত: এপ্রিল ২৩, ২০২২, ১২:১৯ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : এপ্রিল ২৩, ২০২২, ০৬:১৯ এএম

ইউক্রেন ইস্যু

দক্ষিণ ইউক্রেনও দখলে নিতে চায় মস্কো

দক্ষিণ ইউক্রেনও দখলে নিতে চায় মস্কো
সংগৃহীত

সম্প্রতি ইউক্রেনে হামলার লক্ষ্য সম্পর্কে খোলাখুলি কথা বলেছেন রাশিয়ার জেষ্ঠ্য মেজর জেনারেল রুস্তম মিনেকায়েভ। এতেই নড়েচড়ে বসেছে মলদোভা। জানিয়েছে নিজের উদ্বেগের কথা।

এ উদ্বেগ থেকে ইতোমধ্যে দেশটিতে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়েছে। খবর বিবিসির।
 
রুশ কমান্ডারের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মলদোভার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে তলব করা হয়েছে দেশটিতে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূতকে।

দেশটি বলছে, মলদোভা একটি নিরপেক্ষ রাষ্ট্র। এ নীতির প্রতি ‘অবশ্যই রুশ ফেডারেশনসহ আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোকে সম্মান দেখাতে হবে’।

এদিকে রুশ কমান্ডারের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, আমি এর আগে অসংখ্যবার বিষয়টি বলেছি— রাশিয়া অন্য দেশও দখল করতে চায়। ইউক্রেনে হামলা সে লক্ষ্যপূরণে চেষ্টার শুরু মাত্র।

তিনি আরও বলেন, রাশিয়ান ফেডারেশনের এ লক্ষ্য ভণ্ডুল করার মাধ্যমে আমাদের রক্ষা করতে যতদিনই লাগুক আমরা লড়াই চালিয়ে যাব। আমাদের মতো যে সব দেশ মৃত্যুর ওপর জীবনের জয়ে বিশ্বাসী তাদের অবশ্যই আমাদের সঙ্গে লড়তে হবে। তাই তাদের আমাদের সহযোগিতা করা উচিত। কেননা, এ পথে আমরা প্রথম। এর পরের লক্ষ্য কে?

জেলেনস্কি বলেন, যারা পরবর্তী লক্ষ্য, এমন কেউ যদি কিছু না হারানোর আশায় এখন নিরপেক্ষ থাকার চেষ্টা করে, তবে তা হবে ঝুঁকিপূর্ণ বাজি। কেননা, দেখা যাবে আপনি সবই হারাবেন।

এর আগে রাশিয়ার জেষ্ঠ্য কমান্ডার মেজর জেনারেল রুস্তম মিনেকায়েভ বলেন, ইউক্রেনের দোনবাস ও দক্ষিণাঞ্চল পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিতে চাই আমরা। এর মাধ্যমে ক্রিমিয়ার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ তৈরি হবে, যা ২০১৪ সালে দখল করা হয়েছিল। 

এ লক্ষ্যে সফল হলে এর মাধ্যমে মলদোভায় রুশপন্থি বিচ্ছিন্নতাবাদী অধ্যুষিত অঞ্চল ট্রান্সনিস্ট্রিয়া অঞ্চলে প্রবেশাধিকার পেয়ে যাবে মস্কো। আর এ কারণেই মূলত উদ্বিগ্ন মলদোভা।

২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে আগ্রাসন শুরু করে রাশিয়া। এর পর বলতে গেলে ইউক্রেনজুড়ে হামলা চালানো হয়। হুট করে পরিকল্পনা বদল করে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলকে লক্ষ্য বানানোর কথা জানায় মস্কো। 

এর পর মারিওপোলের প্রায় পুরো অংশ দখলে নেওয়ার দাবি করেন পুতিন। কিছু সেনা সে বন্দরনগরীর একটি কারখানায় আটকে থাকলেও সেখানে হামলার পরিকল্পনা বাতিল করে দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট। পক্ষান্তরে ওই এলাকা এমনভাবে অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন যেন একটি মাছিও পালাতে না পারে।

দোনবাস অঞ্চল দখলের পরিকল্পনা রাশিয়ার আগে থেকেই ছিল। এবার দক্ষিণ ইউক্রেন দখলের যে লক্ষ্যের কথা জেষ্ঠ্য রুশ কমান্ডার জানালেন এতে মনে হচ্ছে, রাশিয়া এত সহজে ইউক্রেনে যুদ্ধ শেষ করতে চাইছে না।