• ঢাকা
  • বুধবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৯, ৮ কার্তিক ১৪২৬
প্রকাশিত: অক্টোবর ১০, ২০১৯, ০৬:০১ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : অক্টোবর ১০, ২০১৯, ০৬:০২ পিএম

আবরার হত্যা মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করা হবে : আইনমন্ত্রী 

নোয়াখালী সংবাদদাতা
আবরার হত্যা মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করা হবে : আইনমন্ত্রী 
গণমাধ্যমের সাথে কথা বলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক -ছবি : জাগরণ

আইন,বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির সকল ব্যবস্থা করা হবে। তিনি বলেন, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে যেই জড়িত থাকুক না কেন এবং তাদের পরিচয় যা-ই হোক না কেন সকলকে বিচারের আওতায় আনা হবে এবং ন্যায় বিচারের মাধ্যমে এই মামলার বিচার শেষ করা হবে। সরকার এই হত্যাকাণ্ডের বিচারের জন্য দ্রুত গতিতে তদন্তের ব্যবস্থা করেছে।

বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর)  নোয়াখালীতে ৬০ কোটি ৯২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ১০তলা বিশিষ্ট চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, মানুষ যাতে বিচারের জন্য পথে পথে না ঘোরে। মানুষ যেন ন্যায় বিচার পায়। ন্যায়-বিচার যেন শুধু মুখের বুলি না হয়। ন্যায়-বিচার যেন কাগজে দেখা যায়। সেই ব্যবস্থা সরকার করছে।

মন্ত্রী বলেন, সরকার চায় মানুষ দ্রুত বিচার পাক এবং বিচার না হওয়ার কারণে স্ট্রিট জাস্টিসের জন্ম না হোক।

গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য দেশের সকল আদালতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে এবং সেগুলো নিয়মিত মনিটরিং করা হবে।

আনিসুল হক বলেন, উচ্চ আদালতের একটি রায় অনুযায়ী দেশের নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা হয়ে বিচার বিভাগের পৃথকভাবে পথচলা শুরু হয় ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর। চলার শুরুতেই আদালতসমূহে বিশেষ করে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসিতে এজলাসের ব্যাপক অপ্রতুলতাসহ বিচারক সঙ্কট দেখা দেয়। এতে করে বিচারক, আইনজীবী ওবিচারপ্রার্থী জনগণ যেমন ভোগান্তির শিকার হতে থাকেন, তেমনি মামলার জটদিনের পর দিন বাড়তে থাকে। এমতাস্থায় ২০০৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার গঠন করেন এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং পৃথকীকরণকে সুদৃঢ় ও টেকসই করার জন্যবাস্তবমুখী বিভিন্ন পদক্ষেপ নেন। প্রথমেই এজলাজ সঙ্কট দূরীকরণের জন্য আদালত ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়। পাশাপাশি নতুন বিচারক নিয়োগের কার্যক্রম জোরদার করা হয়।

তিনি জানান, গত সাড়ে ১০ বছরে নতুন করে ১ হাজার ২৮ জন বিচারক নিয়োগ দেয়ার পরও অধস্তনআদালতের এজলাস সঙ্কট প্রায় পুরোটাই দূর করা সম্ভব হয়েছে। নোয়াখালীতে যে আদালত ভবন উদ্বোধন করা হলো তা আসলে বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের উন্নয়নের একটি খণ্ডচিত্র মাত্র। বর্তমানে বাংলাদেশের এমন কোনও সেক্টর খুঁজে পাওয়া যাবে না, যেখানে তার সরকারের উন্নয়নের ছোঁয়া লাগে নি।

তিনি বলেন, আমরা যদি বিচার বিভাগের কথাই বলি, তাহলে দেখা যাবে বৃটিশ আমল, পাকিস্তান আমল এবং জিয়াউর রহমান, এরশাদ ও খালেদা জিয়ার আমলে বিচার বিভাগের যে উন্নয়ন হয়েছে তার সবগুলো যোগ করলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের সময়কালের উন্নয়নের সমান হবে না।

এ সময় মন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন, উন্নয়ন একটি চলমান প্রক্রিয়া হলেও এই প্রক্রিয়া কিন্তু এমনিতেই চলে না, একে চালাতে হয়। এটিকে ভালভাবে চালাতে হলে অবশ্যই দক্ষ চালকের প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দক্ষ চালকের আসনে থাকার কারণেই বিচার বিভাগের এই অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে। কেবল সিজেএম আদালত ভবন নির্মাণের জন্যই বর্তমান সরকার ২ হাজার ৩৮৮ কোটি টাকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে এবং এ প্রকল্পের প্রায় ৮৫% ভাগ কাজ এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

নোয়াখালীর জেলা ও দায়রা জজ সালেহ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় নোয়াখালী ৪ ও ৬ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য যথাক্রমে একরামুল করিম চৌধুরী ও আয়েশা ফেরদাউস, জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্য ফরিদা খানম, আইন সচিব গোলাম সারওয়ার, যুগ্ম সচিব বিকাশ কুমার সাহা প্রমুখ বক্তৃতা করেন।

টিএইচ/এসএমএম

আরও পড়ুন