• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৫ জুন, ২০২০, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
প্রকাশিত: এপ্রিল ৭, ২০২০, ০৬:৫০ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : এপ্রিল ১২, ২০২০, ০৫:৩২ পিএম

ষড়যন্ত্রের জালে বিপন্ন রাজনীতি-২৮ 

হিংস্র সমরনায়কের তাণ্ডব (ছয়)

আবেদ খান
হিংস্র সমরনায়কের তাণ্ডব (ছয়)

১৯৮০ সালের ১৭ জুন ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে আবার একটি অভ্যুত্থানের চেষ্টা হয়। এই অভ্যুত্থানের নায়ক হলেন লে. কর্নেল দিদারুল আলম। দিদারুলের পেছনে ছিল বঙ্গবন্ধুর ঘাতক সেই ফারুক-রশীদরা। বাংলাদেশের বাইরে বসে এবার তারা জিয়া হত্যা এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের পরিকল্পনা করে। তারা এই অভ্যুত্থানের নীলনকশাও তৈরি করে এবং সেটা বাংলাদেশের ভেতরে ছড়িয়ে দেয়।

সিদ্ধান্ত হয়, এবার শুধু ক্ষমতা দখল নয়, তাদের চিন্তা-ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হবে। শুধু সেনাবাহিনীই নয়, কতিপয় রাজনৈতিক দলকেও তাদের সঙ্গে নেয়ার কথা ভাবে।

এই রাজনৈতিক দল বলতে জাসদ এবং সমমনা দলগুলোকেই বঙ্গবন্ধুর ঘাতকরা বোঝাতে চেয়েছিল। অন্যদিকে মেজর পাশা বলেছিল এর সঙ্গে বামপন্থীদের সম্পর্কিত করা ঠিক হবে ন‍া। কারণ তার‍া ধর্ম বিশ্বাস করে না। কিন্তু বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী বলে সে উল্লেখ করে। আর তাই বাংলাদেশে তাদের রাজনৈতিক লক্ষ্য হওয়া উচিত ইসলামভিত্তিক সমাজবাদ।

জেনারেল জিয়া তখন লন্ডনে। বিদ্রোহীরা আক্রমণের একটি ছক আঁকলো। প্রথমে তারা গ্রেফতার করবে অফিসারদের। জিয়া যেহেতু দেশের বাইরে তাই তার স্থানে সেন‍াবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত প্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে তারা হত্যা করবে এবং দখল করবে ঢাকা বেতার কেন্দ্র

 ........‘’........ 

এরপর বঙ্গবন্ধুর ঘাতকদের কর্মকেন্দ্র ঢাকায় স্থানান্তারিত হয়। ডালিম ও পাশা সেনাবাহিনী ও রাজনৈতিক দলগুলোতে তাদের সমমনা লোকের খোঁজ করতে থাকে। সেনাবাহিনীতে গোপন সংগঠন গড়ার দায়িত্ব নেয় গোলন্দাজ বাহিনীর লে. কর্নেল দিদারুল আলম ও ইঞ্জিনিয়ার কোরের লে. কর্নেল নূরনবী খান। রাজনৈতিক দলগুলো সঙ্গে যোগাযোগের দায়িত্ব দেয়া হয় ঢাকা জগন্নাথ কলেজের ছাত্রনেতা কাজী মুনির হোসেন এবং বাংলাদেশের কৃষি ব্যাংকের প্রশিক্ষণরত অফিসার মোশারফ হোসেনের ওপর। জাসদের সঙ্গে মোশারফ হোসেনের বরাবরই যোগাযোগ ছিল।

লে. কর্নেল দিদারুল আলমের চেষ্টায় ঢাকা, সাভার ও কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টে সৈন্যদের মধ্যে বিদ্রোহীদের গোপন সংগঠন দ্রুত গড়ে ওঠে।

কিন্তু গোপন সংগঠনকে তো বেশি দিন গোপন রাখা যায় না। সংগঠন যত বাড়ে, তত বেশি এর কার্যক্রম ফাঁস হওয়ার শঙ্কা থাকে। তাই দিদারুল আলম চিন্তা করলেন ১৯৮০ সালের ১৭ জুন তাদের অভ্যুত্থানের দিনটা নির্ধারিত করা হবে।

জেনারেল জিয়া তখন লন্ডনে। বিদ্রোহীরা আক্রমণের একটি ছক আঁকলো। প্রথমে তারা গ্রেফতার করবে অফিসারদের। জিয়া যেহেতু দেশের বাইরে তাই তার স্থানে সেন‍াবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত প্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে তারা হত্যা করবে এবং দখল করবে ঢাকা বেতার কেন্দ্র।

যদি সৈন্যবাহিনীর অন্য কোনও ইউনিট থেকে তাদের বাধা আসে তাহলে সেই বাধা তারা বরদাস্ত করবে না। গুলি চালিয়ে তাদের বিধ্বস্ত করে দেবে। এরপরই গঠন করা হবে ‘বিপ্লবী পরিষদ’। সেই পরিষদের হাতেই তুলে দেয়া হবে দেশের শাসন ভার। নতুন বিপ্লবী পরিষদ সৈনিকদের দীর্ঘদিনের দাবি-দাওয়া মেনে নেবে।

কিন্তু এবারেও শেষ রক্ষা হলো না। সাধারণ সেপাইদের মধ্যে সম্ভাব্য বিপ্লব সম্পর্কে কোনও স্পষ্ট ধারণা ছিল না। তাই তারা এ ব্যাপারে গোপনীয়তা রক্ষা করার কোনও প্রয়োজনীয়তা বোধ করেনি। তারা প্রায় প্রকাশ্যেই বলাবলি করতে শুরু করে, “‌আগে বিপ্লবটা ঘটাতে দাও। তারপরই সব হিসেব-নিকেশ বুঝে নেয়া যাবে।”

অন্যদিকে সামরিক গোয়েন্দ‍ারা হাত-পা গুটিয়ে বসে নেই। তারা যথারীতি এসব খবর আগেই সংগ্রহ করেছিল। তবে গোয়েন্দারা নিশ্চিত হয়েছিল বিদ্রোহটি হতে যাচ্ছে ১৯৮০ সালের ২৬ মে। জনৈক সামরিক গোয়েন্দার হাতে পড়লো বিদ্রোহীদের প্রচারিত একটি ইশতেহার। সাধারণ সৈনিকরা এরফলে শঙ্কিত হয়ে পড়লো। তাদের মধ্যে একজন গিয়ে ধরলো সম্ভাব্য ওই বিদ্রোহের নেতা লে. কর্নেল দিদারুল আলমকে। বললো, “সবই তো ফাঁস হয়ে গেছে। কাজেই অভ্যুত্থানের তারিখটি আরও একট‍ু এগিয়ে আনুন। ১৭ জুনের বদলে আরও আগে একটা দিন।’’

দিদারুল কিছুক্ষণ ভাবলেন। তারপর বললেন, “বিপ্লবের কথাটা আপাতত কিছুদিনের জন্য তোমরা ভুলে যাও। সৈনিকরা আগে রাজনীতি সচেতন হোক, আরও ভালো করে প্রস্তুতি নিক, তারপরই বিপ্লবের কথা ভাবা যাবে।”

কিন্তু সাধারণ সৈনিকরা নাছোড়বান্দা। তাদের একদল এবার বললো অন্যকথা। বললো, জাসদ এখন দ্বিধা বিভক্ত। এক্ষেত্রে ক্ষমতা দখলের পর কারা নেবেন দেশ শাসনের ভার! কারা করবেন বিপ্লবী কর্মসূচি বাস্তবায়ন!

প্রতিনিধি দলের একজন প্রায় চেঁচিয়ে উঠলো। বললো, “লিবিয়ায় সাধারণ একজন সার্জেন্ট যদি বিপ্লবী সরকারের দায়িত্ব নিতে পারেন, তাহলে একজন লে. কর্নেল কেন পারবেন না?”

এ প্রশ্নের কোনও জবাব ছিল না লে. কর্নেল দিদারুল আলমের। তাই তিনি চুপ করেই রইলেন।

কিন্তু সাধারণ সৈনিকরা তাদের সিদ্ধান্তে অবিচল রইলো। তারা সিদ্ধান্ত নিল পূর্ব নির্ধারিত ১৭ জুনেই তারা আঘাত হানবে, ফল তার যা-ই হোক না কেন।

ঢাকা থেকে লন্ডনে পৌঁছে ঠিক ১২ দিন পর তোয়াব এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যার মূল আস‍ামি হলেন— জেনারেল জিয়াউর রহমান। তোয়াব বলেন, ১৯৭৫ সালের অক্টোবর মাসে লে. কর্নেল আবদুর রশীদ এবং লে. কর্নেল ফারুক রহমানের সঙ্গে আলোচনার পর তোয়াব এই সিদ্ধান্তে এসে পৌঁছেছেন বলে জানান। কারণ এই দুই অফিসার তাকে বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যা পরিকল্পনায় জেনারেল জিয়া যুক্ত ছিলেন।

 ........‘’........

শেষ পর্যন্ত তাদের এ জেদ টিকলো না। সংশ্লিষ্ট অফিসাররা এই বিদ্রোহ থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করলো। তা বুঝে, সাধারণ সৈনিকরা যে যেদিকে পারলো পালিয়ে গেলো। দলের নেতা লে. কর্নেল দিদারুল আলমও আত্মগোপন করলেন। কিন্তু ধরা পড়লেন ১৯৮০ সালের ১১ নভেম্বর। বঙ্গবন্ধুর অন্যতম ঘাতক আনোয়ার আজিজ পাশাকে তুরস্কের আঙ্কারা থেকে ঢাকায় ডেকে এনে আটক করা হলো।

এ ব্যাপারে জিয়া সরকার প্রথম অভিযোগ আনেন ৫ জনের বিরুদ্ধে। তাদের বিরুদ্ধে “বল প্রয়োগে সরকার উচ্ছেদ” এবং “সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি আনুগত্যে ভাঙন ধরানোর” অভিযোগ আনা হয়। কিন্তু ১৯৮১ সালের ১০ মার্চ সামরিক আদালতে মামলা দায়ের করা হয় মাত্র ৩ জনের বিরুদ্ধে। তারা হলেন— লে. কর্নেল দিদারুল আলম,  লে. কর্নেল নূরনবী খান এবং মোশারফ হোসেন।

ছাত্রনেতা কাজী মুনির হোসেন ও বঙ্গবন্ধুর ঘাতক আনোয়ার আজিজ পাশা তাদের অপরাধ স্বীকার করে দু’জনেই সরকারি সাক্ষী হয়। সেজন্য জিয়া সরকার তাদের মার্জনা করেন। তুরস্কে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে পাশার চাকরিটিও থাকে অব্যাহত।

২০ মে সামরিক আদালতে এই মামলায় রায় হয়।

আসামিদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও লে. কর্নেল দিদারুল আলমের ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড হয় আর মোশারফ হোসেন ও লে. কর্নেল নূরনবী খানের যথাক্রমে দুই বছর ও এক বছরের জেল হয়।

একজন তোয়াব

এবার আসা যাক এয়‍ার ভাইস মার্শাল এমজি তোয়াবের কথায়। ১৯৭৬ সালের ২৫ এপ্রিল মেজর ডালিমের সঙ্গে একই বিমানে ঢাকায় এসেছিলেন বলে আগে এক জায়গায় উল্লেখ করেছিলাম। তোয়াব ওই বিমানে দুবাই থেকে ঢাকা আসেন। তোয়াব পরে বলেন, তার সঙ্গে ডালিমের একই বিমানে ঢাকায় আসাটা কাকতালীয়ভাবে ঘটেছিল। তিনি জানতেন না ডালিমও একই বিমানে ঢাকা আসছেন। যাই হোক জিয়া এটাকে সহজভাবে গ্রহণ করেননি। কেননা জিয়া তাকে প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করতেন। জিয়া জানতেন তোয়াবের  পেছনে মুসলিম দেশগুলোর মদত আছে। তাই তোয়াব ওৎ পেতে আছেন। সুযোগ পেলেই ওইসব দেশের সহায়তায় তিনি ক্ষমতা দখল করবেন। জিয়াকে উৎখাত করবেন। তাই জিয়াও সুযোগ খুঁজছিলেন। কোনও একটা সুযোগ পেলেই তোয়াবকে তিনি দেশ থেকে বিদায় করবেন। 

আগেই বলেছি পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর তৎকালীন বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল এ কে খন্দকারকে সরিয়ে ফারুক-রশীদরা তোয়াবকে বিমানবাহিনীর প্রধ‍ান করেছিল। একসময় এই তোয়াব ছিলেন পাকিস্তান বিমানবাহিনীর একজন অফিসার। বিমান চালনার বিশেষ প্রশিক্ষণ নেয়ার জন্য পাকিস্তান সরকার তাকে পাঠিয়েছিল তৎকালীন পশ্চিম জার্মানিতে। সেখানে তিনি একজন জার্মান নারীর প্রেমে পড়েন। সে প্রেম পরিণত হয় পরিণয়ে। আর সেই সূত্রেই তোয়াব লাভ করেন পশ্চিম জার্মানির নাগরিকত্ব। সেখানকার নাগরিকত্ব পেয়েই তিনি পাকিস্তানের বিমানবাহিনীর চাকরি ছেড়ে দেন। চাকরি নেন পশ্চিম জার্মানির একটি বেসরকারি বিমান কোম্পানিতে। গ্রুপ ক্যাপ্টেন তোয়াব স্বাধীনতা যুদ্ধের পুরোটা সময় জার্মানিতে ছিলেন এবং মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে অনীহা প্রকাশ করেন। তোয়াবের সঙ্গে কর্নেল রশীদের বরাবরই একটা যোগাযোগ ছিল।

যেহেতু রশীদের সঙ্গে খন্দকার মোশতাকের একটা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিল কাজেই তোয়াবের সঙ্গে রশীদ বঙ্গবন্ধু হত্যার ব্যাপারটি কথা প্রসঙ্গে বুঝিয়েছিল এবং তিনি সেই পরিকল্পনার কথা জানতেন। আর সেজন্যই বিমানবাহিনীর প্রধান হিসেবে তোয়াবের ব্যাপারে খন্দকার মোশতাক কোনও আপত্তি করেননি। এ ব্যাপারে মোশতাকের ভূমিকা ছিল রহস্যজনক। অন্যদিকে সেনাবাহিনীর মধ্যে তোয়াবের কার্যকলাপে জিয়া বরাবরই অখুশি ছিলেন। ফলে তিনিও তাকে হটানোর সুযোগ খুঁজছিলেন। ১৯৭৬ সালের ২৮ এপ্রিল ফারুক, রশীদ ও ডালিমকে দেশ থেকে বিদায় করার পর জিয়া এয়ার ভাইস মার্শাল তোয়াবের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে আর কালক্ষেপণ করেননি। একদিন পরেই (১৯৭৬ সালের ৩০ এপ্রিল) তিনি তোয়াবকে বঙ্গভবনে ডাকেন। দুপুরের আগেই তিনি বঙ্গভবনে যান, বসেন অভ্যর্থনা কক্ষে। তখন সেখানে নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল এমএইচ খানসহ আরও কয়েকজন অফিসার উপস্থিত ছিলেন। কিছুক্ষণ পর জেনারেল জিয়া সেখানে আসেন। সঙ্গে প্রেসিডেন্ট সায়েম। তোয়াবের সঙ্গে কয়েকটি সাধারণ কথা বলার পর জিয়া পকেট থেকে একটি নোট বই বের করেন। নোট বইয়ের পাতায় চোখ রেখে তিনি বলেন, “ শুনুন মার্শাল সাহেব। আপনার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ জমা হয়েছে। সাম্প্রতিক বিদ্রোহে আপনি মেজরদের সমর্থন করেছেন। আপনি উগ্র মৌলবাদী, পাকিস্তানি আলবদর গোষ্ঠীর সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করেছেন। তৃতীয় অভিযোগ দুর্নীতির। একটি ৭০৭ বোয়িং বিমান কেনার সময় ১৫ লাখ ডলার পকেটস্থ করেছেন। আপনার বিরুদ্ধে আরও অনেক অভিযোগ আছে। সেগুলোর দীর্ঘ তালিকাও কি আপনাকে শোনাতে হবে?

জিয়ার কথা শেষ না হতেই তোয়াব ‘না, না, না’ বলে চেঁচিয়ে ওঠেন। বলেন, আপনার সব অভিযোগ মিথ্যে ও বানানো। জিয়া গলা চড়িয়ে প্রায় ধমক দিয়ে বলেন, “থামুন, এ নিয়ে বেশি ঘাটাতে যাবেন না। এর ফল ভালো হবে না।

পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর তৎকালীন বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল এ কে খন্দকারকে সরিয়ে ফারুক-রশীদরা তোয়াবকে বিমানবাহিনীর প্রধ‍ান করেছিল। একসময় এই তোয়াব ছিলেন পাকিস্তান বিমানবাহিনীর একজন অফিসার। বিমান চালনার বিশেষ প্রশিক্ষণ নেয়ার জন্য পাকিস্তান সরকার তাকে পাঠিয়েছিল তৎকালীন পশ্চিম জার্মানিতে। সেখানে তিনি একজন জার্মান নারীর প্রেমে পড়েন।

........‘’........

তোয়াব বলেন, বুঝেছি-আপনি আমাকে সরাতে চান। সেই কথাটাই পরিষ্কার করে বলেন না।

জিয়া-হ্যাঁ, তাই চাই। আপনার সঙ্গে আমার বনছে না।

তোয়াব-তাহলে আমায় পদত্যাগ করতে হবে তো?

জিয়া-শুধু পদত্যাগই নয়। আপনাকে দেশ ছাড়তে হবে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় একটি বাংলাদেশ বিমান লন্ডন যাচ্ছে। সেই বিমানে আপনাকে তুলে দেয়া হবে। এখান থেকে নড়বার কোনও চেষ্টা করবেন না। কোথাও যাবেন না।

তোয়াব-আপনি কি আমায় গ্রেফতার করছেন?

জিয়া-‍না, ঠিক গ্রেফতার নয়। তবে আমি চাই ওই বিমান যাত্রা শুরু না হওয়া পর্যন্ত আপনি এখানেই থাকবেন।

অনেক তর্ক-বির্তক এবং কথা কাটাকাটির পর জিয়া তোয়াবকে একবার তার কোয়ার্টারে যাওয়ার অনুমতি দেন। তবে শর্ত দেয়া হয়, তিনি একা যেতে পারবেন না। তার সঙ্গে যাবেন অ্যাডমিরাল এনএইচ খান ও আরও কয়েকজন অফিসার। তারাই তাকে জিনিসপত্র গুছিয়ে নিতে সাহায্য করবেন এবং তারাই তাকে সাড়ে ছয়টায় বিমানে তুলে দেবেন।

সেই সন্ধ্যায়ই তোয়াব দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। ঢাকা থেকে লন্ডনে পৌঁছে ঠিক ১২দিন পর তোয়াব এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যার মূল আস‍ামি হলেন— জেনারেল জিয়াউর রহমান। তোয়াব বলেন, ১৯৭৫ সালের অক্টোবর মাসে লে. কর্নেল আবদুর রশীদ এবং লে. কর্নেল ফারুক রহমানের সঙ্গে আলোচনার পর তোয়াব এই সিদ্ধান্তে এসে পৌঁছেছেন বলে জানান। কারণ এই দুই অফিসার তাকে বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যা পরিকল্পনায় জেনারেল জিয়া যুক্ত ছিলেন।

তোয়াব একথাও বলেন, “১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকা গ্যারিসন কমান্ডার বিগ্রেডিয়ার খালেদ মোশাররফের অভ্যুত্থান ভারতের মদদপুষ্ট বলে যে প্রচার চালানো হয়েছে সেটাও সম্পূর্ণ মিথ্যা। তোয়াব দাবি করেন, খালেদ মোশাররফকে তিনি ভালোভাবেই জানতেন। তিনি কখনও ভারত ভাবাপন্ন (প্রো ইন্ডিয়ান) ছিলেন না এবং সেটা মনে করার কোনও কারণ নেই।”    

আবেদ খান ● সম্পাদক, দৈনিক জাগরণ

আরও পড়ুন