• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই, ২০২০, ১৮ আষাঢ় ১৪২৭
প্রকাশিত: মার্চ ৯, ২০২০, ০৩:৫১ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : মার্চ ৯, ২০২০, ০৩:৫১ পিএম

শেকড়ের টানে বাঙালির পাশে-৬

মুক্তিযোদ্ধা সহায়ক তহবিলে অনুদান দিতেন উত্তম কুমার

সবিশেষ
মুক্তিযোদ্ধা সহায়ক তহবিলে অনুদান দিতেন উত্তম কুমার
উত্তর কুমার

মু ক্তি যু দ্ধে র  সু হৃ দ

একাত্তরের সেই অগ্নিঝরা দিন। গোটা ভারতের লেখক, সাংবাদিক, সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবীর‍া সোচ্চার আমাদের মুক্তি সংগ্রামের পক্ষে। তারা সবাই ঐক্যবদ্ধ ‘মানবিক বোধ’ এর টানে। আবার অনেকের হৃদয়ে এই বোধের সঙ্গে ছিল মাটি ও শেকড়ের টান। এবারের অগ্নিঝরা মার্চে তাদের নিয়েই দৈনিক জাগরণ এর বিশেষ আয়োজন। আজ প্রকাশিত হলো ষষ্ঠ কিস্তি। লিখেছেন জাকির হোসেন

......

চলচ্চিত্রের শত ব্যস্ততার মধ্যেও উপমহাদেশের কিংবদন্তি নায়ক উত্তম কুমার দাঁড়িয়েছিলেন বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের পাশে। তিনি সব সময় মুক্তিযুদ্ধের খোঁজ-খবর রাখতেন। বাংলাদেশের শরণার্থীদের দুর্দশার কাহিনি শুনে ভীষণ বেদনার্ত হতেন চলচ্চিত্রের এই মহানায়ক। মুক্তিযোদ্ধা সহায়ক তহবিলে অনুদান দিতেন।

উত্তম কুমারের পূর্ব পুরুষদের আদিবাস যশোরে। যশোর থেকে তাদের পূর্বপুরুষরা প্রথম বসতি স্থাপন করে ২৪পরগনা জেলার বারাসাতে। তারপর কলকাতায়।

ছোটদের জন্মদিনে সুপ্রিয়াদেবীকে সাথে নিয়েই পার্টি করতেন ময়রা স্ট্রিটের বাড়িতে

উত্তম কুমারের জন্ম ১৯২৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ভবানীপুরের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে। পারিবারিক নাম অরুণ কুমার চট্টোপাধ্যায়। কলকাতা বন্দরে কেরানির চাকরি নিয়েছিলেন। কিন্তু ছোট থেকে নিজেকে বড়পর্দায়ই দেখতে চেয়েছিলেন অরুণ। সেই হাতছানিতে সাড়া দিয়েই অবশেষে স্টুডিও পাড়ায় পা রাখেন ভবানীপুরের অরুণ। পরে নাম বদলে হন উত্তম কুমার। প্রথম ছবি ‘মায়াডোর’ মুক্তি না পেলেও দমে যাননি উত্তম। পরপর আরও বেশ কয়েকটি ছবিতে অভিনয় করেছিলেন। কিন্তু একটিও চলেনি। শেষপর্যন্ত ‘বসু পরিবার’ থেকেই প্রথম সাফল্যের স্বাদ পেতে শুরু করেন উত্তম কুমার।

আদরের নাতনিকে কোলে নিয়ে ভবানীপুরের বাড়িতে

১৯৫৩ সালে মুক্তি পায় ‘সাড়ে চুয়াত্তর’। এর পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। বাংলা চলচ্চিত্রে শুরু হয় উত্তম যুগ। পাঁচ ও ছয়ের দশকে ‘হারানো সুর’, ‘পথে হল দেরী’, ‘সপ্তপদী’, ‘চাওয়া পাওয়া’, ‘বিপাশা’, ‘জীবন তৃষ্ণা’ ছবির মতো কালজয়ী সব ছবিতে তার অভিনয় আজও ভুলতে পারেননি সিনেমাপ্রেমিরা।

বেশ কয়েকটি হিন্দি চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছিলেন উত্তম কুমার। তার অভিনীত হিন্দি চলচ্চিত্রের মধ্যে ‘ছোটিসি মুলাকাত’, ‘অমানুষ’, ‘আনন্দ আশ্রম’ দর্শকদের মন কেড়েছে৷ ‘অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি’, ‘সন্ন্যাসী রাজা’য় উত্তমের লুক আজও প্রশংসিত।

কচি-কাঁচাদের সঙ্গে আড্ডা, সঙ্গে ছেলে এবং দুই ভাই

‘ওগো বধূ সুন্দরী’র শুটিং চলাকালীন ১৯৮০ সালের ২৪ জুলাই প্রয়াত হন উত্তমকুমার। ইহলোক ছেড়ে চলে গিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু আজও মনের ক্যানভাসে ভেসে ওঠে সদাহাস্য সরলতা মাখা মনে-প্রাণে বাঙালি উত্তম কুমারের মুখখানা।

জেডএইচ/এসএমএম

আরও পড়ুন