• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১৫ ফাল্গুন ১৪২৬

জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণগণনা

মুজিববর্ষ
প্রকাশিত: জানুয়ারি ২০, ২০২০, ০৯:৩৫ এএম
সর্বশেষ আপডেট : জানুয়ারি ২০, ২০২০, ০৯:৫০ এএম

‘পরোয়ানা দিয়ে নিম্ন আদালত বেআইনি কাজ করেছে’

জাগরণ প্রতিবেদক
‘পরোয়ানা দিয়ে নিম্ন আদালত বেআইনি কাজ করেছে’
প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান

প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমানসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করতে নিম্ন আদালতের দেয়া নির্দেশনাকে ‘বেআইনি’ বলে উল্লেখ করেছেন আইনজীবী এম আমির-উল-ইসলাম। ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র নাইমুল আবরারের (১৫) মৃত্যুর ঘটনায় ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ওই আদেশ দেন।

রোববার (১৯ জানুয়ারি) বিকালে বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ মতিউর রহমান ও সহযোগী সম্পাদক আনিসুল হকসহ ৬ জনকে গ্রেফতার ও হয়রানি না করার নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে সোমবার জামিন আবেদনের ওপর পূর্ণাঙ্গ শুনানির জন্য সময় ধার্য করেন।

জামিন আবেদন করা অন্য ৪জন হলেন- কিশোর আলোর জ্যেষ্ঠ সহসম্পাদক মহিতুল আলম, প্রথম আলোর হেড অব ইভেন্ট অ্যান্ড অ্যাকটিভেশন কবির বকুল, নির্বাহী শাহ পরাণ তুষার এবং নির্বাহী শুভাশীষ প্রামাণিক। তাদের জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এম আমির-উল ইসলাম।

পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, গত ১৬ জানুয়ারি ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. কায়সারুল ইসলাম প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান, সাময়িকীটির সম্পাদক ও লেখক আনিসুল হকসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। নিম্ন আদালতের এমন নির্দেশনা ছিল বেআইনি।

তিনি বলেন, ঘটনার সময় তারা (৬ জন) কেউই ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। এছাড়া নাইমুল আবরারের বাবা (মোহাম্মদপুর) থানার ওসি সাহেবকে একটি চিঠি লিখেছিলেন। সেখানে যে তিনি ওই ঘটনাকে দুর্ঘটনা উল্লেখ করে কোনো মামলা করবেন না বলে জানিয়েছিলেন। তারপরও এ ধরনের একটা প্রসিকিউসন হয়েছে এবং সেই প্রসিকিউসনে আমরা যে ধরনের ইন্সট্রাকসন (গ্রেফতারি পরোয়ানা) পেয়েছি তাতে এটা আমাদের ম্যালাফাইডি প্রসিকিউশন বলে মনে হয়েছে।

এ মামলার ধারা জামিনযোগ্য ছিল। নিম্ন আদালতে গেলেও তারা জামিন পারতেন। কেন উচ্চ আদালতের আশ্রয় নিয়েছেন তারা (৬ জন)- এমন প্রশ্নের উত্তরে ব্যারিস্টার আমির বলেন, আমাদের কাছে মনে হয়েছে, এখানে একটা আইনের ভঙ্গ হয়েছে। নিম্ন আদালত বেআইনিভাবে কাজটা (পরোয়ানা জারি) করে তাদের (৬ জন) ব্যক্তি স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ করেছেন। সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে গ্যারান্টিড রাইটগুলোর মধ্যে হস্তক্ষেপ করেছে এ নির্দেশনা। তাই তারা উচ্চ আদালতে এসেছেন। তাছাড়া উচ্চ আদালতে আসা তাদের একটা অধিকার।

মামলাটি ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে আপনার মনে হয়েছে কি না- সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি সেটা বলতে চাই না। আদালত সোমবারের শুনানিতে কী বলেন আমরা সেটার জন্য অপেক্ষায় থাকব।

জামিন শুনানির সময় আদালতে হাজির ছিলেন প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান, সহযোগী সম্পাদক আনিসুল হক, কিশোর আলোর জ্যেষ্ঠ সহসম্পাদক মহিতুল আলম, প্রথম আলোর হেড অব ইভেন্ট অ্যান্ড অ্যাকটিভেশন কবির বকুল, নির্বাহী শাহ পরান তুষার ও নির্বাহী শুভাশীষ প্রামাণিক।ৎ

গত ১৬ জানুয়ারি ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. কায়সারুল ইসলাম প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

এর আগে,  নাইমুল আবরার নিহত হওয়ায় কিশোর আলো কর্তৃপক্ষের অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেছে মর্মে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল আলিম এ প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদন আমলে নিয়ে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. কায়সারুল ইসলাম গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

এমএ/একেএস

আরও পড়ুন