• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৯, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৯, ০৪:২৬ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৯, ০৫:২১ পিএম

যুবলীগ নেতা জি কে শামীম ও খালেদ মাহমুদের ব্যাংক হিসাব জব্দ

জাগরণ প্রতিবেদক
যুবলীগ নেতা জি কে শামীম ও খালেদ মাহমুদের ব্যাংক হিসাব জব্দ
জি কে শামীম ও খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া - ফাইল ছবি
জি কে শামীমের হিসাবে ৩শ কোটি টাকার প্রমাণ পেয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে অভিযানে আটক যুবলীগ নেতা জি কে শামীম এবং খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে। সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের দুজনের ব্যাংক হিসাব জব্দ করে।  

জি কে শামীমের ব্যাংক হিসাবে প্রাথমিকভাবে ৩শ কোটি টাকার প্রমাণ পেয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সূত্র জানায়, রোববার সকালে জি কে শামীমের হিসাব থেকে টাকা উত্তোলনের জন্য বড় বড় অঙ্কের চেক কয়েকটি ব্যাংকে জমা পড়ে। এরপর ব্যাংকগুলো থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকে যোগাযোগ করে পরামর্শ চাওয়া হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক দুপুরের মধ্যেই নির্দেশনা জারি করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়, জি কে শামীম, তার স্ত্রী ও মা-বাবার নামে থাকা সব ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করতে হবে। এ-সংক্রান্ত সব তথ্য ৫ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাতে বলা হয়।

গত শুক্রবার র‍্যাব সদস্যরা অভিযান চালিয়ে জি কে শামীমকে তার ব্যক্তিগত কার্যালয় থেকে ৭ দেহরক্ষীসহ গ্রেফতার করেন। সেখান থেকে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা, ১৬৫ কোটি টাকার স্থায়ী আমানতের (এফডিআর) কাগজপত্র (তার মায়ের নামে ১৪০ কোটি), ৯ হাজার ইউএস ডলার, ৭৫২ সিঙ্গাপুরি ডলার, একটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং বিপুল সংখ্যক মদের বোতল জব্দ করা হয়।

এনবিআর সূত্র জানায়, এনবিআরের নিয়ন্ত্রণাধীন সিআইসি থেকে জি কে শামীম, তার স্ত্রী এবং মায়ের ব্যাংক হিসাব জব্দ করতে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন দফতরে চিঠি দেয়া হয়। সেই চিঠির ভিত্তিতে তাদের সমস্ত ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে। এর আগে এনবিআরের সিআইসি সেল তার কর ফাইল তদন্তে নামে।

এস এম গোলাম কিবরিয়া ওরফে শামীম নিজের নাম সংক্ষেপ করে বলতেন জি কে শামীম। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জি কে বিল্ডার্সের মালিক তিনি। জি কে শামীম নিজেকে যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সমবায়বিষয়ক সম্পাদক বলে পরিচয় দিতেন। অস্ত্র ও মাদক মামলায় জি কে শামীম এখন ১০ দিনের রিমান্ডে আছেন। পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত শনিবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত এই আদেশ দেন।

এদিকে, যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার ব্যাংক হিসাব জব্দ করার বিষয়ে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান বলেন, সন্ত্রাসী ও মানি লন্ডারিং বিষয়ে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ এলে বিএফআইইউ তা অনুসন্ধান করে। সম্প্রতি এসব অপরাধে যারা গ্রেফতার হয়েছেন তাদের হিসাবও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। অনুসন্ধানকালে তাদের হিসাবে টাকা জমা হবে কিন্তু উত্তোলন করতে পারবে না।

রাজধানীতে ‘ক্যাসিনো’ চালানোর অভিযোগে খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) অবৈধ অস্ত্রসহ আটক করে র‌্যাব। তার মালিকানাধীন ফকিরেরপুল ইয়ংমেনস ক্লাবে অভিযান চালিয়ে দুই নারীকর্মীসহ ১৪২ জনকে আটক করা হয়। ক্লাবে পাওয়া যায় মদ আর জুয়ার বিপুল আয়োজন। ২৪ লাখ টাকাও সেখান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। পরদিন খালেদ মাহমুদের বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক ও মানি লন্ডারিং মামলা করা হয়। এর মধ্যে মাদক ও অস্ত্র মামলায় ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। মামলার তদন্তভার দেয়া হয়েছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশকে।

এআই/ এফসি

আরও পড়ুন