• ঢাকা
  • শনিবার, ০৪ এপ্রিল, ২০২০, ২০ চৈত্র ১৪২৬
প্রকাশিত: মার্চ ১৬, ২০২০, ০৭:৫৪ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : মার্চ ১৬, ২০২০, ০৭:৫৪ পিএম

শেকড়ের টানে বাঙালির পাশে-১১

যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতেন তরুণ কুমার

সবিশেষ
যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতেন তরুণ কুমার
স্ক্রিনশেয়ার করছেন দুই ভাই উত্তম কুমার ও তরুণ কুমার

মু ক্তি যু দ্ধে র সু হৃ দ

একাত্তরের সেই অগ্নিঝরা দিন। গোটা ভারতের লেখক, সাংবাদিক, সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবীরা সোচ্চার ছিলেন মুক্তি সংগ্রামের পক্ষে। তারা সবাই ঐক্যবদ্ধ ‘মানবিক বোধ’ এর টানে। আবার অনেকের মনে এই বোধের সঙ্গে ছিল মাটি ও শেকড়ের টান। এবারের অগ্নিঝরা মার্চে তাদের নিয়েই দৈনিক জাগরণ’র বিশেষ আয়োজন। আজ প্রকাশিত হলো ১১তম কিস্তি। লিখেছেন জাকির হোসেন

........

একাত্তরে ঘরে বসে থাকেননি খ্যাতিমান অভিনেতা তরুণ কুমার। তিনি প্রতিমুহূর্তে বাংলাদেশের যুদ্ধের অগ্রগতি বিষয়ে খোঁজ-খবর রাখতেন। যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শরণার্থী শিবিরের অসহায় মানুষকে সহযোগিতা করতে ওই সময় তিনি ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়মিত সহায়তা দিয়েছেন তিনি। তাদের হাতে পৌঁছে দিয়েছেন ওষুধপত্র। তরুণ কুমার দর্শনা সীমান্তে গিয়ে ওষুধপত্র পৌঁছে দিতেন মুক্তিযোদ্ধাদের। সঙ্গে নিয়ে যেতেন ডাক্তার। চিকিৎসার ব্যবস্থা করতেন যোদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি তিনি জীবনের কোনস্তরেই ভুলতে পারেননি। জীবনের শেষ দিনগুলোতেও তার স্মৃতিতে উজ্জ্বল ছিল কলিম শরাফী, জহির রায়হান, বেবি ইসলাম, সুভাষ দত্ত, আনোয়ার হোসেন, আলমগীর কবিরের কথা।

(বাঁ-থেকে) তরুণ কুমার, গৌরী দেবী (উত্তমের প্রথম স্ত্রী), সুব্রতা (তরুণের স্ত্রী) ও উত্তম কুমার

তরুণ কুমারের পূর্বপুরুষদের আদিবাস যশোরে। যশোর থেকে তাদের পূর্বপুরুষরা প্রথম বসতি স্থাপন করে ২৪পরগনা জেলার বারাসাতে। তারপর কলকাতায়। তরুণ কুমার বাংলা চলচ্চিত্রের মহানায়ক উত্তম কুমারের সহোদর। তার শ্বশুরবাড়ি বাংলাদেশের রাজবাড়ী জেলায়।

তরুণ কুমার এক বিরল প্রতিভাবান অভিনেতা। উত্তম কুমারের পাশে তিনি নিজের মুন্সিয়ানা বজায় রেখে দর্শকের কাছের মানুষ হয়ে ওঠেন। দুই ভাই স্ক্রিনশেয়ার করলে তা হতো এক একটা অসাধারণ দৃশ্য। তরুণ কুমার তার ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই তার জাত চিনিয়ে দেন। উত্তম কুমার মহানায়ক হলেও তার আগেই তরুণ কুমার জাতীয় পুরস্কার পান ‘দাদা ঠাকুর’ ছবির জন্য।

সস্ত্রীক তরুণ কুমার

উত্তমের ছায়াসঙ্গী ছিলেন ছোট ভাই তরুণ কুমার। উত্তম কুমারের অভিনয় ভালো লাগলে তিনি তাকে প্রণাম করতেন, আবার ভালো না লাগলে মুখের ওপর বলে দিতে অপছন্দের কথা। যেমন ‘অমানুষ’ ছবিতে উত্তম কুমারের অভিনয় দেখে তরুণ কুমার বলেছিলেন ‘তোমার অভিনয় আমার একদম ভালো লাগেনি। এমন অভিনয় তোমার কাছ থেকে আশা করিনি। এমন প্রগলভতা তোমাকে মানায় না দাদা।’

কিশোর কুমার (বাঁয়ে) ও তরুণ কুমার

তরুণ কুমার প্রায় ৬০০ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। তার উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রসমূহের মধ্যে রয়েছে- দায় দায়িত্ব, মনের মতো মন, রণক্ষেত্র, জীবন সন্ধান, দামু, সংঘর্ষ, পৃথিবীর শেষ স্টেশন, পেন্নাম কলকাতা, পতি পরম গুরু, অভাগিনী, নীলিমায় নীল, নবাব, রক্তঋণ, মহাপীঠ তারাপীঠ, অঘটন আজও ঘটে, তুমি কত সুন্দর, কিডন্যাপ, আবির, স্বর্ণময়ীর ঠিকানা, রাজ পুরুষ, নিশিবাসর, ডাক্তার বউ, স্বর্গ সুখ, তিল থেকে তাল, বৈকুণ্ঠের উইল, শোরগোল, সূর্য তৃষ্ণা, প্রতিদান, রাজেশ্বরি, সাগর বলাকা, সংসারের ইতিকথা, খেলার পুতুল, পাহাড়ি, ফুল, বন্ধন, পাকা দেখা, পঙ্খীরাজ, সন্ধি ইত্যাদি।

জেডএইচ/এসএমএম