• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৯, ৩ কার্তিক ১৪২৬
প্রকাশিত: এপ্রিল ১৮, ২০১৯, ০৩:৫৬ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : এপ্রিল ১৮, ২০১৯, ০৩:৫৬ পিএম

চবিতে প্রাণিবিদ্যা বিভাগে শিক্ষক নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা

জাগরণ প্রতিবেদক 
চবিতে প্রাণিবিদ্যা বিভাগে শিক্ষক নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে হাইকোর্ট। বৃহস্পতির (১৮ এপ্রিল) বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদেশে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষা বাতিলপূর্বক পুনরায় পরীক্ষা নিতে প্রার্থী মো. এমদাদুল হকের আবেদন দুই সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে উপাচার্যকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। 
 
আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।

আদালত থেকে বের হবার পর জ্যোতির্ময় বড়ুয়া সাংবাদিকদের বলেন, গত ২৭ মার্চ প্রাণিবিদ্যা বিভাগে প্রভাষক পদে নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা দেয়ার জন্য মো.এমদাদুল হক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যান। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে গিয়ে পৌঁছানোর পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতজন শিক্ষার্থী তার গতিরোধ করে। এখান থেকে তাকে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের কোনায় নিয়ে গিয়ে তার কাছ থেকে টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর করা হয়। পরে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় প্যাগোডায় নিয়ে গিয়েও মারধর করা হয়।এক পর্যায়ে তাকে পুলিশে সোপর্দ করে বলা হয় যে, তিনি শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও ভিসিকে জানিয়েছে। কিন্তু প্রক্টর ও ভিসি কোনো রকমের পদক্ষেপ নেননি। তারপর তার নিরাপত্তার কথা ভেবে পুলিশ তাকে হাটহাজারী থানায় নিয়ে গিয়ে লকাপে রাখে ৫টা পর্যন্ত। এরপর ৫টার সময় ওসি এসে পুরা ঘটনাটি শুনে দুঃখ প্রকাশ করেন। মারধর করে এমদাদুল হকের গায়ের কাপড় ছিঁড়ে ফেলা হয়েছিল। থানার ডিউটি অফিসার তার একটি শার্ট দেন। ৫টার দিকে ছাড়া পেয়ে এমদাদুলক হক তার এক বন্ধুর বাসায় চলে যান।

জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, এর দুদিন পর ৩০ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি বরাবরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন এবং অনুরোধ করেন যেন তিনি নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সুযোগ দেয়া হয়। এমদাদুল হক ২০১২-১৩ সালে প্রাণিবিদ্যা বিভাগ থেকে সিজিপিএ ৪.৮৮ পেয়েছেন। তার এই রেজাল্টের জন্য ২০১৫ সালে প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক দেন। এমন ভালো রেজাল্ট করার পরও একজন শিক্ষার্থী যদি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ না পায় এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।

এই ঘটনার কোনো সমাধান না পেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়। আজকে এ আবেদনটির শুনানি হয়েছে। শুনানি শেষে আদালত আদেশে বলেছেন, ৩০ মার্চ এমদাদুল হক যে আবেদনটি জানিয়েছিলেন ভিসি মহোদয়ের কাছে সেটি আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে বলেছেন এবং এই সময়ের মধ্যে কোনোভাবেই যেন প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রভাষকের দুটো খালি পদে যেন নিয়োগ প্রক্রিয়াটা সম্পন্ন না করা হয়, সেটার ওপর নিষেধাজ্ঞার আদেশ জারি করেছেন।

এমএ/বিএস 
 

Islami Bank