• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২০, ১০ মাঘ ১৪২৬

জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণগণনা

মুজিববর্ষ
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৫, ২০১৯, ০৮:৫৫ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : ডিসেম্বর ৫, ২০১৯, ০৮:৫৫ পিএম

শুনানি ছাড়াই কেটে গেল আপিল বিভাগের সাড়ে ৩ ঘণ্টা

জাগরণ প্রতিবেদক
শুনানি ছাড়াই কেটে গেল আপিল বিভাগের সাড়ে ৩ ঘণ্টা

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে কার্যত অচল হয়ে পড়েছিল প্রধান বিচারপতির এজলাসের কার্যক্রম। আদালত কক্ষের ভেতরেই বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের স্লোগানের মধ্যে কোনও মামলা না শুনেই নির্ধারিত সময়ে এজলাস ত্যাগ করেছেন বিচারপতিরা।

বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন ৬ বিচারপতি আপিল বেঞ্চে খালেদার জামিন আবেদনের শুনানি শুরু হয়।

শুনানির শুরুতে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আদালতকে জানান, খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য বিষয়ক রিপোর্ট তৈরি হয়নি। আরও কয়েকদিন সময় প্রয়োজন।

তখন এর বিরোধিতা করে খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সংকটাপণ্ন। তার আগে জামিনের ব্যবস্থা করুন।

এ অবস্থায় আপিল বিভাগ মেডিকেল রিপোর্ট দাখিলের জন্য ১১ ডিসেম্বর (বুধবার) এবং পরবর্তী শুনানির জন্য ১২ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) ধার্য করেন। তখন আদালতে অবস্থানরত বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা এ আদেশ মানি না মানি না বলে উচ্চস্বরে চিৎকার, চেঁচামেচি করতে থাকেন। আওয়ামীপন্থী আইনজীবীরা পাল্টা প্রতিবাদ করেন।

প্রধান বিচারপতি বারবার সবাইকে চুপ থাকতে বললেও তারপরও হট্টগোল চলতে থাকে।

হট্টগোলের মধ্যেই ৯টা ৫৫ মিনিটে প্রধান বিচারপতি অন্য ৫ জন বিচারপতি নিয়ে এজলাস ত্যাগ করেন। কোর্টে অবস্থান করতে থাকেন উভয়পক্ষের আইনজীবীরা। বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা থেমে থেমে এজলাস কক্ষেই স্লোগান দিতে থাকেন। কিছুক্ষণ পর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের নিয়ে এজলাস কক্ষ ত্যাগ করেন। অবস্থান করতে থাকে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা।

১১টা ৩৫ মিনিটে প্রধান বিচারপতি অন্য ৫ বিচারপতিকে নিয়ে আবারও এজলাসে এসে নিজ নিজ আসনে বসেন।

ডায়াসের সামনে এগিয়ে যান খালেদার আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। তিনি আদালতকে খালেদার জামিন শুনানির দিন এগিয়ে আনার অনুরোধ করেন।

তখন প্রধান বিচারপতি বলেন, ১২ ডিসেম্বরই এই মামলা শুনবো। তারিখ পরিবর্তন হবে না।

এ সময় বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা এজলাস কক্ষে যে আচরণ করেছেন, তা নজিরবিহীন। সবকিছুর সীমা থাকা দরকার। বাড়াবাড়ি করা উচিৎ নয়।

আবারও খালেদার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন ও ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন আপিল বিভাগকে অনুরোধ জানান। বলেন, খালেদার অবস্থা খুবই খারাপ। আপনারা জামিন শুনানির দিন এগিয়ে আনুন। প্রয়োজনে তার শারীরিক অবস্থা দেখতে আদালতে হাজির করুন।

অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সংকটাপণ্ন, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী গতকাল (বুধবার) বলেছেন, খালেদা রাজার হালে আছেন। তখন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা চিৎকার করে বলতে থাকেন সেইম! সেইম!

প্রধান বিচারপতি বলেন, যে যাই বলুক, তাতে কিছু আসে যায় না। আমরা কাগজ দেখে বিচার করবো।

প্রধান বিচারপতি আবারও বলেন, আমরা সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিয়ে খালেদার মামলা ১২ ডিসেম্বরই শুনবো।

হৈচৈ শুরু হয়। এ পর্যায়ে কোর্ট কর্মকর্তারা কার্যতালিকা অনুযায়ী সিরিয়াল ডাকা শুরু করেন।

এ সময় অ্যাটর্নি জেনারেল, ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপসসহ আওয়ামীপন্থী আইনজীবীরা আপিল বিভাগে প্রবেশ করেন।

এর মধ্যে ৯ নম্বর ক্রমিকের মামলার শুনানি শুরু হয়। ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কিউসি, ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস শুনানি করতে ডায়াসের সামনে আসেন। আবার হট্টগোল শুরু হয়। বিএনপির সিনিয়র আইনজীবীরা আদালত কক্ষ ত্যাগ করতে উদ্যত হন। জুনিয়র আইনজীবীরা একযোগে পথ রোধ করেন। পরে তারা আবার বসে পড়েন।

হট্টগোলের মধ্যে শুনানি করতে থাকেন আজমালুল হোসেন।

১২টা ১৫ মিনিটে বিএনপিপন্থী সব আইনজীবী দাঁড়িয়ে যান। ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ বলে এক যোগে স্লোগান দিতে থাকেন।  শুনানি বন্ধ করে বসে থাকেন ৬ বিচারপতি। খালেদার মুক্তির দাবিতে স্লোগান চলতে থাকে। এর মধ্যে সামনের কাতারে বসা আয়েশা আক্তার নামে এক আইনজীবী হাতজোর করে কেঁদে কেঁদে বিচারপতিদের উদ্দেশে বলেন, ‘আল্লাহর পরে আপনাদের স্থান, আপনারা খালেদাকে মুক্তি দিন। এর মধ্যে টানা স্লোগান চলতে থাকে। ঘড়ির কাঁটায় তখন ১টা ১৫ মিনিট। চলছে স্লোগান। আপিল বিভাগের সময় শেষ। উঠে দাঁড়ালেন ৬ বিচারপতি। কোনও মামলার শুনানি ছাড়াই আপিল বিভাগের কেটে গেল সাড়ে ৩ ঘণ্টা।

এমএ/এসএমএম 

আরও পড়ুন