• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১৯, ৩০ কার্তিক ১৪২৬
প্রকাশিত: নভেম্বর ৬, ২০১৯, ০৯:৫৭ এএম
সর্বশেষ আপডেট : নভেম্বর ৬, ২০১৯, ০৯:৫৭ এএম

মালয়েশিয়া মামলাজট কমাতে পারলে বাংলাদেশ কেন পারবে না?

জাগরণ প্রতিবেদক
মালয়েশিয়া মামলাজট কমাতে পারলে বাংলাদেশ কেন পারবে না?
বক্তব্য দিচ্ছেন মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধান বিচারপতি জাকি বিন আজমী- ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধান বিচারপতি জাকি বিন আজমী আইনজীবীদের উদ্দেশ করে বলেছেন, মালয়েশিয়া মামলাজট কমাতে পারলে বাংলাদেশ কেন পারবে না? তিনি বলেন, মামলারজট কমাতে বিচারক ও আইনজীবীদের উদ্যোগ নিতে হবে। একটি মামলার বিচার নিষ্পত্তি করার পরই কেবল আরেকটি মামলা ধরতে হবে। মামলায় শুনানি মুলতবি করা যাবে না। এ পদ্ধতি অবলম্বন করে মালয়েশিয়ায় মামলাজট কমেছে।

মঙ্গলবার (০৫ নভেম্বর) বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের সঙ্গে মালয়েশিয়ার বিচারব্যবস্থা নিয়ে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ‘অভিজ্ঞতা বিনিময় শীর্ষক’ এ সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে এ প্রশ্ন তোলেন এবং মামলাজট কমানোর পদ্ধতিও তুলে ধরেন মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধান বিচারপতি। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের শহীদ সফিউর রহমান মিলনায়তনে এ সভা হয়।

বিচারপতি জাকি বিন আজমী বর্তমানে দুবাই আন্তর্জাতিক আর্থিক আদালতের প্রধান বিচারপতি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে মামলার জট কমাতে হলে বিচারকদের কাজে আইনজীবীকে সহযোগিতা করতে হবে। আদালতের সিদ্ধান্ত পছন্দ হোক আর না হোক তা মানতে হবে। বার ও বেঞ্চের পারস্পরিক সহযোগিতা ছাড়া মামলাজট কমানো সম্ভব নয়।

বিচারপতি বলেন, একটি মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করতে পারলে আইনজীবী নতুন মামলা ধরতে পারবেন। এভাবে তিনি অনেক মামলা করতে পারেন। ফলে তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ারও কোনো আশঙ্কা থাকে না।

বিচারপতি জাকি বিন আজমী বলেন, মালয়েশিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনা মামলায় মধ্যস্থতা পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। তবে এ পদ্ধতি গ্রহণের আগে সেখানে ভিকটিমের সম্মতি নেয়া হয়। এটার কারণে তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি হয়। সেখানে সব পক্ষই, এমনকি আইনজীবীরাও খুশি। বাংলাদেশেও এটা চালু করা গেলে আশা করি, বাংলাদেশ উপকৃত হবে।

তিনি বলেন, মামলার জট কমানো গেলে দেশের অর্থনীতি ও সামাজিক ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে প্রভাব পড়তে পারে। তার উদাহরণ মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর। ওই দুটি দেশ পারলে আশা করি বাংলাদেশও পারবে। এই প্রত্যাশা করছি। তবে এ জন্য বাংলাদেশের আইনজীবীদের মানসিকতায় পরিবর্তন আনতে হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বাংলাদেশের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী বলেন, বিচারপ্রার্থীদের ন্যায়বিচার পাইয়ে দিতে সহযোগিতার মানসিকতা দেখাতে হবে আইনজীবীদের। মামলা মুলতবি রাখার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

বিচারকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমরা বারের সিনিয়র সদস্যদের সম্মান করে থাকি। তিনি অন্য আদালতে ব্যস্ত থাকলে মামলা মুলতবি করি। এটাও পরিবর্তন হওয়া দরকার।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম আমিন উদ্দিনের সভাপতিত্বে সভায় জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কামাল হোসেন আন্তর্জাতিক সালিশি মামলায় তার অভিজ্ঞতা সংক্ষেপে তুলে ধরেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সমিতির সম্পাদক এ এম মাহবুব উদ্দিন।

এমএ/টিএফ
 

আরও পড়ুন