• ঢাকা
  • বুধবার, ০৩ মার্চ, ২০২১, ১৯ ফাল্গুন ১৪২৭
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২১, ১২:৫২ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২১, ১২:৫৩ পিএম

আমার জীবন সংগ্রামমুখর : মুহাম্মদ সামাদ

আমার জীবন সংগ্রামমুখর : মুহাম্মদ সামাদ

মুহাম্মদ সামাদ বাংলা ভাষার একজন প্রতিভাবান ও জনপ্রিয় কবি। স্কুলজীবন থেকে কবিতা লিখতে শুরু করেন তিনি। ‘মুজিব আমার স্বাধীনতার অমর কাব্যের কবি’- এই অমর পঙ্ক্তির রচয়িতা কবি মুহাম্মদ সামাদ মুজিববর্ষে পেলেন কবিতায় বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২০।

সামাদের জন্ম তৎকালীন ময়মনসিংহের জামালপুর মহকুমায় ১৯৫৬ সালে। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি জাতীয় কবিতা পরিষদ-এর সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

এখন পর্যন্ত কবিতা, কাব্যানুবাদ ও সমাজচিন্তা মিলিয়ে তাঁর রচিত ও সম্পাদিত গ্রন্থসংখ্যা ২৩টি। উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে—কাব্যগ্রন্থ: আমি তোমাদের কবি (২০১৯); আমার দুচোখ জলে ভরে যায় (২০১২); আজ শরতের আকাশে পূর্ণিমা (২০০৫); চলো, তুমুল বৃষ্টিতে ভিজি (১৯৯৬); পোড়াবে চন্দন কাঠ (১৯৮৯); আমি নই ইন্দ্রজিৎ মেঘের আড়ালে (১৯৮৫); একজন রাজনৈতিক নেতার মেনিফেস্টো (১৯৮৩), কবিতাসংগ্রহ (২০০০); প্রেমের কবিতা (২০০৮); উৎসবের কবিতা [সম্পাদিত] (১৯৯৬); ত্রিপুরার বাংলা কবিতা (সম্পাদনা: সেলিনা হোসেন ও মুহাম্মদ সামাদ; ২০১৬)।

কবি মুহাম্মদ সামাদের কবিতা ইংরেজি, সুইডিশ, ইতালিয়ান, গ্রিক, চীনা, সার্বিয়ান, হিন্দি, সিনহালি প্রভৃতি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। 

মুহাম্মদ সামাদ সিটি আনন্দ-আলো পুরস্কার, সৈয়দ মুজতবা আলী সাহিত্য পুরস্কার, কবি সুকান্ত সাহিত্য পুরস্কার, কবি জীবনানন্দ দাশ পুরস্কার, কবি জসীমউদদীন সাহিত্য পুরস্কার, ত্রিভুজ সাহিত্য পুরস্কার, কবি বিষ্ণু দে পুরস্কার [২০০৯, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত], কবিতালাপ পুরস্কার ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার অর্জন করেন। 

সম্প্রতি তিনি কবিতা ও ব্যক্তিজীবনসহ বিভিন্ন বিষয়ে দৈনিক জাগরণের সঙ্গে কথা বলেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শাহাদাত হোসেন তৌহিদ। 

জাগরণ: অভিনন্দন স্যার। কবিতায় বাংলা একাডেমি পুরস্কার পেলেন। পুরস্কারপ্রাপ্তিতে আপনার অনুভূতি জানতে চাই।

মুহাম্মদ সামাদ:  আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আমাদের দেশে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারপ্রাপ্তি খুব মর্যাদার। আমার অনুভূতি অবশ্যই আনন্দের। একাডেমির মহাপরিচালক ও বিশিষ্ট কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজীর সভাপতিত্বে যে বিচারকমণ্ডলী কবিতায় বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারের জন্য আমাকে মনোনীত করেছেন, তাদের আমি ধন্যবাদ জানাই। সেই সঙ্গে পাঠক, আমার কবিতার আবৃত্তিশিল্পী, প্রকাশক ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।   
   
জাগরণ: এর আগেও আপনি অনেকগুলো বড় পুরস্কার পেয়েছেন। পুরস্কার আপনার কবি জীবনে কেমন প্রভাব ফেলেছে? কবিতা লেখায় কতখানি উৎসাহ জুগিয়েছে?

মুহাম্মদ সামাদ: আমার জীবন সংগ্রামমুখর। অজপাড়াগাঁ থেকে হাঁটতে হাঁটতে একদিকে দারিদ্র্যের কশাঘাত, অন্যদিকে সমাজের অন্যায়-অত্যাচার ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে নির্যাতিত মানুষের পক্ষে সংগ্রাম করতে করতে আমি এখানে এসেছি। পুরস্কারের আশায় কোনো কবি কাব্যচর্চা করেন না, সবাই সাহিত্যচর্চা করেন স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে। বাংলা একাডেমি কী বা বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারই-বা কী, কবিতা লেখার যাত্রাকালে সেটা তো আমার জানাই ছিল না। তবে পুরস্কারের অনুপ্রেরণা অস্বীকার করার উপায় নেই। ১৯৮৩ সালে ফেব্রুয়ারির বইমেলায় আমার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘একজন রাজনৈতিক নেতার মেনিফেস্টো’ প্রকাশিত হয়। কাব্যগ্রন্থটি তৎকালীন বাংলাদেশে পঁচিশ বছর বয়সী তরুণ লেখকদের জন্য নির্ধারিত ‘ত্রিভুজ সাহিত্য পুরস্কার ১৯৮৩’ লাভ করে। পুরস্কারসভায় সৈয়দ আলী আহসানের সভাপতিত্বে রাবেয়া খাতুন, রিজিয়া রহমান, আবুল ফজল শামসুজ্জামান, গাজী শামসুর রহমান ও যুক্তরাজ্যের তৎকালীন বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ আবদুস সুলতান প্রমুখের আশীর্বাদ, প্রশংসা ও উৎসাহ বর্ষণে; আর জুবায়দা গুলশান আরার গান পরিবেশনে সেদিন অজপাড়াগাঁয়ের এই আমি বিস্ময়াবিভূত হয়ে পড়েছিলাম। পরে ১৭০ পঙ্ক্তির দীর্ঘ বিদ্রূপাত্মক কবিতা ‘একজন রাজনৈতিক নেতার মেনিফেস্টো’ হিন্দি, মারাঠি, ইংরেজি, সুইডিশ, সার্বিয়ানসহ বেশ কয়েকটি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। বিশেষ করে উত্তর ইউরোপের প্রখ্যাত কবি-অনুবাদক ক্রিস্টিয়ান কার্লসনের সুইডিশ অনুবাদ পড়ে গোথেনবার্গ, উপসালা, স্টকহোম ও মালমো শহরে কবিত পাঠের সময় সুইডেনের কবি-লেখকরা ‘একজন রাজনৈতিক নেতার মেনিফেস্টো’র প্রতি এবং কবি হিসেবে আমার প্রতি যেভাবে আগ্রহ দেখিয়েছেন, প্রশ্ন করেছেন, কবিতাটি রচনার পটভূমি ও প্রেরণার কথা জানতে চেয়েছেন; তাতে রাজনৈতিক নেতাদের চরিত্র উন্মোচনে আমার চেষ্টা সফল বলে মনে হয়েছে। ইতিমধ্যে দেশ-বিদেশের বেশ কিছু পুরস্কার-সম্মাননা আমাকে দেওয়া হয়েছে। তাতে আমি সম্মানিত হয়েছি, বেশি বেশি পড়তে ও ভালো লিখতে চেষ্টা করেছি; আমার কাব্যানুবাদ সাত দেশের কবিতা (যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, সুইডেন, সার্বিয়া, জর্জিয়া ও ভিয়েতনাম) সিটি আনন্দ-আলো পুরস্কার লাভ করেছে। নোবেলজয়ী সুইডিশ কবি টমাস ট্রান্সট্রয়মারের কবিতা অনুবাদ করেছি। এভাবে বাংলা ভাষা-সাহিত্য ও দেশকে অন্য ভাষার কবি-লেখকদের সামনে মেলে ধরতে পেরেছি, সেটা সামান্য হলেও গর্বের বৈকি।

জাগরণ: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় রয়েছেন আপনি, একজন কবির জীবনে যে যাযাবরত্ব, দ্রোহ, কবিতার জায়গা থেকে জীবনকে দেখার চোখ রাখতে হয়, সেটা আপনি কতটুকু যাপন করছেন?

মুহাম্মদ সামাদ: কবি উপাধিটি সমাজের কীর্তিমান মানুষদের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জনের স্বীকৃতিজ্ঞাপক। তাই আমাদের মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে আমরা বলি ‘মুজিব আমার স্বাধীনতার অমর কাব্যের কবি’। প্রাচীন সময় থেকে স্বপ্ন, সাহস ও ভালোবাসায় ঋদ্ধ অনেক বিশিষ্ট কবিও প্রশাসক ছিলেন। তাঁদের মধ্যে আছেন রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান থেকে রাজনীতিক, শিক্ষাবিদ, আইনবিদ, আমলা ও কূটনীতিক। যেমন কবি দান্তে তাঁর কালে ইতালির অন্যতম প্রভাবশালী প্রশাসক ছিলেন; চিকিৎসাশাস্ত্রের জনক ও কবি-দার্শনিক ইবনে সিনা স্বদেশে একটি অঞ্চলের প্রশাসক ছিলেন; কাব্যভাষায় রচনা করেছেন চিকিৎসাশাস্ত্রের বইপত্র। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশাল সাহিত্যভান্ডার সৃষ্টির পাশাপাশি জমিদারির দায়িত্ব পালন করেন এবং শান্তিনিকেতনে একটি বিশ্বখ্যাত ব্যতিক্রমী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করেন। নয়া চীনের প্রতিষ্ঠাতা মাও সে-তুং ও সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির প্রবক্তা কার্ল মার্কসের মহৎ কবিতা আমাদের মুগ্ধ করে; সেনেগালের প্রেসিডেন্ট লিও পোল্ড সেঙ্ঘর কবিতায় নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি শংকর দয়াল শর্মার ‘কোরান শরিফ’ কবিতাটি একবার পাঠ করুন তো; জীবনের কী গভীর উপলব্ধি কতজন কবি এমন একটি কবিতা রচনা করতে পেরেছেন! হিন্দি ভাষার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি অটল বিহারি বাজপেয়ি ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বপালন করলেন। অতুল প্রসাদ আইনবিদ ছিলেন; সাহিত্যসম্রাটখ্যাত বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, রজনীকান্ত সেন, ডি এল রায়, অন্নদা শংকর রায় এরাও যোগ্য-দক্ষ প্রশাসক ছিলেন। তাই আমি নিরন্তর পাঠ, চর্চা ও সামান্য সামর্থ্য নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আমার জীবনের মূল কথা- তা কি কবিতায়, কি কর্তব্য ও দায়িত্ব পালনে।

দ্রোহ দিয়েই জীবনকে দেখতে শুরু করেছি। তার প্রমাণ ‘একজন রাজনৈতিক নেতার মেনিফেস্টো’ থেকে আমার সামান্য কাব্যচর্চা ও রাজপথের আন্দোলনের পথে পথে ছড়িয়ে আছে। অধ্যাপক হরলাল রায় ও কবি জয়দুল হোসেন প্রতিষ্ঠিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার গ্রহণ করতে গিয়ে ছাত্রজীবনে রচিত ‘একটি যুবক’ শিরোনামে আমার একটি কবিতা একজন তরুণ আবৃত্তিশিল্পীর কণ্ঠে শুনে আমি যাযাবরত্বের স্মৃতিচারণায় বেদনাভারাক্রান্ত হয়ে পড়েছিলাম। ইউটিউবে গতকাল শিমুল মুস্তাফার কণ্ঠেও কবিতাটি শুনলাম। এই বোধ আমি সব সময় ধারণ করি। তবে যাযাবরত্ব বলতে যদি অন্য কিছু হয় যেমন— কোনো দ্রব্য গ্রহণের নেশা, আমি তা কখনো করিনি। এমনকি চা-কফিও খাই না; জীবনে ধূমপান পর্যন্ত করিনি। আমি গাঁয়ের ছেলে। বাঙালির আটপৌরে জীবনে আমি অভ্যস্ত।

জাগরণ: আপনি জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি হিসেবে রয়েছেন। সংগঠন কবিতা লেখায় কোনো প্রভাব পড়ে কি না? কবি হওয়ার ক্ষেত্রে সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা আদৌ আছে কি?

মুহাম্মদ সামাদ: কবি শামসুর রাহমান, সৈয়দ শামসুল হক, রফিক আজাদ, বেলাল চৌধুরী, রবিউল হুসাইন ও হাবীবুল্লাহ সিরাজী কবিতা পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন মেহাম্মদ রফিক, নির্মলেন্দু গুণ, মোহন রায়হান, সমুদ্র গুপ্ত, গোলাম কিবরিয়া পিনু এবং আমি। কাজেই বলা যায়, আমি তাদের পরম্পরা বহন করে নিয়ে যাচ্ছি। তারুণ্যে বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর আমরা প্রতিবাদে মুখর ছিলাম। কবিতায় ও মিছিলে দৃপ্ত ছিলাম। বিশেষ করে স্বৈরশাসক এরশাদের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সংগ্রাম যখন স্তিমিতপ্রায়, তখন আমরা, ১৯৮৭ সালে শৃঙ্খল মুক্তির ডাক দিয়ে শামসুর রাহমানের নেতৃত্বে জাতীয় কবিতা উৎসবের আয়োজন করি। সব প্রগতিবাদী কবি-লেখক-সাংবাদিক-চিত্রশিল্পী ও সংস্কৃতিক কবিতা উৎসবের সঙ্গে যুক্ত। পরের বছর জাতীয় কবিতা পরিষদ প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়। সাধারণ জনগণ থেকে আজকের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাসহ সব গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের অনুপ্রেরণার উৎসস্থল হয়ে ওঠে সেই প্রতিবাদী কবিতা উৎসব। সবাই এখানে আসেন কবিতা শুনতে। সামরিক শাসক এরশাদের পতন হয়। অতঃপর প্রতিবছর পয়লা ও দোসরা ফেব্রুয়ারির কবিতা উৎসব এখন কবি, কবিতানুরাগী ও সংস্কৃতিকর্মীদের প্রাণের মেলায় পরিণত হয়েছে। এটি জাতীয় হয়েও আন্তর্জাতিক উৎসব এখন। মানবজীবনে সংগঠন বা প্রতিষ্ঠানের গুরুত্ব অপরিসীম। ১৯৪২ সালে প্রকাশিত মার্কিন সমাজবিজ্ঞানী Harry Elmer Barnes তার বিখ্যাত গ্রন্থ Social Institutions-এ বলেছেন, মানুষ সংগঠন বা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সুসংগঠিত হওয়ায় সে তার চেয়ে বিশাল দেহধারী ও শক্তিশালী জীবজন্তু থেকে শুরু করে পৃথিবীর সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। কবি হওয়ার ক্ষেত্রে সংগঠেনের প্রয়োজন নেই; আবার আছেও। যেমন সারা বছর ধরে কয়েকটি ভালো কবিতা রচনা করে কবিতা উৎসবে পড়বার জন্য আমার মতোই গ্রাম-গঞ্জ থেকে কবিরা ঢাকায় আসেন; উৎসবে কবিতা পড়ে উৎসাহিত বোধ করেন। আসলে একজন কবিকে একা নীরবে-নিভৃতে কবিতা লিখতে হয়; এক কঠিন সাধনা। তবে কবিতাকে জনসমাজের কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য কিংবা সমাজ-রাষ্ট্রের প্রয়োজনে যদি কবি কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হন তাতে ক্ষতি কী? 

জাগরণ: তরুণদের অভিযোগ, কবিতার ভাষা এখন দুর্বোধ্য। কবিতার ভাষা কেমন হওয়া উচিত বলে মনে করেন?

মুহাম্মদ সামাদ: শুধু তরুণরা কেন, আগ্রহ থাকলে যে কেউ কবিতার ভাষা, ছন্দ, গল্প, দর্শন বুঝে নেবেই। কবিতার ভাষা কেমন হবে, তা ছকে বেঁধে দেওয়ার অধিকার কারোর নেই। একজন কবি ও তার কবিতা উভয়ই সার্বভৌম।

জাগরণ: বাংলা কবিতার গতিপথ কোন দিকে? কথাসাহিত্য এখন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এ ক্ষেত্রে কবিতার ভবিষ্যৎ কি ঝুঁকিপূর্ণ?

মুহাম্মদ সামাদ: কবিতার গতিপথ মানুষের দিকে, মানুষের হৃদয়ের দিকে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কথাসাহিত্যের স্থায়িত্ব কম। কবিতা চিরকালীন হয়— এই ধরুন ‘সবার উপরে মানুষ সত্য/তাহার উপরে নাই’; ‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে’; অথবা ‘যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে’। বাংলাদেশের শোক কিংবা আনন্দ সব অনুষ্ঠানেই কবিতা পড়া হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্টের শপথ অনুষ্ঠানে একজন কবি কবিতা পড়েন। পৃথিবীর সব সুন্দরের তুলনা একমাত্র কবিতা। যেমন— নিটোল কিশোরীটি কবিতার মতো, উপন্যাসটি যেনো মহাকাব্য, ৭ই মার্চের ভাষণটি একটি মহৎ কবিতা এ রকম। তাই কবিতার ভবিষ্যৎ মোটেই ঝুঁকিপূর্ণ নয়। কবিতার শক্তি ও ভবিষ্যৎ সব সময়ই উজ্জ্বল।