• ঢাকা
  • বুধবার, ২২ মে, ২০১৯, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬
Bongosoft Ltd.
প্রকাশিত: এপ্রিল ২৪, ২০১৯, ০২:০৪ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : এপ্রিল ২৪, ২০১৯, ০৮:০৯ পিএম

‘দেশ এগিয়ে নিতে কৃষি অর্থনীতি ও শিল্প-কারখানার গুরুত্ব জরুরি’

জাগরণ প্রতিবেদক
‘দেশ এগিয়ে নিতে কৃষি অর্থনীতি ও শিল্প-কারখানার গুরুত্ব জরুরি’

জনসেবা এবং সমাজ কল্যাণে স্বাধীনতা পুরস্কার অর্জন করেছেন দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জামান আহমদ। দৈনিক জাগরণের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেছেন, ‘আমি নিজের মতো করে কাজ করছি। পুরস্কারের আশায় আমি কাজ করিনি। 

তা সত্বেও যে কোনো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে খুশি করে। আমিও খুশি হয়েছি। এই পুরস্কারপ্রাপ্তির ফলে আমার দায়িত্ব আগের চেয়ে অনেকটাই বেড়ে গেছে বলে আমি মনে করি। রাষ্ট্রীয় পুরস্কার না পেলেও আমি আমার দায়িত্ব পালন করতাম। তবে এই পুরস্কার প্রাপ্তি আমাকে নিশ্চিতভাবেই উৎসাহিত করেছে। তিনি বিশ্বাস করেন, দেশ এগিয়ে নিতে হলে কৃষি নির্ভর অর্থনীতি এবং শিল্প-কারখানা গড়ে তোলায় সমানভাবে গুরুত্ব দিতে হবে।’ 

ড. কাজী খলীকুজ্জামানের কাছে জাগরণের প্রশ্ন ছিলো- আপনি তো সম্প্রতি জনসেবা এবং সমাজ কল্যাণে স্বাধীনতা পুরস্কার অর্জন করেছেন। একজন  খ্যাতিমান অর্থনীতিবিদ হিসেবে সমাজ কল্যাণে রাষ্ট্রীয় পুরস্কার প্রাপ্তিকে আপনি কিভাবে দেখছেন এবং এই পুরস্কার প্রাপ্তির অনুভূতি কেমন?

ড.কাজী খলীকুজ্জমান : আমি অনেক দিন ধরেই অর্থনীতি নিয়ে কাজ করছি। একই সঙ্গে আমি সমাজ সেবা নিয়েও কাজ করছি। বিশেষ করে সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠির অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি। দরিদ্র মানুষের অর্থনৈতিক অগ্রগতি কীভাবে সাধিত হতে পারে, তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন কিভাবে সাধন করা যায় তা নিয়ে আমি অনেক দিন ধরেই কাজ করছি বিভিন্ন ফোরামের মাধ্যমে।

 আমি দরিদ্র মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য লেখালেখি করেছি। তাদের ভাগ্যোন্নয়নে বাস্তবধর্মী কাজও করছি। বিশেষ করে পল্লি কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশন আমাকে দরিদ্র মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করার সুযোগ এনে দিয়েছে। আমি সেই সুযোগ পুরো মাত্রায় কাজে লাগানোর চেষ্টা করছি। এ ছাড়া আমার ছেলে আমার নামে একটি ফাউন্ডেশন (কিউকে আহমেদ ফাউন্ডেশন) গড়ে তুলেছে। সেই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমেও আমরা দরিদ্র মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে কাজ করে চলেছি। বিশেষ করে আমরা ছোট বাচ্চাদের পুষ্টি চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে।

 

 আমরা পল্লি কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশন থেকে দরিদ্র মানুষের কল্যাণে ব্যাপকভাবে কাজ করা হচ্ছে। বিশেষ করে যারা অতি দরিদ্র জনগোষ্ঠি আমরা তাদের নিয়ে কাজ করছি। আমরা ১৬টি গোষ্ঠিকে চিহ্নিত করেছি,যাদের প্রায় সবাই অতি দরিদ্র জনগোষ্ঠির আওতাভুক্ত। এদের প্রত্যেক গোষ্ঠির সমস্যা আলাদা আলাদা। 

এক গোষ্ঠির সমস্যার সঙ্গে অন্য গোষ্ঠির সমস্যার তেমন কোনো মিল নেই। এদের মধ্যে রয়েছে দলিত এবং পরিচ্ছনতা কর্মী, নারী কৃষি শ্রমিক,পাহাড়ি আদিবাসী মানুষ আছে,হাওড়ের দরিদ্র মানুষ আছে,উপকূলের মানুষ আছে। এছাড়াও প্রতিবন্ধী আছে। হিজড়া,ভিক্ষুক জনগোষ্ঠি আছে। এমন ধরনের ১৬টি দরিদ্র শ্রেণিকে নিয়ে আমরা কাজ করছি। এই যে ১৬টি জনগোষ্ঠি এদের সবার সমস্যা কিন্তু এক রকম নয়। প্রত্যেকের সমস্যার ভিন্নতা রয়েছে। আমরা সেই সমস্যাগুলোকে চিহ্নিত করে সমাধানের চেষ্টা করছি। 
কাজেই এদের উন্নয়নের জন্য আমাদেরকে আলাদা আলাদা পরিকল্পনা নিতে হয়। অনেকগুলো কর্মসূচি ইতোমধ্যেই বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। কোনো কোনো পরিকল্পনা অচিরেই বাস্তবায়ন শুরু হবে। গত কয়েক বছর ধরেই এই কাজগুলো আমরা করছি। কাজেই সমাজ সেবা এবং জনসেবায় আমাকে সর্বোচ্চ বেসরকারি পদক স্বাধীনতা পুরস্কার দেয়ায় আমি খুশিই হয়েছি। আমি অর্থনীতিবিদ হলেও এসব কাজ আমার কর্মপরিধির বাইরে নয়। 

দৈনিক জাগরণ: এই পুরস্কারপ্রাপ্তির পর আপনার দায়িত্ব কি বেড়ে গেছে?

ড.কাজী খলীকুজ্জমান : আমি নিজের মতো করে কাজ করছি। পুরস্কারের আশায় আমি কাজ করিনি। তা সত্বেও যে কোনো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে খুশি করে। আমিও খুশি হয়েছি। এই পুরস্কারপ্রাপ্তির ফলে আমরা দায়িত্ব আগের চেয়ে অনেকটাই বেড়ে গেছে বলে আমি মনে করি। রাষ্ট্রীয় পুরস্কার না পেলেও আমি আমার দায়িত্ব পালন করতাম। তবে এই পুরস্কার প্রাপ্তি আমাকে নিশ্চিতভাবেই উৎসাহিত করেছে।

 আমার দায়িত্ব আগের চেয়ে অনেকটাই বেড়ে গেছে। এখন মনে হচ্ছে আমাকে কাজগুলো করতে হবে আগের চেয়ে আরো আন্তরিকতার সঙ্গে। আমি সমাজ সেবা ও জনকল্যাণে যেসব কাজ করছিলাম তা আগামীতে আরো বৃদ্ধি পাবে এবং আরো সুচারুভাবে সম্পন্ন করার চেষ্টা করবো। পাশাপাশি আমার লেখালেখিও চলবে। কারণ লেখার মাধ্যমে মানুষকে উৎসাহী করে তোলা যায়। আমি মনে করি, সামাজিক পরিবর্তনের জন্য লেখালেখি খুবই জরুরি একটি কাজ। আমি যে শুধু পল্লি কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে জনকল্যাণে কাজ করছি তা নয়।

 আরো অনেকগুলো সংস্থার সঙ্গে জাতীয় পর্যায়ে আমি যুক্ত আছি,যাদের মাধ্যমে জনকল্যাণে কাজ করা সম্ভব। আমি জাতীয় প্রবীণ মঞ্চেরও সভাপতি। কৃষি শ্রমিক অধিকার মঞ্চেরও আমি সভাপতি। কাজেই এসব সংস্থার মাধ্যমে আমি জনকল্যাণে কাজ করে চলেছি। আমরা চেষ্টা করি মানুষের সাংবিধানিক অধিকারগুলো প্রতিষ্ঠা করার জন্য। সরকারের যে সব অঙ্গিকার আছে তার মধ্যে কোথায় কোথায় ঘাটতি আছে আমরা সেই ঘাটতি পূরণ করার চেষ্টা করি। অথবা সরকারের নিকট আমরা সুপারিশ বা দাবি করি এগুলো পূরণ করার জন্য। 

দৈনিক জাগরণ: দেশের বিভিন্ন স্থানে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের কাজ চলছে। আপনি এই কার্যক্রম প্রণয়নের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো বাস্তবায়ন বর্তমানে কোন্ পর্যায়ে রয়েছে?

ড.কাজী খলীকুজ্জমান : দেশের বিভিন্ন স্থানে যে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠান উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এটা একটি বিশাল কর্মযজ্ঞ। ইতোমধ্যেই বেশ কিছু বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের কাজ এগিয়ে চলেছে। আমি মূল্যায়ন কমিটির চেয়ারম্যান হিসবে ১০০ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। মূল্যায়ন কমিটির পক্ষ থেকে আমরা অনেকগুলো বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল মূল্যায়ন করে দিয়েছি। 

এসব প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাজ এগিয়ে চলেছে। অবশিষ্ট প্রকল্পগুলোর কাজও অচিরেই বাস্তবায়ন শুরু হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে,বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল বাস্তবায়নের কাজটি বেশ কঠিন এবং সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। কারণ প্রথমেই অবকাঠামো নির্মাণ করতে হয়। তারপর বিনিয়োগকারিরা সেখানে বিনিয়োগের জন্য আসেন। বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের জন্য উদ্যোক্তাদের মাঝে প্রচন্ড আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

 যেমন,সিলেটে অবকাঠামো নির্মাণ হবার আগেই বেশির ভাগ প্লট উদ্যোক্তারা বরাদ্দ নিয়ে নিয়েছেন। এটা আমাদের জন্য খুবই উৎসাহব্যাঞ্জক। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে প্রভুত উন্নতি সাধন করেছে। আমরা এখন টেকসই উন্নয়নের দিকে যাচ্ছি। এই অবস্থায় আমাদেরকে কৃষি নির্ভর অর্থনীতি থেকে শিল্পায়নের দিকে ধাবিত হতে হবে। 
দেশের বিভিন্ন স্থানে যে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করা হচ্ছে এই উদ্যোগ বাংলাদেশকে কৃষি নির্ভরতা কাটিয়ে শিল্পায়িত হবার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আমি মনে করি। বাংলাদেশে শিল্প-কারখানা স্থাপনের ক্ষেত্রে উপযুক্ত জমি প্রাপ্তি একটি বিরাট সমস্যা। এ ছাড়া রয়েছে অবকাঠামোগত অপ্রতুলতা। বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো স্থাপিত হলে জমি প্রাপ্তির ক্ষেত্রে যে সমস্যা রয়েছে তা অনেকটাই দূর হবে। 

একই সঙ্গে অবকাঠামোগত সমস্যা দূরীকরণ এবং ইউটিলিটি সার্ভিস পেতে সুবিধা হবে। ফলে উদ্যোক্তারা এখানে শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে উৎপাদন কার্য পরিচালনা করতে পারবে। বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো যেহেতু দেশের বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত হবে তাই এর মাধ্যমে সারা দেশে শিল্প-কারখানা ছড়িয়ে দেয়া সম্ভব হবে। দু’ধরনের মালিকানায় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপিত হচ্ছে।

 কিছু অর্থনৈতিক অঞ্চল সরকারি উদ্যোগে স্থাপিত হচ্ছে। আর কিছু অর্থনৈতিক অঞ্চল ব্যক্তি মালিকানায় স্থাপিত হচ্ছে। সরকারি মালিকানায় স্থাপিত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোই শুধু আমাদের নিকট আসে। ব্যক্তি মালিকানায় স্থাপিত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর বাস্তবায়নের অবস্থা সুনির্দিষ্টভাবে বলতে পারবো না। 

ব্যক্তি মালিকানাধীন বেশ কয়েকটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের অনুমতি প্রদান করা হয়েছে। শুনেছি সেগুলোর কাজ এগিয়ে চলেছে। আমি একজন অর্থনীতিবিদ হিসেবে খুবই আশাবাদি যে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে তা দেশের শিল্পায়ন তথা অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রাখবে। 

বিশেষ করে টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে এই উদ্যোগটি বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে। বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল বাস্তবায়িত হলে দেশের পল্লি এলাকায় দরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। কারণ এই অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর বেশির ভাগই দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্থাপিত হবে। বিশেষ করে তরুন প্রজন্মের কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে। তারা নিজ নিজ এলাকাতে অবস্থান করেই কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে। 

দৈনিক জাগরণ: বর্তমান সরকারের একটি অন্যতম নির্বাচনি অঙ্গিকার হচ্ছে আগামী ৫ বছরের মধ্যে দেশে ১ কোটি ২৮ লাখ মনুষের কর্মসংস্থান করা। বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো এই অঙ্গিকার বাস্তবায়নে কতটা ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করেন?

ড.কাজী খলীকুজ্জমান : সরকার আগামী ৫ বছরের মধ্যে দেশে ১ কোটি ২৮ লাখ নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে বদ্ধপরিকর। সরকার এই অঙ্গিকার বাস্তবায়নে যথেষ্ট আন্তরিক। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্থানে যে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপিত হচ্ছে এগুলোর প্রত্যেকটিতে প্রচুর সংখ্যক মানুষের প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

 সরকার আগামী ৫ বছরে নতুন প্রজন্মের কর্মসংস্থানের জন্য যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে তা পূরণে এই অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো বিশেষ ভূমিকা পালন করতে পারবে বলে আমি মনে করি। শুধু যে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে তাই নয়, এগুলো দেশে উদ্যোক্তা তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে। এই অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বিনিয়োগের মাধ্যমে অনেকেই নিজেদের নতুন উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ো তোলার সুযোগ পাবে।

 নতুন উদ্যোক্তা তৈরি এবং ব্যাপক ভিত্তিক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে সরকারের অন্যান্য প্রতিষ্ঠান যেমন,পল্লি কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশন, জয়িতা ইত্যাদির সহায়তা প্রয়োজন হবে। দেশে নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে সরকারের অনেকগুলো কর্মসূচি আছে। কাজেই আগামীতে দেশে নতুন নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি হবে বলেই আমি মনে করি। সরকারের এই উদ্যোগকে এখন আরো সুসংহতভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। 

উদ্যোক্তা তৈরি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের সমস্যা হচ্ছে দক্ষ জনবলের অভাব। আমাদের দেশে এখনো দক্ষ জনবলের প্রচন্ড অভাব রয়েছে। পুঁজির তো সমস্যা আছেই,সঙ্গে রয়েছে দক্ষ জনশক্তির অভাব। 

দৈনিক জাগরণ: ব্যক্তি উদ্যোগে যে সব বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপিত হচ্ছে সেখানে উদ্যোক্তারা জমি ক্রয়ের ক্ষেত্রে সমস্যায় পতিত হচ্ছেন বলে অনেকেই অভিযোগ করছেন। যেমন,হয়তো প্রকল্পের অওতাভুক্ত ২০জন জমির মালিক জমি বিক্রি করেছেন। কিন্তু ৪জন তাদের জমি বিক্রি করতে রাজি হচ্ছেন না। ফলে প্রকল্পটি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে না। এই সমস্যা সমাধানে কি করা প্রয়োজন বলে মনে করেন?

ড.কাজী খলীকুজ্জমান : ব্যক্তি মালিকানাধীন বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর বাস্তবায়ন অবস্থা কেমন সে কথা আমি সঠিকভাবে বলতে পারবো না। তবে ব্যক্তি মালিকানাধীন বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতো জমি নিশ্চিত হবার পরই অনুমোদন পাবার কথা। সরকারি উদ্যোগে যে সব বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠন করা হচ্ছে সেখানে তো সরকারি উদ্যোগে জমি অধিগ্রহণ করা হয়।

 কাজেই সেখানে কেমন কোনো সমস্যা হয় না। কিন্তু ব্যক্তি মালিকানাধীন বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর অবস্থা এ ক্ষেত্রে কেমন তা আমি নিশ্চিত করে বলতে পারবো না। সরকারি উদ্যোগে স্থাপিত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের ক্ষেত্রে জমি অধিগ্রহণে কোনো সমস্যা হয় না। তবে সে ক্ষেত্রেও চেষ্টা করা হয় যাতে কোনো কৃষি জমি নষ্ট না হয়। সাধারণত সরকারি খাস বা পরিত্যক্ত জমি এবং কৃষি কাজের জন্য তেমন একটা উপযোগি নয় এমন জমিতেই বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করা হচ্ছে। অর্থাৎ এমনভাবে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো স্থাপন করা হচ্ছে যাতে কৃষি জমি সংকুচিত না হয়। 

দৈনিক জাগরণ:  সরকার শহরের সুবিধা গ্রামে নিয়ে যেতে চাচ্ছেন বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো এ ক্ষেত্রে কতটা সহায়তা করবে বলে মনে করেন?

ড.কাজী খলীকুজ্জমান : সরকারের নির্বাচনি ইস্তেহারে বলা হয়েছে,‘আমার গ্রাম আমার শহর।’ এই বিষয়টি একটু পরিস্কার করা প্রয়োজন। অনেকেই এই পরিকল্পনা নিয়ে ভুল ধারনা করছেন। তারা মনে করেন,সরকার গ্রামীণ স্নিগ্ধ পরিবেশ নষ্ট করে ফেলবে। গ্রামকেও শহরের মতো কংক্রিটে পরিণত করবে। আসলে বিষয়টি তেমন কিছু নয়। গ্রাম তার আগের মতো স্নিগ্ধ পরিবেশ নিয়েই থাকবে।

 শুধু শহরে পাওয়া যায় এমন সব সুবিধা যাতে গ্রামের মানুষও পেতে পারে তার ব্যবস্থা করা হবে। শহরের সুবিধা গ্রামে নিয়ে যাবার সরকারি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো সহায়তা করবে। কারণ কোনো একটি এলাকায় শিল্প-কারখানা গড়ে উঠলে তার আশে পাশে বিভিন্ন ধরনের অর্থনৈতিক কর্মকান্ড শুরু হবে। শহরের অনেক সুবিধা তখন গ্রামেও সঞ্চারিত হবে। 

আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ধরনের সুবিধা তখন গ্রামে বসেই পাওয়া যাবে। ফলে সেখানে ব্যাপক মাত্রায় নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। নানা ধরনের চাহিদা সৃষ্টি হবে সেই চাহিদা পূরণের জন্য নতুন নতুন কর্ম সৃজন হবে। একই সঙ্গে এখানে পর্যটন শিল্প বিকশিত হতে পারে। তবে পর্যটন শিল্পের বিকাশের ব্যাপারে আমার নিজস্ব ধারনা রয়েছে। যেনোতেনোভাবে পর্যটন শিল্পের বিকাশ হলে হবে না। পর্যটন শিল্প হতে পরিবেশ সহায়ক অর্থাৎ ইকো-ট্যুরিজম গড়ে তুলতে হবে। পরিবেশ যাতে বিপন্ন না হয় সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। 

দৈনিক জাগরণ: যে কোনো জাতীয় নির্বাচনের পর বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এক ধরনের গতিশীলতা লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু এবার তার ব্যতিক্রম লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এটা কেনো হচ্ছে এবং এ থেকে উত্তরণের উপায় কি?

ড.কাজী খলীকুজ্জমান : নিকট অতীতে আমরা লক্ষ্য করেছি,জাতীয় নির্বাচনের পর সাধারণত যেভাবে বিনিয়োগ চাঙ্গা হবার কথা তা হচ্ছে না। এর একটি কারণ হতে পারে বিরোধী দল নির্বাচনে তেমন একটা ভালো রেজাল্ট না করতে পারেনি। বিরোধী দল থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিন হয়েছেন মাত্র কয়েক জন। তারা আবার সংসদে যাচ্ছেন না। ফলে রাজনীতিতে এক ধরনের অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। 

এমন কি যখন সব রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নিয়েছে তখনও রাজনীতিতে অনিশ্চয়তা থেকে গেছে। এটা আমাদের একটি দুর্বলতা। কার্পেটের নিচে এক ধরনের অনিশ্চয়তা সব সময়ই থেকে যাচ্ছে। কখন কি হয় এমন একটি অবস্থা বিরাজ করছে আমাদের রাজনীতিতে। ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর থেকে বিগত কয়েক বছর রাজনৈতিক অঙ্গনে স্থিতিশীলতা বজায় ছিল কিন্তু তারপরও এক ধরনের ভীতি থেকেই গেছে। এই না জানি কি হয়। 

এই অবস্থা এখনো বিদ্যমান রয়েছে। এই অবস্থা দূর করার জন্য প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলকে আরো সচেতন হতে হবে। আমাদের বিভিন্ন ইস্যুতে বিরোধিতা থাকতেই পারে। কিন্তু জাতীয় স্বার্থে সবাইকে এক হয়ে কাজ করতে হবে। আমার যদি জাতীয় স্বার্থকে দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে স্থান দিতে না পারি তাহলে এই অনিশ্চয়তা থাকবেই। 

দৈনিক জাগরণ: দেশের ব্যাংকিং সেক্টরে বেশ কিছু দিন ধরে এক ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে। বিশেষ নতুন অর্থমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণের পর এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন,আজ থেকে আর খেলাপি ঋণ বাড়বে না। তারপর থেকেই ব্যাংকগুলো নানাভাবে কৃত্রিম উপায়ে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা করছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এবং অর্থমন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ বিদ্যমান আইনের সংস্কার সাধন করে কৃত্রিমভাবে খেলাপি ঋণ কমিয়ে দেখানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এতে ব্যাংকিং সেক্টরের ভবিষ্যত কেমন হবে বলে মনে করেন?

ড.কাজী খলীকুজ্জমান : ব্যাংকিং সেক্টরের পাশাপাশি আমাদেরকে শেয়ার বাজারের দৃষ্টি দিতে হবে। শেয়ার বাজারের অবস্থা বর্তমানে খুব অস্থিতিশীলতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ক্রমশ শেয়ার বাজার নিচের দিকে ধাবিত হচ্ছে। উদ্যোক্তারা সাধারণত দু’ভাবে পুঁজি সংগ্রহ করে থাকে। প্রথমত,তারা ব্যাংক থেকে পুঁজি সংগ্রহ করবে না হয় শেয়ার বাজার থেকে পুঁজি সংগ্রহ করবে। 

কিন্তু এই দুই সেক্টরেই যদি অস্থিতিশীলতা থাকে তাহলে উদ্যোক্তা পুঁজি সংগ্রহের ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়বে। শেয়ার বাজারের অবস্থা এখন খুবই খারাপ। কাজেই সেখান থেকে উদ্যোক্তারা চাইলেই প্রয়োজনীয় পুঁজি সংগ্রহ করতে পারছে না। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বাজারে আসার কথা ছিল তাও আসেনি। ফলে বাজারে ভালো শেয়ারের প্রচন্ড অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। পাশাপাশি ব্যাংকিং সেক্টরে অনেক দিন ধরেই সঙ্কট চলছে। নন-পারফর্মিং লোনের পরিমাণ দিন দিনই বেড়ে চলেছে।

 কোনোভাবেই এর গতি রোধ করা যাচ্ছে না। খেলাপি ঋণের হার ১০/১২ শতাংশ। এটা তো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এখন অবলোপনের মাধ্যমে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। অবলোপন করা হলেও উক্ত ঋণের উপর ব্যাংকের দাবি শেষ হয়ে যায় না। কিন্তু অবলোপনকৃত ঋণ আদায় করার তেমন কোনো আগ্রহ থাকে না। যারা তাদের ঋণ হিসাব অবলোপন করিয়ে নেন তারাও নিশ্চিন্ত থাকেন।

 অবলোপন করার অর্থ ঋণের দাবি ত্যাগ করা নয় ঠিকই কিন্তু অবলোপনকৃত ঋণ হিসাব থেকে কিস্তি আদায়ের প্রচেষ্টা দুর্বল হয়ে যায়। দ্বিতীয়ত, ঋণ হিসাব পুনঃতফসিলিকরণের নীতিমালা অনেক সহজীকরণ করা হচ্ছে। আগে কোনো ঋণ হিসাব পুনঃতফসিলিকরণ করতে হলে মোট পাওনা ঋণের ১০ শতাংশ অথবা খেলাপি ঋণের ১৫ শতাংশ এককালিন ডাউন পেমেন্ট হিসেবে জমা দিতে হতো। 

এখন সেটাকে ২ শতাংশে নামিয়ে আনা হচ্ছে। বলা হচ্ছে,ভালো ঋণ খেলাপি এবং মন্দ ঋণ খেলাপি বাছাই করা হবে। কিন্তু এটা করাতো খুবই কঠিন কাজ। ব্যাংকিং সেক্টরের সমস্যা সমাধানে পরিকল্পিতভাবে যে উদ্যোগ গ্রহণ করার কথা ছিল তা করা হচ্ছে না। যা করা হচ্ছে তা সাময়িকভাবে পরিস্থিতি মোকাবেলা করার একটি কৌশল মাত্র। আমি বলবো,এখনো সময় আছে ব্যাংকিং সেক্টরের সমস্যা সমাধানের জন্য কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক।

 সাময়িক ব্যবস্থা নিলে ব্যাংকিং সেক্টরের অস্থিতিশীলতা কাটবে না। ব্যাংকিং সেক্টরে বিচারের সংস্কৃতির একটি সঙ্কট আমরা দেখছি। যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ইচ্ছাকৃত ঋণ খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত আছে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতেই হবে। এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে ভবিষ্যতে আর এমন ঘটনা ঘটবে না।

 বলা হচ্ছে,যারা ভালো ঋণ খেলাপি তাদের ঋণ হিসাব পুনঃতফসিলিকরণ করা হলে সেই ঋণের সুদের হার হবে ৭শতাংশ। আর যারা খারাপ ঋণ খেলাপি তাদের ক্ষেত্রে সুদের হার হবে ৯ শতাংশ। কিন্তু কে ভালো কে মন্দ তা নির্ধারণ করা খুবই কঠিন একটি কাজ। 


দৈনিক জাগরণ: ব্যাংকিং সেক্টরের বর্তমান অবস্থার জন্য অভ্যন্তরীণ সুশাসনের অভাব কতটা দায়ি বলে মনে করেন?

ড.কাজী খলীকুজ্জমান : ব্যাংকিং সেক্টরের বর্তমান অবস্থার জন্য মূলত দায়ি হচ্ছে সুশাসনের অভাব। সুশাসন থাকলে কোনো ভাবেই ব্যাংকিং সেক্টরের অবস্থা এমন হতে পরতো না। ব্যকিবত মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোতে এখন অনেকটাই পারিবারিক সম্পত্তিতে পরিণত হয়েছে। একই পরিবার থেকে ৪ জন পরিচালক হতে পারছেন।

 চেয়ারম্যান অব্যাহতভাবে ৯ বছর দায়িত্ব পালন করতে পারছেন। আগে ব্যক্তি মালিকানাধীন ব্যাংকগুলো তুলনামূলকভাবে স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিতামূলক ছিল। এখন সেখানেও সঙ্কট সৃষ্টি হচ্ছে। আমি মনে করি,ব্যাংকিং সেক্টরে সুশাসন নিশ্চিত করার জন্য উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি আরো বাড়ানো দরকার। 

দৈনিক জাগরণ: আপনি পিকেএসএফ এর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণের পর ঋণদানের ক্ষেত্রে বেশ কিছু পরিবর্তন সাধন করেছেন। ভবিষ্যতে আর কি পরিকল্পনা গ্রহণ করবেন তা জানাবেন কি? 

ড.কাজী খলীকুজ্জমান : আমার যে সব কাজ ইতোমধ্যেই শুরু করেছি তাকে আরো গতিশীল এবং সম্প্রসারিত করবো। আমার সবাইকে নিয়ে কাজ করতে চাই। বিশেষ করে যারা পিছিয়ে আছে তাদের উন্নয়নে আমরা বিশেষ জোর দিচ্ছি। আমরা মানুষকে কেন্দ্র করে কাজ করি। অর্থাৎ আমাদের মূল টার্গেট থাকে মানুষের উন্নয়ন সাধন করা।

 প্রত্যেক পরিবারের সঙ্গে বসে তাদের সমস্যা সম্পর্কে আমরা জানতে চেষ্টা করে এবং সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। তাদের আমরা প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান করি ,প্রযুক্তি সরবরাহ করি,বাজারজাতকরণে সহায়তা প্রদান এবং উপযুক্ত অর্থায়ন করে থাকি। উপযুক্ত অর্থায়ন বলতে আমরা বুঝি যার যেটুকু অর্থের প্রয়োজন হয় আমরা তাদের সেটুকুই যোগান দেই।

 প্রচলিত ক্ষুদ্র ঋণ দারিদ্র্য বিমোচনে সহায়ক নয়। এ জন্য দরকার উপযুক্ত ঋণ প্রদান করা। আমরা পিকেএসএফ থেকে এটা প্রমান করে দেখিয়ে দিয়েছি। প্রচলিত ক্ষুদ্র ঋণের ক্ষেত্রে অর্থ প্রদান এবং তা আদায় করতে পারলেই তাকে সাফল্য বলে মনে করা হতো। আমার মানুষের ক্ষমতাকে জাগ্রত করার চেষ্টা করি।

দৈনিক জাগরণ: আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ

ড.কাজী খলীকুজ্জমান : দৈনিক জাগরণকেও ধন্যবাদ। আমি আবেদ খান সম্পাদিত পত্রিকাটির উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করি।
                                                        
        
      
    
 

Space for Advertisement