• ঢাকা
  • বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ৮ আশ্বিন ১৪২৭
প্রকাশিত: আগস্ট ২৭, ২০২০, ০৯:২৮ এএম
সর্বশেষ আপডেট : আগস্ট ২৭, ২০২০, ০৯:৩১ এএম

বিশেষ সাক্ষাৎকার

বদলে গেছে মোংলা বন্দর : রিয়ার এডমিরাল এম শাহজাহান

জাগরণ প্রতিনিধি মোংলা।
বদলে গেছে মোংলা বন্দর : রিয়ার এডমিরাল এম শাহজাহান
• রিয়ার এডমিরাল এম শাহজাহান, চেয়ারম্যান, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ।

মূলত ২০০০ সাল হতে ক্রমাগত কমতে থাকে মোংলা বন্দরের জাহাজ ও কার্গো হ্যান্ডলিং কার্যক্রম এবং ২০০৮ পর্যন্ত এ ধারা অব্যাহত থাকে। ফলে ২০০৮ সাল পর্যন্ত মোংলা বন্দর লোকসানি প্রতিষ্ঠান হিসেবেই পরিগণিত হয়ে আসছিল। দীর্ঘ কয়েক বছর লোকসানে থাকার পর মোংলা বন্দর এখন লাভজনক প্রতিষ্ঠান। আর এটি সম্ভব হয়েছে সরকারের সুদৃষ্টি, গতিশীল কর্মতৎপরতা ও দিক নির্দশনা, উন্নয়ন কার্যক্রম  বাস্তবায়ন এবং দক্ষ বন্দর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতে বন্দর ব্যবহারকারীদের সদিচ্ছার কারণ।

চলমান করোনাকালীন পরিস্থিতির মাঝে মোংলা বন্দরের বন্দর ব্যবস্থাপনা, নতুন করে এর জেগে ওঠা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে দৈনিক জাগরণের সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলেছেন, পতনের মুখ থেকে এই বন্দরের বিস্ময়কর পুণর্জাগরণের অন্যতম কারিগর- মোংলা বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম শাহজাহান। দৈনিক জাগরণের মোংলা (বাগেরহাট) সংবাদ প্রতিনিধি মোঃ জসিম উদ্দিনকে দেয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ধ্বংস প্রায় এই ঐতিহ্যবাহি বন্দরের বৈপ্লবিক পুরুত্থাণের পাশাপাশি এর কার্যক্রম, ভবিষ্যত পরিকল্পনা ও সম্ভাবনার নানাদিক প্রসঙ্গে জানান বন্দর চেয়ারম্যান।

দৈনিক জাগরণা : নৌবাহিনীর কর্মকর্তা হয়েও আপনি প্রশাসন চট্টগ্রাম বন্দরের সদস্য (হারবার ও মেরিন) এবং মোংলা বন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী হিসেব কাজ করছেন, বিষয়টি আপনি কিভাবে মূল্যায়ন করেন?
বন্দর চেয়ারম্যান :  মোংলা বন্দরের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনকে জননেত্রী শেখ হাসিনা প্রদত্ত পবিত্র দায়িত্ব ও আমানত মনে করছি। এজন্য আমি আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি এবং সরকারের নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। নৌবাহিনীর সদস্য হিসেবে লব্ধ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আমার ক্যারিয়ার গড় উঠে। এতে যে কোন প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনে সহায়ক। প্রশাসনের যে প্রতিষ্ঠান গুলোর দায়িত্ব পালন করছি/করেছি তার প্রতিটিতে প্রতিনিয়ত নানামুখী চ্যালেঞ্জের মধ্যে কাজ করতে হয়েছে। চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমার লব্ধ জ্ঞান, প্রশিক্ষণ, মেরিটাইম সেক্টর কর্ম অভিজ্ঞতা, চট্টগ্রাম বন্দরের সদস্য (হারবার ও মরিন) হিসেবে লব্ধ অভিজ্ঞতা বন্দর পরিচালনায় সহায়তা করেছে এবং বন্দরকে উন্নয়নের জন্য নিবদিত হিসেবে আগামীতেও কাজ করে যাবো নিরন্তর। ইনশাল্লাহ।

দৈনিক জাগরণ : করোনা মহামারিতে সারা বিশ্বের অর্থনীতি যখন বিঘ্নিত তখন মোংলা বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে কি কি উদ্যোগ গ্রহন করেছেন?
বন্দর চেয়ারম্যান : সমুদ্রবন্দর অর্থনীতির প্রবেশদ্বার হিসেবে বিবেচিত। পণ্য পরিবহনে সমূদ্র বন্দর স্থল ও জলপথের মধ্যে সমন্বয় সৃষ্টির মাধ্যমে গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্ব ও দিক নির্দেশনায় করোনা মহামারির কারণে জারিকৃত সাধারণ ছুটির মধ্যেও মোংলা বন্দরের কার্যক্রম ১ ঘন্টার জন্যও বন্ধ থাকেনি। দেশের আমদানি রপ্তানি স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে মোংলা বন্দরের সর্বস্তরের কর্মকর্তা/কর্মচারীগণ নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে মোংলা বন্দরকে সার্বক্ষণিকভাবে সচল রেখেছেন। করোনা মহামারিতে মোংলা বন্দরের সর্বস্তরের কর্মকর্তা/কর্মচারীদের মনোবল ধরে রাখার জন্য নানারকম উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে এবং ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের মানসিক স্বাস্থ্য ভাল রাখার অব্যাহত চেষ্টা করা হয়েছে। করোনা প্রতিরোধকমূলক নানা ব্যবস্থা যেমন মাস্ক পড়া, স্যানিটাইজার ট্যানেল স্থাপন করা, স্বাস্থ্য সেবা উন্নত এবং নিয়োমিত করার ব্যাপারে সচেতন তৎপরতা অব্যাহত রাখা হয়েছে। ফলে বন্দরের সকল স্তরের কর্মকর্তা/কর্মচারীদের মনোবল অটুট ছিল এবং দেশের অর্থনীতির উন্নয়নে অবদান রাখার মানসিকতা সৃষ্টির মাধ্যমে মোংলা বন্দরের কার্যক্রম ২৪ ঘন্টা সচল রাখা সম্ভব হয়েছে।

করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে মার্চ ’২০ মাসে বাংলাদেশে যখন সড়ক পথে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় গাড়ী চলাচলের উপর নানা নির্দশনা দেয়া হয়। তখন ঢাকা থেকে মোংলা বন্দরে পণ্য আনা নেয়ার জন্য বিশেষ তদারকি ও সমন্বয় সাধন করা হয়।। মাওয়া ঘাটে মোংলা বন্দরের পণ্য বহণের জন্য ফেরি চলাচল অব্যাহত রাখার বিষয় বিআইডব্লিউসি এর সাথে নিয়েমিত যোগাযোগ রাখা হয়। করোনার ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করায় পরিবহন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বন্দরের সকল কর্মকর্তা -কর্মচারীদর বিশেষ ঝুঁকি ভাতা প্রদাণের পদক্ষেপ নয়া হয়ছ। ফল গত ২০১৯-২০২০ অর্থ বছর বন্দরের রাজস্ব আয় লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে বেশি আদায় হয়েছে। একই সাথে সমুদ্র পথ আসা বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নাবিকগণ করোনায় আক্রান্ত কিনা তা পরীক্ষার জন্য বন্দর ও স্বাস্থ্য বিভাগর সমন্বয়ে বিশেষ টিম গঠন করি। বন্দরের সীমানায় প্রবেশের সাথে সাথে ওই জাহাজগুলোর নাবিকদের সকল প্রকার স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করার পর পণ্য খালাসের জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে জাহাজে উঠতে দেয়া হয়েছে। সাথে সাথে মোংলা বন্দর কর্মরত সকল কর্মকর্তা কর্মচারীদর স্বাস্থ্যবিধিমেনে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এর পরও কর্মকর্তা-কর্মচারীদর যারা  করোনায় আক্রান্ত হয়ছন,তাদর বন্দর কতপক্ষর হাসপাতাল চিকিৎসা দয়া হয়ছ। বন্দরের রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ধারা অব্যাহত রাখত সকল ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

দৈনিক জাগরণ : এ মুহূর্তর মোংলা বন্দরকে কিভাবে মূল্যায়ন করেন
বন্দর চেয়ারম্যান : জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা  ২০০৯ সালে  সরকার গঠন করলে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মোংলা বন্দরের ব্যবহার ও উন্নয়নের লক্ষ্যে নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এরই অংশ হিসেবে তার প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপে জুন ২০০৯ সাল হতে মোংলা বন্দরের মাধ্যমে প্রথমবারের মত গাড়ি আমদানি কার্যক্রম শুরু হয়। তাঁর সরকারের আমলে মোংলা বন্দরের উন্নয়নের জন্য ১৪টি প্রকল্পসহ প্রায় ৫০টির অধিক উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। ফলে মোংলা বন্দর পুনরায় কর্মচাঞ্চল্য হয়ে উঠে এবং বন্দরের ব্যবহার প্রায় প্রতিবছর ১৬% এর অধিক হারে বৃদ্ধি পেতে থাকে। এ বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় করোনা প্রাদুর্ভাবের মধ্যেও ২০১৯-২০ অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে ৯০৩টি জাহাজ, ১১০.৩৬ লক্ষ মেঃটন কার্গো, ৫৯৪৭৬ টিইউজ কন্টেইনার হ্যান্ডেল এবং ৩২০.৬০ কোটি টাকা রাজস্ব আয় করতে সক্ষম হয়েছে।

সরকার দেশের অর্থনীতির সুষম উন্নয়নের জন্য দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের ব্যাপক উন্নয়ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। যেমন পদ্মা সেতু নির্মাণ, খুলনা-মোংলা রেললাইন স্থাপন, খানজাহান আলী বিমান বন্দর নির্মাণ, রামপালে ১৩২০ মেগাওয়াট সম্পন্ন কয়লাভিত্তিক  বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ এবং মোংলা বন্দর এলাকায় ভারত-বাংলাদেশ যৌথ উদ্যোগে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা ইত্যাদি। এসব কার্যক্রম বাস্তবায়ন হলে মোংলা বন্দরের ব্যবহার ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা যায়।

দৈনিক জাগরণ : বর্তমানে যে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে পরবর্তী সময়ে যে প্রবৃদ্ধি আপনি আশা করছেন সে অনুযায়ী উল্লেখযাগ্য পরিমাণ কার্গো হ্যান্ডেলিংয়র জন্য বন্দরের সুযোগ-সুবিধা তথা সবার মান অনক উনত হওয়া প্রয়াজন বল বন্দর ব্যবহারকারীরা মন করন। এ ব্যাপার বন্দরের পরিকল্পনা কী?
বন্দর চেয়ারম্যান : বন্দরের সবার মান আগর তুলনায় অনক ভালা। বন্দরের সুযোগ-সুবিধা তথা সবার মান উন্নয়নর জন্য সক্ষমতা বদ্ধির বিকল্প নই। এ সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য মোংলা বন্দরের যে সব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে তা হলো - ১৪৫ কিঃমিঃ চ্যানেলের নাব্যতা বৃদ্ধি ও সংরক্ষণ, নিরাপদ ও দুষণমুক্ত পরিবেশ বান্ধব চ্যানেল নিশ্চিতকরণ
দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়ন কার্যক্রমের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ভবিষ্যত চাহিদা পুরণের জন্য বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি দক্ষ ও পর্যাপ্ত জনবল সৃষ্টি, মেরামত সুবিধা সৃষ্টি করা, এসব চ্যালেঞ্জ সুষ্টুভাবে মোকাবেলায় বর্তমানে মোংলা বন্দরে ১০টি প্রকল্পের বাস্তবায়ন কার্যক্রম চলমান আছে। মোংলা বন্দর চ্যানেলের আউটার বারে  চলমান ড্রেজিং কাজ বর্তমানে শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ভেসেল ট্রাফিক ম্যানজেমন্টে এন্ড ইনফরমশেন সিস্টেম (ভিটিএমআইএস) প্রর্বতন করা হচ্ছে যা নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করবে। স্ট্র্যাটেজিক মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন করা হচ্ছে, "সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপন করা হচ্ছে, মোংলা বন্দরের জন্য অত্যাবশ্যকীয় সরঞ্জাম সংগ্রহ” করা হচ্ছে,  আগামী ডিসেম্বর হতে সেগুলো বন্দর বহরে যুক্ত হতে শুরু করবে। সহায়ক জলযান সংগ্রহ করা হচ্ছে, মোংলা বন্দরে আধুনিক বর্জ্য  ও নিঃসৃত তেল অপসারণ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম বাস্তবায়নাধীন আছে। আপগ্রেডেশন অব মোংলা পোর্ট” এর কাজ হাতে নেয়া হয়েছে। পশুর চ্যানলেরে ইনার বারে নাব্যতা বৃদ্ধির জন্য ড্রেজিং কাজ হাতে নেয়া হয়েছে পিপিপি’র আওতায় মোংলা বন্দরের ২টি অসম্পুর্ণ  জেটি নির্মাণ” শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হলে মোংলা বন্দরে ১০ মিটার ড্রাফটের জাহাজ হ্যান্ডেল করা সম্ভব হবে।  ৬টি নুতন জেটি হবে, ২০০টির অধিক বিভিন্ন ধরনের হ্যান্ডলিং যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করা হবে, ১৪টি বিভিন্ন ধরনের সহায়ক জলযান সংগ্রহ করা হবে, ভিটিএমআইএস চালু হবে, কন্টেইনার ডেলিভারী ইয়ার্ড, কন্টেইনার ইয়ার্ড, ৮ হতে ১০ হাজার গাড়ি ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন মাল্টি লেভেল কার ইয়ার্ড হবে, দৈনিক ৪ হাজার টন বিশুদ্ধ সুপেয় পানি সরবরাহ করা যাবে, পরিবেশ সম্মত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা হবে, ট্রেনিং ইন্সটিটিউটসহ যাবতীয় কমিউনিটি সুবিধাদি সৃষ্টি হবে। এতে মোংলা বন্দরে প্রায় ৮ হতে ১০ লক্ষ টিইউজ কন্টেইনার হ্যান্ডলিং এর সক্ষমতা অর্জিত হবে। এতে বন্দরের নিজস্ব আয় বৃদ্ধি ও বাংলাদেশ অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে। বন্দরের কার্যক্রম ও সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে সরকারের রুপকল্প -২০২১ এবং রুপকল্প ২০৪১ অর্জনে মোংলা বন্দর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে গুরুত্বপুর্ন ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।

দৈনিক জাগরণ : বিগত বছরগুলোতে যে বন্দর ব্যবহারকারীদের আকৃষ্ট করতে পারেনি সে সব ব্যবসায়ীদের আগামী দিনে কিভাবে আকৃষ্ট করবে?
বন্দর চেয়ারম্যান : যেকোনো সমুদ্রবন্দরের প্রধান তিনটি দিক থাকে। যেমন-চ্যানেলের নাব্যতা, বন্দর ও কাস্টমস সুবিধা এবং বন্দর থেকে গন্তব্যস্থলের যোগাযোগ ব্যবস্থা।  সরকার কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে তিনটি দিকই যথেষ্ট উন্নয়ন করা হয়েছে/হচ্ছে। বাস্তবায়িত ও বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের কারণে এরই মধ্যে আমরা অভূতপূর্ব সুফল পেতে শুরু করেছি। এ ব্যাপারে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের গবেষণায় এটা প্রকাশ পেয়েছে। একই সাথে পদ্মা সেতু নির্মাণ শেষ হলে মোংলা বন্দরের কার্গো হ্যান্ডলিং আরো উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে। আরেকটি বিষয় আমি বিশেষভাবে উল্লেখ করতে চাই যে বন্দর ট্যারিফ ক্ষেত্র বিশেষে আমরা আগের তুলনায় অনেক বেশি ব্যবসাবান্ধব করেছি। কাজেই নিঃসন্দেহে বলা যায়, মোংলা বন্দরে স্থাপিত শিল্প-কারখানার মালিক ও বন্দর ব্যবহারকারীদের অনেক বেশি আকৃষ্ট করতে সক্ষম হবে।

দৈনিক জাগরণ : সমুদ্রবন্দরের প্রধান যে তিনটি দিকের কথা আপনি বলেছেন, মোংলা বন্দর সংশ্লিষ্ট, এগুলোর উন্নয়নের মাধ্যমে মোংলা বন্দর ভবিষ্যতে ব্যবহারকারীদের কতটা উন্নত সেবা দিতে পারবে বলে আপনি মনে করেন?
বন্দর চেয়ারম্যান : প্রথমত, নাব্যতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমরা এরই মধ্যে হারবার এলাকার ড্রেজিং সম্পন্ন করেছি। বন্দর এলাকা থেকে রামপাল পর্যন্ত এলাকার ড্রেজিং প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে। ড্রেজিং করে নাব্যতা সংরক্ষণের পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে এবং আউটার বার এলাকার ড্রেজিং প্রকল্প শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এই প্রকল্প দুটি বাস্তবায়নের ফলে বর্তমান ৮.৫ মিটার ড্রাফটের পরিবর্তে ১০ মিটার ড্রাফটের জাহাজ এ বন্দরে আসতে পারবে। আধুনিক সুযোগ- সুবিধাসহ কনটেইনার টার্মিনাল, বহুতল কার ইয়ার্ড, বন্দর এলাকার রাস্তা ছয় লেনে উন্নয়ন, আধুনিক নিরাপত্তাব্যবস্থা, অটোমেশন ইত্যাদি প্রকল্প পর্যায়ক্রমে সম্পন্নের মাধ্যমে বন্দরের সেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে বলে আমি আশাবাদী। দ্বিতীয়ত, পদ্মা সেতু নির্মাণ শেষে সড়কপথে ঢাকা থেকে মোংলা বন্দরের দূরত্ব ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের দূরত্ব থেকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার কম হবে। ফলে ঢাকাকেন্দ্রিক বেশ কিছু কার্গো বিশেষত গার্মেন্ট সামগ্রী এ বন্দরের মাধ্যমে পরিবাহিত হওয়ার একটি সহজ সুযোগ সৃষ্টি হবে। এ ছাড়া খুলনা-মোংলা রেল যোগাযোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে রেলপথেও মোংলা বন্দরের কার্গো পরিবহনের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এভাবে তিনটি দিকই উল্লেখযোগ্য উন্নয়নের মাধ্যমে মোংলা বন্দর  ব্যবহারকারীদের অত্যন্ত উন্নত সেবা প্রদানে সক্ষম হবে বলে আমি মনে করি।

দৈনিক জাগরণ : পর্যায়ক্রমে মোংলা বন্দরের উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে সেবার মান বৃদ্ধি পেলেও কাস্টমসের সেবার মান সন্তোষজনক না হওয়ায় সামগ্রিকভাবে বন্দর ব্যবহারে অনেক ব্যবহারকারীর অনাগ্রহের কথা শোনা যায়। এ বিষয়টি আপনি কিভাবে মূল্যায়ন করেন?
বন্দর চেয়ারম্যান : সমুদ্র, বিমান বা স্থল যেকোনো বন্দরেই বন্দর ও কাস্টমস সুবিধা উন্নত ও দ্রুততর না হলে সে বন্দর ব্যবহারে ব্যবহারকারীদের অনাগ্রহ থাকবে এটা খুবই স্বাভাবিক। মোংলা বন্দরও এর ব্যতিক্রম নয়। তবে একটি বিষয় আমাদের সবার মনে রাখা প্রয়োজন, মোংলা কাস্টমসের বেশ কিছু সফলতা কিন্তু এরই মধ্যে হয়েছে। মোংলা ইপিজেড ও মোংলা বন্দরের তারা তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। এ ছাড়া তাদের  আবাসিক ভবন নির্মাণের লক্ষ্যে মোংলা বন্দরের বেশ কিছু জমি এরই মধ্যে তারা লিজ নিয়েছে এবং নির্মাণ প্রকল্প সরকারের অনুমোদনের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আমার জানা মতে, দ্রুততার সঙ্গে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের পর নিকট ভবিষ্যতে খুলনা থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে তারা আবাসন ব্যবস্থা মোংলায় স্থানান্তর করতে পারবে। বন্দর ও কাস্টমসের মধ্যে বর্তমানে চমৎকার সুসম্পর্ক বজায় রয়েছে। 

দৈনিক জাগরণ : আমাদের দেশের সরকার প্রধান মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভিশন ২০৪১ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মোংলা বন্দরের ভূমিকা বা উন্নয়ন পরিকল্পনা কী?
বন্দর চেয়ারম্যান :  জননেত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শিতা ও দৃঢ় অঙ্গীকার ও সময় উপযোগী পদক্ষেপের ফলে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ হতে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নিত হওয়ার স্বীকৃতি পেয়েছে। সহস্রাব্দ উন্নয়ন অভিষ্ট অর্জনের পর এখন চলছে টেকসই উন্নয়নের অভিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের কার্যক্রম।

সরকার -২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে রূপান্তরের জন্য রুপকল্প গ্রহণ করেছে। সরকারের রুপকল্পের লক্ষ্য অর্জনে ভূমিকা রাখতে মোংলা বন্দর আগামী ২০৪০ সাল পর্যন্ত স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তাছাড়া সরকারের ডেল্টা প্লানেও মোংলা বন্দরের উন্নয়ন প্রকল্প অন্তর্ভূক্ত আছে। সে গুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপুর্ন ভূমিকা রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

এসকে