• ঢাকা
  • সোমবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২১, ১২ মাঘ ১৪২৭
প্রকাশিত: জানুয়ারি ৮, ২০২১, ০৮:৫১ এএম
সর্বশেষ আপডেট : জানুয়ারি ৮, ২০২১, ১২:০৫ পিএম

ভ্যাকসিন নিয়ে সরকার মিথ্যাচার করছে: ডা. জাফরুল্লাহ

শাহাদাত হোসেন তৌহিদ
ভ্যাকসিন নিয়ে সরকার মিথ্যাচার করছে: ডা. জাফরুল্লাহ

ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে বাংলাদেশে করোনা ভ্যাকসিন আমদানি নিয়ে এক ধরনের বিতর্ক ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দৈনিক জাগরণের সঙ্গে কথা বলেছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শাহাদাত হোসেন তৌহিদ।


জাগরণ : ভারতের সিরাম ইউস্টিটিউট থেকে বাংলাদেশে করোনার ভ্যাকসিন আমদানি নিয়ে একটি দোদুল্যমান অবস্থা তৈরি হয়েছে, এ বিষয়ে আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

জাফরুল্লাহ চৌধুরী : এটা খুব সহজ-সরল ব্যাপার। আজকে ভ্যাকসিন যারা তৈরি করেছেন, তারা তাদের জনগণকে না দিয়ে কেবল ব্যবসার কারণে আমাদের কেন দেবেন? যদিও রপ্তানির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা নেই। সিরামের সিইও বলেছেন, ‘আরো দু’তিন মাস লাগবে’, যেটা আমি আগে থেকেই বলে আসছি। অর্থাৎ মার্চ-এপ্রিলের আগে আমরা ভ্যাকসিন পাবো না। শুধু ভারতের দিকে তাকিয়ে থাকলে তো হবে না। রাশিয়া এবং চীনের ভ্যাকসিনের জন্যও আমাদের চেষ্টা করা উচিত। তারা সহযোগিতা করলে আমরা পর্যাপ্ত পরিমাণ ভ্যাকসিন জোগাড় করতে পারব। না হলে, ভারতের চাহিদা মিটিয়ে হয়ত খুচরা কিছু পাবো। সেটা দিয়ে আমাদের চাহিদা পূরণ হবে বলে মনে হয় না।

জাগরণ : সেক্ষেত্রে করণীয় কী বলে আপনি মনে করেন?
জাফরুল্লাহ : আমাদের তো সর্বনিম্ন ১০ কোটি লোককে টিকা দিতে হবে। প্রতি লোককে দুটি করে ডোজ হলে ২০ কোটি, অর্থাৎ দুইশো মিলিয়ন ডোজ। এরমধ্যে আমাদের কাছে যা তথ্য আসছে, ভ্যাকসিনের মেয়াদ ৬ মাসের বেশি না, ফেরতও যেতে পারে। তা ছাড়া, আমরা নিজেদের সক্ষমতা বাড়াবার কোনো চেষ্টাই করছি না।

জাগরণ : সেরামের ভ্যাকসিনটা করোনা প্রতিরোধে কতটুকু কার্যকর হবে বলে আপনি মনে করেন?
জাফরুল্লাহ :  নিশ্চয়ই কার্যকর হবে। আমার মনে হয় ফাইজার বা মডার্না’র টিকার মতোই কার্যকর হবে। ওদের কাছ থেকে নেওয়াটা কোনো ভুল নয়; নিতেই পারি। আমার আপত্তিটা হচ্ছে, তারা ভারতে দিচ্ছে দুই ডলারে, আর আমরা কিনছি পাঁচ ডলারে। লুটপাটের একটা সীমা থাকা উচিত। কোনো প্রাইভেট কোম্পানিকে না দিয়ে সরকারি কোম্পানি ইবিসিএলকেও দিতে পারতাম। সরকার বলতে পারতো, কে কত সুলভে টিকা এনে দিতে পারবে? এটা দেশবাসীর জন্য ভালো হতো আর কি! কোনো টেন্ডার করেনি, কিছুই করেনি। তা ছাড়া সরকার তো তথ্য পরিষ্কার করছে না। একেকবার একেক কথা বলছে। এটা জি টু জি (গর্ভমেন্ট টু গর্ভমেন্ট), অর্থাৎ ভারত সরকারের সঙ্গে কোনো চুক্তি নয়। চুক্তি করেছে সিরামের সঙ্গে বেক্সিমকো কোম্পানি। বাংলাদেশ সরকার ছিল সেটির একটা সাক্ষী। ভারত সরকার ছিল অনুপস্থিত। এই সরকার মিথ্যা-সরকার। তারা কাজকর্মও মিথ্যাচার দিয়ে করছে।

জাগরণ : করোনার শুরুতে যেমন মাস্কের দাম নিয়ে একটা সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছিল, ভ্যাকসিন নিয়ে দেশে কোনো সিন্ডিকেটের আশঙ্কা দেখছেন কি?
জাফরুল্লাহ : সরকার বলছে, সরকারি হাসপাতালের মাধ্যমে ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। হয়তো মাস্কের মতো ব্যাপার হবে না। তবে যেহেতু পর্যাপ্ত পরিমাণ ভ্যাকসিন আসছে না, সেক্ষেত্রে কেউ নিজেদের আত্মীয়-স্বজনের জন্য সেটি নিতে বাড়তি কিছু টাকা দিতে পারে। ঘুষ লেনদেন হতে পারে। এক্ষেত্রে তো জনপ্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত না। আজকে যদি প্রত্যেকটা জায়গায় পাবলিক কমিউনিটি থাকতো, প্রত্যেকটা জায়গায় তারা পর্যবেক্ষণ করতো, তাহলে এসব হতো বলে মনে হয় না।

জাগরণ : অব্যবস্থাপনার আশঙ্কা দেখছেন তাহলে?
জাফরুল্লাহ :  অবশ্যই, অবশ্যই দেখছি। 

জাগরণ : ভ্যাকসিন কিনতে ৭৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। এই অর্থ যথেষ্ট বলে মনে করেন আপনি?
জাফরুল্লাহ : দেখুন, যে টাকা আমরা বরাদ্দ দিয়েছি, এর চেয়ে কম টাকায় যদি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ দশ বিজ্ঞানীকে (এক কোটি টাকা মাসিক বেতনে) আনা হতো, তাহলে অনেক বেশি বিজ্ঞানী তৈরি হতে পারত। যে টাকা আমরা ব্যবসায়ীকে দিচ্ছি, তার একটা অংশ যদি আমরা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণায় দিতাম, আমাদের ওষুধ কোম্পানিকে দিতাম, দেশের প্রতিষ্ঠান ‘গ্লোব বায়োটেক’কে ভর্তুকি দেওয়া হতো; নিশ্চিতভাবে বলা যায়, দেশেই এক বছরের মধ্যে টিকা তৈরি করা যেত। আমার ধারণা, ছয় মাসের কিংবা এক বছরের মধ্যে আমাদের নিজস্ব অর্থায়নে একটি প্রতিষ্ঠান করে ফেলতে পারতাম।

জাগরণ : এক্ষেত্রে আপনার কোনো পরামর্শ আছে কি?
জাফরুল্লাহ : আমি বলবো, ১০ জন সিনিয়র টেকনিশিয়ানকে নিয়ে আসেন। তাতে করে আমরা হার্ভার্ড, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি সব জায়গা থেকে লোক আনতে পারব। তাহলে দেশে অনেক বেশি সক্ষমতা বৃদ্ধি হবে। আমি যেটা অন্যত্র বলেছি, ‘কম্পালসারি লাইসেন্স’, অর্থাৎ রাষ্ট্র জনগণের স্বার্থে সকল তথ্য পেতে পারে। অক্সফোর্ডের কাছ থেকে আমরা ফুল টেকনোলজি পেতে পারি। তার একটা রয়্যালটি দিতে হয়। এটার জন্য আমরা নিশ্চিন্তে ড. ইউনূসকে কাজে লাগাতে পারি। এতে করে আমাদের জন্য ওই টেকনোলোজিটা নিয়ে আনা সম্ভব। এটা হলে আমাদের গণস্বাস্থ্যও ৬ থেকে ৯ মাসের মধ্যে ভ্যাকসিন তৈরি করে ফেলতে পরবে।