• ঢাকা
  • সোমবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২০, ৭ মাঘ ১৪২৬

জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণগণনা

মুজিববর্ষ
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৬, ২০১৯, ০২:০১ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : ডিসেম্বর ৬, ২০১৯, ০২:১৮ পিএম

একাত্তরের ৬ ডিসেম্বর : হানাদার মুক্ত হয় ৬ জেলা

এস এম সাব্বির খান
একাত্তরের ৬ ডিসেম্বর : হানাদার মুক্ত হয় ৬ জেলা
মেহেরপুরে অবস্থিত মুজিবনগর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কমপ্লেক্সের একটি স্থাপত্য- ছবি: সংগৃহিত

চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের মাত্র ১০ দিন পূর্বে এই দিনে- দখলদার পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে রণাঙ্গণে বিজয় নিশ্চিত করে দেশের ৬ জেলার দুর্বার মুক্তিবাহিনী। বিজয়ের চূড়ান্ত লগ্ন  না হলেও ১৯৭১ সালের ৬ই ডিসেম্বর ছয়টি জেলায় ওড়ানো হয় লাল সবুজের বিজয় নিশান।

একাত্তরের এই দিনে  হানাদার মুক্ত হয় ফেনী, হবিগঞ্জ, যশোর, কুড়িগ্রাম, মেহেরপুর জেলা এবং শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলা। চূড়ান্ত বিজয় না হলেও, সেদিন এই জেলাগুলোয় ওড়ানো হয় স্বাধীন বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা। রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম শেষে বিজয়ের নিশান উড়িয়ে উল্লাস করে স্বাধীনতাকামী বাঙালিরা।

মুজিবনগর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কমপ্লেক্সের একটি ভাস্কর্যে পাক বাহিনীর আত্মসমর্পণের দৃশ্য 

 ঘটনা প্রবাহ
ফেনী অঞ্চলের মুক্তিবাহিনীর  অধিনায়ক ক্যাপ্টেন জাফর ইমামের নেতৃত্বে নানা অভিযানে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে পাক হানাদার বাহিনী। দিশেহারা হয়ে ৫ই ডিসেম্বর রাতে কুমিল্লার দিকে পালিয়ে যায় হানাদাররা। পরের দিন ৬ই ডিসেম্বর সকালে জাফর ইমামের নেতৃত্বে সার্কিট হাউজের সামনে স্বাধীন বাংলার পতাকা উড়িয়ে  আনন্দ মিছিল বের করেন মুক্তিযোদ্ধারা।

১৯৭১ এর ৩রা ডিসেম্বর এক নম্বর প্লাটুন কমান্ডার আব্দুস শহীদের নেতৃত্বে হবিগঞ্জের বাহুবলে অবস্থান নেয় ৩৩ মুক্তি ফৌজ। কয়েক ভাগে বিভক্ত হয়ে পাক বাহিনীর ক্যাম্পগুলোতে হামলা চালান। ৬ই ডিসেম্বর ভোরে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয় পাক বাহিনী। পরে, স্বাধীন দেশের পতাকা উঁচিয়ে পুরো শহর প্রদক্ষিণ করেন মুক্তিযোদ্ধারা।

অপরদিকে, মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর যৌধ অভিযানে টিকতে না পেরে যশোর থেকে ৫ ও ৬ই ডিসেম্বর পাকবাহিনী পালিয়ে যায় খুলনার দিকে। ৬ই ডিসেম্বর দুপুরে জেলায় ওড়ে লাল-সবুজ পতাকা।

এছাড়া, ১৯৭১ সালের এই দিনে হানাদার মুক্ত হয় উত্তরের জেলা কুড়িগ্রাম। জেলা শহরে পাকসেনাদের ঘাঁটিতে মিত্র বাহিনীর বিমান হামলার পাশাপাশি অভিযানের নেতৃত্ব দেন
৬ নম্বর সাব সেক্টরের কোম্পানি কমান্ডার মোহাম্মদ আব্দুল হাই সরকার বীরপ্রতীক।

তিনি বলেন, 'বিমান বাহিনী কুড়িগ্রামের অবস্থানরত পাক হানাদের ওপর আক্রমণ চালাতে থাকে। এরসঙ্গে যোগ দেন মুক্তিযোদ্ধারা। পরে, টিকতে না পেরে বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে মুড়িগ্রাম শহর ছেড়ে পালিয়ে যায় পাক বাহিনী।'

১৯৭১ এ বঙ্গবন্ধুর ডাকে মুজিবনগর তথা মেহেরপুরের মানুষ প্রথম থেকেই মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তৎকালীন মহকুমা প্রশাসক তৌফিক এলাহি চৌধুরীর নের্তৃত্বে আনসার-মুজাহিদদের নিয়ে গড়ে তোলা হয় মুক্তিবাহিনী।

৫ই ডিসেম্বর মেহেরপুর মুক্ত করতে অবস্থান নেয় মুক্তিবাহিনী। ওইদিন রাতেই জেলা ছেড়ে পালিয়ে যায় পাক হানাদাররা। মুক্ত হয় মেহেরপুর। জয়বাংলা শ্লোগানে মুখরিত হয় চারদিক।

শেরপুরে ধানুয়া কামালপুর মিত্র বাহিনীর আক্রমণে পাক বাহিনী ৪ই ডিসেম্বর জেলার শ্রীবরর্দীর দিকে অবস্থান নিলে ১১নং সেক্টরের কর্ণেল আবু তাহেরের নেতৃত্বে মিত্র বাহিনী আক্রমণ করে। পরে, মিত্র বাহিনীর আক্রমণে ৬ই ডিসেম্বর ভোরে শ্রীবরর্দী থেকে পাক বাহিনী শেরপুর হয়ে জামালপুরে অবস্থান নেয়।  ওইদিন বীরপ্রতীক জহুরুল হক মুন্সি ও মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রেজ্জাক বিজয়ের পতাকা উত্তোলন করেন।

আরও পড়ুন