• ঢাকা
  • শনিবার, ৩০ মে, ২০২০, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
প্রকাশিত: এপ্রিল ১, ২০২০, ১০:৩৫ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : এপ্রিল ২, ২০২০, ১১:৪৭ এএম

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস

বৈশ্বিক আধিপত্য বিস্তারেই জৈবিক মারণাস্ত্র হানে বিধ্বংসী চীন!

এস এম সাব্বির খান
বৈশ্বিক আধিপত্য বিস্তারেই জৈবিক মারণাস্ত্র হানে বিধ্বংসী চীন!

বিশ্বব্যাপী মহামারি প্রাদুর্ভাবের সহস্রাব্দ পুরানো ইতিহাস রয়েছে। যদি এমন আরো দু একটি আসে তাতে ক্ষতি কি? আর কে-ই বা এ ব্যাপারে সন্দেহ করতে যাবে যে, এবারো প্রকৃতিই তার বৈরীতার আগ্রাসন চালাচ্ছে না মহামারির প্রাদুর্ভাব ঘটিয়ে? এমন বহুদিক বিবেচনায় হয়তো বৈশ্বিক কর্তৃত্ব, দারিদ্র জনগোষ্ঠির পরিমান হ্রাস করে মাথাপিছু প্রবৃদ্ধির সূচক ঊর্ধ্বমুখী করার পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বীদের ঘরে ঘরে ঢুকে হানা দেয়ার মত- এক ঝাটকায় বহু সমস্যার সমাধান খুঁজে নিতেই কৃত্রিমভাবে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের মহামারি প্রাদুর্ভাব ঘটিয়ে মরণ খেলায় মেতে উঠেছে কোনো বৈশ্বিক পরাশক্তি। যার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে কোভিড-১৯ নামের মরণব্যাধির সংক্রমণ সৃষ্টিকারী জীবাণু সমৃদ্ধ শক্তিশালী কোনো জৈবিক ক্ষেপণাস্ত্রের। দোষটা অবলা প্রকৃতির ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে লুফে নিতে চাইছে বিশ্বের কাছে অজানা আর অপ্রত্যাশিত কোনো প্রাপ্তির সুযোগ।

বিশ্বের বহু রাষ্ট্রের প্রশান্তি আজ এমনই কফিনে অবরুদ্ধ

সম্প্রতি সারা বিশ্বের বুকের ভয়াবহ সংক্রমণ সৃষ্টিকারী  করোনাভাইরাস প্রসঙ্গে ঠিক এমনটাই দাবি তুলতে শুরু করেছেন বিশেষজ্ঞরা। আর সেক্ষেত্রে সবচেয়ে জোরেসোরে সামনে আসছে বিশ্বের যে দুইটি পরাশক্তির নাম, তার একটি যুক্তরাষ্ট্র আর অপরটি চীন। তবে যেহেতু চীনেই এই করোনাভাইরাসের প্রাণঘাতী হানা শুরু, তাই অধিকাংশের সহমর্মিতা পাচ্ছে তারাই আর সন্দেহের তীর ছুটছে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে। কিন্তু বর্তমানে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে যুক্তরাষ্ট্রের যে বিধ্বস্ত পরিস্থিতি তাতে করে অনুবীক্ষণযন্ত্রের নিচে চলে আসে চীন। এছাড়া দেশ দুটি আরো আগে থেকেই একে অপরকে এর জন্যে দোষারোপ করে আসছে। তবে অতি সম্প্রতি বিশ্বের স্বনামধন্য বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ সরাসরি করোনার জন্য চীনকেই দায়ি বলে দাবি করে বসেছেন। পক্ষান্তরে দায়মুক্তির জন্যে নিরন্তর আত্মপক্ষ সমর্থন করে যাচ্ছে লাল সেনাদের দেশটি। 

সেক্ষেত্রে বাস্তবতার নিরিখেই যাচাই করে দেখা যাক এই করোনাভাইরাস আসলেই চীনের উদ্ভাবিত সম্ভাব্য কোনো জীবাণু অস্ত্র কি না। আর হয়ে থাকলে, এই মানব সভ্যতা বিনাশী নরকের শয়তানের পৃষ্ঠপোষকতায় কেন নিবেদিত হলো তারা।

সম্প্রতি একাধিক বিশেষজ্ঞ মতামতের প্রেক্ষিতে বেরিয়ে এসেছে একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য। বলা হচ্ছে, বিশ্বব্যাপী মহামারির প্রাদুর্ভাব সৃষ্টিকারী অজ্ঞাত করোনাভাইরাসের স্রষ্টা খোদ চীন! বিশ্বব্যাপী অপ্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যেই যা অত্যন্ত শক্তিশালী একটি বায়োলজিক্যাল উইপন হিসেবে ব্যবহারের জন্য লালিত ছিলো চীনের উহান শহরে অবস্থিত জীবাণু অস্ত্রের গবেষণাগারে। বিশেষ করে মার্কিন অধ্যাপক ফ্রান্সিস বয়েলের দেয়া বিবৃতির প্রেক্ষিতে বিষয়টি আরো জোরের সঙ্গে উত্থাপিত হতে শুরু করে।

তবে অনেকেই বলছেন, মার্কিন অধ্যাপক চীনের বিরুদ্ধে বলবেন, সেটাই স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে তার এই দাবির নুন্যতম সত্যতা যাচাইয়ে খুঁজে দেখা যাক সংশ্লিষ্ট কিছু তথ্য। আর জেনে নেয়া যাক কিছু প্রশ্নের উত্তর।

করোনাভাইরাস: শি জিন পিংয়ের 'নরকের শয়তান'
চীনের উহান শহরে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরুর দিকে দেশটিতে সফর করেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদ্রস আধানম গেব্রেয়েসুস। সে সময় চীনকে সাহায্য করার কথা জানান হু মহাপরিচালক। বিপরীতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং জানিয়ে দেন, তাঁরা নিজেরেই এই শত্রুর বিরুদ্ধে লড়তে সক্ষম। আর সে সময় এই ভয়াল করোনাভাইরাসকে 'নরকের শয়তান' নামে আখ্যায়িত করেন তিনি। অনেকেই হয়তো বলবেন, আলোচ্য বিষয়ের সঙ্গে এর সম্পৃক্ততা কি? সম্পৃক্ততা আছে কি নেই তা যাচাই করার আগে এই 'নরকের শয়তান' বা 'ইয়াওঝি' সম্পর্কে একটু জানা দরকার।

চীনের সহস্রাব্দ প্রাচীন ধর্মতত্ত্ব ও লৌকিক গাঁথায় উল্লেখ পাওয়া যায় 'ইয়াওঝি' বা এই নরকের শয়তানের। এই নরকের শয়তানের সংক্ষিপ্ত পরিচয় অনেকটা এমন, নরকের শয়তান হচ্ছে স্বর্গ হতে বিতাড়িত এক প্রতিহিংসাপরায়ণ ও অভিশপ্ত পশুস্বত্তা। এই শয়তান চৈনিক ধর্মতত্ত্বের অন্যতম প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উপশাখা 'টাওইজম' বা 'ডাওইজম' চর্চার মাধ্যমে মহাক্ষমতাধর কালোযাদুর শক্তি প্রাপ্ত হয়। তার এই কালোশক্তি অর্জনের উদ্দেশ্য ছিল সকল সৃষ্টির উপর কর্তৃত্ব স্থাপন ও চির অমরত্ব অর্জন। এই তত্ত্বের যাজকদের ধর্মীয় দর্শনের মূল হচ্ছে, এরা 'প্রকৃতিবাদি'। অর্থাৎ সিদ্ধি লাভের মাধ্যমে এরা প্রকৃতির নিগুঢ় শক্তিকে আশ্রয় করে বিচরণ ও ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশে সক্ষম।

করোনার এই 'নরকের শয়তান' নামকরণের মাঝে এর প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্য যেমন চৈনিক পুরাণের সেই ডাওতত্ত্বের উপাসক শয়তানের সঙ্গে মিলে যায়; তেমনি চীন যে উদ্দেশ্যে এই সম্ভাব্য জৈব অস্ত্র প্রয়োগ করেছে বলে বিশেষজ্ঞদের দাবি, সেই বৈশ্বিক আধিপত্য ও অমরত্ব অর্জনের বিষয়টিও কিন্তু বেশ পরিষ্কারভাবে ফুটে ওঠে এই নামের মাঝে। তবে কি বুঝেশুনেই করোনার এই নামকরণ করেছেন পিং? ইতিহাস বলে, বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলোর মাঝে উদ্ভাবিত এমন শক্তিশালী মারণাস্ত্রের নামকরণের ঐতিহ্য বেশ পুরাতন।

করোনাকে মহামারি আখ্যা দিয়ে ইতিমধ্যে এর মোকাবিলায় নেমেছে বিশ্বের দেশগুলো। তবে আধুনিক বিজ্ঞান ও সভ্যতার সকল প্রতিরোধ গুড়িয়ে দিয়ে ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইতালি, স্পেন, জার্মান, ফ্রান্সসহ ইউরোপের একাধিক শক্তিশালী দেশকে রীতিমত মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত করেছে 'অত্যাধুনিক' করোনাভাইরাস। যার প্রতিষেধক আবিষ্কারে এখনও নিষ্ফল বিজ্ঞানের সকল সামর্থ্য।

চলমান এই পরিস্থিতির মাঝেই ‘জিওপলিটিক্স অ্যান্ড এমপায়ার’কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন অধ্যাপক ফ্রান্সিস বয়েলের দাবি, ‘করোনা আসলে চীনের তৈরি একটি জৈব অস্ত্র এবং যা তৈরি হয়েছে বায়োসেফটি লেভেল ফোর ল্যাবরেটরিতে।’ ওই গবেষক জানান, চীনের এই জৈব অস্ত্র নির্মাণের খবর অজানা নয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থারও। তারা জানতো, চীনে এমন ‘বায়োলজিক্যাল ওয়েপন’ তৈরি করছে, এমনই বিস্ফোরক দাবি বয়েলের।

তিনি আরও জানান, চীন এই মারাত্মক এবং আক্রামণাত্মক জৈব অস্ত্র বিশেষ উদ্দেশ্যে ব্যবহারের জন্যই তৈরি করেছে। আর সেকারণেই করোনাভাইরাসের বিষয়টি যথাসম্ভব ধামাচাপা দেয়ারও চেষ্টা করছে চীন। সঙ্গে পর্যাপ্ত পরিমাণ ব্যবস্থাও নেয়া হচ্ছে কমিউনিস্ট দেশের পক্ষে। এখানেই শেষ নয়। সামুদ্রিক খাবারের বাজার থেকে এই ভাইরাস ছড়িয়েছে বলে যে খবর গোটা বিশ্বে সম্প্রচারিত হয়েছে, তাও নস্যাৎ করে দিয়েছেন তিনি। কোনও বাজার তো নয়ই এমনকি কোনও পশুপাখির থেকেও এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার খবর হলপ করে কেউ বলতে পারছে না। আর সেকারণেই করোনা ভাইরাসের উৎপত্তি নিয়ে তন্নতন্ন করে খোঁজার পরেও বাদুর, সাপ, সামুদ্রিক মাছ কাউকেই দাড় করানো যায়নি অপরাধীর কাঠগড়ায়।

ফ্রান্সিস বয়েলের সঙ্গে কার্যত সহমত হয়েই লেখক জে আর নিকোয়েস্টও একই দাবি করেছেন। তিনি বলেন, কানাডা থেকে করোনাভাইরাস চুরি করে চীন এটাকে মারণাস্ত্রে পরিণত করেছে।

ড. বয়েলেরও দাবি ছিল, কানাডায় উইনিপেগের যে ল্যাবে করোনা নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা চলছিল, সেখানে ছিলেন চীনা এজেন্টরা। তারাই ওই ল্যাব থেকে এই ভাইরাস পাচার করে।

এদিকে মাত্র কয়েকদিন আগেই ইসরায়েলের একজন সামরিক গবেষক ড্যানি শোহাম দাবি করেছেন, চীনের এক গবেষণাগার থেকে বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টিকারী করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। তার দাবি, ওই গবেষণাগারে গোপনে জৈব রাসায়নিক অস্ত্র বানায় বেইজিং।
ড্যানি শোহাম ইসরায়েলের সামরিক গোয়েন্দাবাহিনীর একজন সাবেক কর্মকর্তা। চীনের জৈব রাসায়নিক মারণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে গবেষণা করেছেন তিনি। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বব্যাপী জীবাণু ও রাসায়নিক অস্ত্র নিয়ে ইসরায়েলের কর্মসূচির উচ্চপদস্থ বিশেষজ্ঞ ছিলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদমর্যাদার শোহাম। তার দাবি, জৈব রাসায়নিক অস্ত্র তৈরির গোপন কর্মসূচি চলা একটি ইনস্টিটিউট থেকে প্রাণীবাহী করোনা ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়েছে।

পাশাপাশি  এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে যেগুলো বিবেচনা করলে চীনই যে এই বৈশ্বিক মহামারির স্রষ্টা, সে দাবি বেশ জোরালো হয়ে ওঠে। যেমন, করোনা সম্পর্কে আগাম বার্তা প্রদানকারী সেই চীনা চিকিৎসকের ওপর চীন সরকারের বল প্রয়োগ ও পরবর্তিতে তার রহস্যজনক মৃত্যু, প্রায় ৬ মিলিয়ন মানুষের নিরুদ্দেশ হয়ে যাওয়ার মত ভুতূড়ে তথ্য, একাধিক অনুসন্ধানী সাংবাদিক গুম হওয়ার ঘটনাসহ এমন আরো অনেক বিষয়।
  
এই তো গেল সাম্প্রতিক সময়ের কথা। এবার ঘুরে আসা যাক অতীত থেকে। দেখা যাক সেখানে এমন কোনো তথ্য আছে কিনা যা এই সম্ভাবনাকে যৌক্তিক সূত্রতা দিতে পারে। আর সেইক্ষেত্রে প্রথমেই আলোচনায় আসবে প্রখ্যাত লেখ ডেন কয রচিত 'দ্য আইজ অব ডার্কনেস (The Eyes of Darkness)" নামক একটি বইয়ের কথা।

১৯৮১ সালে প্রকাশিত এই বইটির ৩৫৩ থেকে ৩৫৬ নম্বর পৃষ্ঠায় করোনাভাইরাস সম্বন্ধে আলোচনা করা হয়েছে। বইটিতে লেখা রয়েছে, করোনাভাইরাস চীনের হুবেই প্রদেশের উহান অঞ্চলের একটি গোপন ল্যাবরেটরিতে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে। পরবর্তীকালে চীন এটি ব্যবহার করবে সম্ভবত দুই দাপে। প্রথমত সে দেশের গরীব জনগণকে হত্যা করতে। করোনা-র কারণে চীনের বহু দরিদ্র মানুষ মারা যাবে। যার ফলে দেশ থেকে গরিবী হটানো যাবে এবং চীন বিশ্ব-দরবারে নিজেকে সুপার পাওয়ার হিসাবে প্রতিষ্ঠা করতে কয়েক ধাপ এগিয়ে যাবে। এর সংক্রমণে কর্মক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে এমন বৃদ্ধদের মৃত্যুই হবে বেশি। অর্থাৎ যারা জাতীয় উপার্জনে ভূমিকা রাখতে পারে না।
বইটিতে ভাইরাসটির নাম দেয়া হয়েছে "উহান-৪০০" ভাইরাস হিসাবে। এই '৪০০'র একটা ছোট্ট ব্যাখ্যা এমন হতে পারে যে, '২০x২০= ৪০০'।

দ্য আইজ অব ডার্কনেস

বইটিতে আরো লেখা রয়েছে, ভবিষ্যতে চীন এই ভাইরাসকে "বায়োলজিকাল মারণাস্ত্র" হিসাবে ব্যবহার করবে। তবে এই বইয়ের তথ্যের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, করোনাভাইরাসের ব্যাপারে ধারনা দেয়ার দাবিটি সঠিক নয়। সেক্ষেত্রে 'উহান-৪০০'-এর বর্ণনার সঙ্গে করোনা বৈশিষ্ট্যের তুলোনামূলক একটি বিশ্লেষণ উপস্থাপন করে এই দাবি করে রয়টার্স।  প্রতিবেদনে করোনা সংক্রান্ত ইস্যুতে চীনের সম্পৃক্ততার বিষয়টিও অগ্রহণযোগ্য বলে ধারণা দেয়া হয়। এতে বলা হয় যে, লেখক একটি কাল্পনিক মতবাদ উপস্থাপনের প্রেক্ষিতে এই 'উহান-৪০০' জীবাণু মারণাস্ত্রের ধারণা দিয়েছেন বইটিতে। রয়টার্সের এই দাবি সত্য। তবে তার চেয়ে বড় সত্য হচ্ছে যা কিছু সম্পর্কে মানুষের কোনো ধারণাই নেই,তা নিয়ে মানুষের পক্ষে কল্পনাও করা সম্ভব নয়।

রয়টার্সের সেই প্রতিবেদনটি যেমন বিচক্ষণতার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে এমন তথ্য জানিয়েছে। তেমনি এর মাঝে এমন কিছু রয়েছে যা করোনার পৃষ্ঠপোষকতায় চীনা সম্পৃক্ততার ক্ষেত্রে ডেন কযের বিবৃতিকে যৌক্তিক এবং গ্রহনযোগ্য বলে বিবেচনা করতে বাধ্য করে। যেমন- কযের মতে দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠী হ্রাসে প্রথম দফা এই জীবাণু অস্ত্রের প্রয়োগ ঘটাবে চীন। সাম্প্রতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে জানা যায়, করোনাভাইরাসের ভয়াল উত্থান শুরু হয় চীনের হুবেই প্রদেশে অবস্থিত উহান শহর থেকে। এতে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটে জিনজিয়াং ও হুবেইতে। আর গুগলসহ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সূত্রের তথ্য বলছে, বর্তমান চীনের সবচেয়ে দরিদ্রতম অঞ্চলগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে এই জিনজিয়াং ও হুবেই প্রদেশ।

করোনা মোকাবিলায় ন্যানোম্যাটেরিয়াল ব্যবহার করবে চীন

এছাড়া এক্ষেত্রে এমন আরো বেশ কয়েকটি বিষয় আজো রহস্য আবৃত রয়ে গেছে যেগুলো নিয়ে প্রশ্ন তুললে ক্রমেই 'করোনা-চীন' সম্পর্ক গভীরতার দিকেই ধাবিত হয়। সেক্ষেত্রে প্রথমত প্রশ্ন আসে, অজ্ঞাত এই ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাবের সম্ভাব্যতা সম্পর্কে আরো প্রায় এক থেকে দেড় বছর আগে চীনকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হুঁশিয়ার করার পরেও কেন তারা তৎপর হয়নি? দ্বিতীয়ত, করোনা সম্পর্কে প্রথম ধারণা প্রদানকারী সেই প্রয়াত চিকিৎসককে কেন চীনের সেনা কর্মকর্তাদের চাপের মুখে বিবৃতি প্রত্যাহার করতে বাধ্য করা হয়েছিল? যেখানে কিনা তার কথাই সত্য প্রমাণ হলো। তৃতীয়ত, মহামারির প্রাদুর্ভাব শুরু হলে যেকোন রাষ্ট্রই সর্বোচ্চ জাতীয় স্বার্থের কথা বিবেচনা করে মরিয়া হয়ে ওঠার কথা সেখানে চীন সরকার কেন এত নিরব হয়ে ছিল? 'লোহা লোহা কাটে' - কোনো ওষুধ বা ভ্যাকসিনের কথা না ভেবে কেন ন্যানোজাইমস সমৃদ্ধ ন্যানোম্যাটেরিয়াল পার্টিকেলস ব্যবহারে করোনা ধ্বংসের তত্ত্ব অবলম্বন করতে যাচ্ছে চীন?

পৃথিবীর যেকোন প্রান্তে বিপর্যয় সৃষ্টি হলে যেখানে আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীর সহযোগিতা না পেলে ওঠে হাজার অভিযোগ, সেখানে চীনের করোনা পরিস্থিতির অবনতির সময় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলেও চীন কেন বিস্ময়করভাবে তা বার বার প্রত্যাখ্যান করে? কী এমন ছিল যা আড়াল করার অব্যাহত চেষ্টা চালায় চীন!

এমন আরো অনেক প্রশ্নই দিকহীন গন্তব্যের দিকে ধাবিত করে অনুসন্ধানের প্রবাহকে। হয়তো সেগুলোর উত্তর আজ জানা নেই। কিন্তু ইতিহাস বলে, পৃথিবীর বুকে এমন অজানা বহু সত্যের অকাল 'সত্যদাহ' ঘটলেও কোনো না কোনো এক সময় সেই পরিত্যক্ত ভস্ম থেকে বেরিয়ে এসেছে প্রকৃত তথ্য। সময় যেন ঠিক সমুদ্রেরর মত। তার অতল গহ্বরে যা কিছুই নিক্ষেপিত হোক কোনো না কোনো একদিন তা ঠিকই পাড়ে এসে ভিড়বেই। হয়তো এই প্রজন্ম নয় তবে কোনো এক প্রজন্মের হাতে হয়তো একদিন ঠিকই প্রাণঘাতীএই করোনা রহস্যের সত্যতা উদঘাটিত হবেই হবে।

সর্বশেষ তথ্য মতে, বিশ্বে মোট ৯ লাখ ২ হাজার ৭১৫ জন মানুষ প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। এদের মাঝে মৃত্যু হয়েছে ৪৫ হাজার ৩০৯ জনের। এছাড়া সংক্রমণ প্রতিরোধে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে বিশ্বের প্রায় এক-চতুর্থাংশ মানুষ।

এসকে

তথ্যসূত্র- উইকিপিডিয়া, দ্য আইজ অব ডার্কনেস, ওয়ার্ল্ডোমিটার

আরও পড়ুন