• ঢাকা
  • বুধবার, ১৭ জুলাই, ২০১৯, ২ শ্রাবণ ১৪২৬
Bongosoft Ltd.
প্রকাশিত: এপ্রিল ১৯, ২০১৯, ০৯:৫৪ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : এপ্রিল ২০, ২০১৯, ০২:২৬ পিএম

তারেকের ব্যাংক হিসাব জব্দ

বিচারিক আদেশের প্রতি কি সম্মান দেখাবে যুক্তরাজ্য?

মাহমুদুল আলম 
বিচারিক আদেশের প্রতি কি সম্মান দেখাবে যুক্তরাজ্য?
তারেক রহমান ও ডা. জোবাইদা রহমান

একাধিক মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার স্ত্রী জোবায়দা রহমানের নামে যুক্তরাজ্যের একটি ব্যাংকে থাকা ৩টি একাউন্ট জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন বাংলাদেশের একটি আদালত। এর পরিপ্রেক্ষিতে আইন ও আদালত অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে- এক দেশের আদালত অন্য দেশকে এমন আদেশ দিতে পারেন কি না? আবার অন্য দেশ তা মানতে বাধ্য কি না? 

এর পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ থেকে অবসরে যাওয়া বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী, সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি এ এম আমিন উদ্দিন ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শাহদীন মালিকের সঙ্গে দৈনিক জাগরণের কথা হয়। তাদের মতে এক দেশের সঙ্গে আরেক দেশের মিউচ্যুয়াল লিগ্যাল এসিসটেন্স চুক্তি থাকলে এমন আদেশ দেয়া যায়।

বাংলাদেশে বিচারপতি হওয়ার আগে যুক্তরাজ্য সরকারে চাকরি করে আসা ও উভয় দেশে আইন পেশায় যুক্ত থাকা শামসুদ্দিন চৌধুরী বলেন, (বাংলাদেশের) আদালত অবশ্যই এই আদেশ দিতে পারে। ইংল্যান্ডসহ কয়েকটি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সেরকম এরেঞ্জমেন্ট বা মিউচুয়াল লিগ্যাল এসিসটেন্স ট্রিটি (এমএলএটি) আছে। বিশ্বব্যাপী মানি লন্ডারিংয়ের বিষয়ে এক দেশ অন্য দেশকে এই বিষয়ে সহযোগিতা করে থাকে। তাছাড়া এটি তো প্রশাসনিক আদেশ নয়, বিচারিক আদেশ। বিচারিক আদেশের প্রতি একটা সম্মান তো থাকবেই।

তিনি বলেন, মানি লন্ডারিং বিষয়ে যুক্তরাজ্য-যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের অনেক বৈঠক হয়েছে। এ বিষয়ে তারা বাংলাদেশকে অনেক তথ্য দিয়েছে। এটি প্রত্যেকটা দেশেরই স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়।

অবসরে যাওয়ার পর ইংল্যান্ডে ল' কনসালটেন্ট হিসেবে আইন অনুশীলন অব্যাহত রাখা শামসুদ্দিন চৌধুরী এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, অন্য দেশের আদালত বিবেচনায় যদি যুক্তরাজ্যের কোনো প্রতিষ্ঠান এই আদেশ না মানে, তাহলে তো মুশকিল। সেক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের আদালতের আদেশ নিলে, সেটি তো আর তারা না মেনে পারবে না।

জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আমিন উদ্দিন বলেন, মানি লন্ডারিং দুনিয়াব্যাপী একটি সমস্যা। সবাই এ বিষয়ে সোচ্চার। সেদেশের এটর্নি জেনারেলের অফিস আশা করছি মিউচুয়াল লিগ্যাল এসিসটেন্সের আওতায় আমাদের আদালতের এই আদেশকে সম্মান করবে।

 আইনজীবী শাহদীন মালিক বলেন, এক দেশের সঙ্গে আরেক দেশের যদি আগে থেকেই মিউচুয়াল লিগ্যাল এসিসটেন্স চুক্তি থাকে, তাহলে আদালত এমন আদেশ দিতে পারে। তবে আমাদের দেশের আদালতের প্রতি যেহেতু আস্থা কম, সেহেতু আমাদের দেশের সঙ্গে ইউরোপ-আমেরিকা এমন চুক্তি করবে বলে আমার মনে হয় না।
                       
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তাঁর স্ত্রী জোবাইদা রহমানের নামে ইংল্যান্ডে থাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দে আদালতের আদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। তিনি বলেন, বিদেশে পুলিশের কর্মকাণ্ড ইন্টারপোলের মাধ্যমে হয়। 

আদালতের এই আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার লায়ন্স ক্লাবের এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, অর্থপাচার ইস্যুতে ধনী দেশগুলো দ্বিমুখী আচারণ করে। পাচার করা অর্থ ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে বিদেশিরা সহায়তা করে না। তাই দেশের বিচার বিভাগের কোনো সিদ্ধান্ত পশ্চিমা বিশ্বে বাস্তবায়ন করা কঠিন। তারেক রহমান ও তার স্ত্রীর ডা. জোবাইদা রহমানের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দের বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয় থেকে সহায়তা চাওয়া হলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নেবে বলেও তিনি জানান।

উল্লেখ্য, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার স্ত্রী জোবায়দা রহমানের নামে থাকা যুক্তরাজ্যের একটি ব্যাংকের ৩টি হিসাব জব্দের নির্দেশ দিয়েছে ঢাকার একটি আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এ আদেশ দেয়।
বুধবার (১৭ এপ্রিল) ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ কে এম ইমরুল কায়েশ এ আদেশ দেন, যা বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) প্রকাশ পেয়েছে।

দুদকের আইনজীবী মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর বলেন, আদেশটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ব্রিটেনের অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসে পাঠানো হবে। সেখানে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে পাঠিয়ে আদেশ কার্যকর করবেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক দুদক কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাজ্যের ব্যাংকটিতে তারেক রহমানের নামে দুটি এবং তার স্ত্রীর নামে একটি  হিসাব জব্দ করেছে আদালত। এসব ব্যাংক হিসাবে বাংলাদেশ থেকে সন্দেহজনক লেনদেন হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ব্রিটেনের ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (এফআইইউ) এসব ব্যাংক হিসাব আগেই জব্দ করেছে।

দুদকের অনুমতি (পারমিশন) মামলার আবেদনে বলা হয়, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দেশ থেকে অর্থ পাচার করে বিদেশে বিনিয়োগ করার অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, স্যানট্যান্ডার ব্যাংক ইউকে-তে পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠানের হিসাব থেকে তারেক রহমান এবং জোবায়দা রহমানের তিনটি ব্যাংক হিসাবে ৫৯ হাজার ৩৪১ দশমিক ৯৩ ব্রিটিশ পাউন্ড স্থানান্তর এফআইইউ, ইউকের নির্দেশে আটক আছে। ওই অর্থ তারা অন্যত্র হস্তান্তর বা রূপান্তর করার চেষ্টা করছেন। তাই বর্ণিত অর্থের বিষয়ে এখনই কোনো ব্যবস্থা না নিলে তা বেহাত হয়ে যেতে পারে।

যুক্তরাজ্যে থাকা তারেকের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের মাধ্যমে বিদেশে বিনিয়োগ সংক্রান্ত একটি অভিযোগের অনুসন্ধান করছে দুদক। সংস্থাটির উপ-পরিচালক আখতার হামিদ ভূঁইয়ার নেতৃত্বে এই অনুসন্ধান চলছে।

গত বছর অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচন ‘প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে’ আসা ‘দেড়শ কোটি টাকার’ একটি অংশ উদ্ধারের পর এর সঙ্গে তারেকের সম্পৃক্ততার দাবি করেছিল র‌্যাব।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান অর্থ পাচারের একটি মামলায় দেশের আদালতে দণ্ডিত। এছাড়া একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলা এবং জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় তার দণ্ড রয়েছে।

সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে গ্রেপ্তার হওয়ার এক বছর বাদে সরকারের নির্বাহী আদেশে মুক্তি নিয়ে চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে গিয়েছিলেন তারেক, তারপর থেকে স্ত্রী-মেয়েকে নিয়ে সেখানেই থাকছেন তিনি।

এমএ/ এফসি

Islami Bank
ASUS GLOBAL BRAND