• ঢাকা
  • শনিবার, ২৫ মে, ২০১৯, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬
Bongosoft Ltd.
প্রকাশিত: এপ্রিল ৪, ২০১৯, ০৪:৩৪ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : এপ্রিল ১৩, ২০১৯, ০৯:০৬ পিএম

আনারস খান সুস্থ থাকুন

আছিয়া পারভীন আলী শম্পা 
আনারস খান সুস্থ থাকুন

সুস্থ থাকা এবং নানারকম রোগ থেকে বাঁচার জন্য আমাদের নিয়মিত ফল খাওয়া উচিত। ফলমূল মাছ মাংসের মতো অত দামি না হলেও পুষ্টিগুণের বিচারে কোন অংশে কম নয়। প্রতিটি ফলমূলই বিশেষ গুণে গুণান্বিত। আজ বলবো এমনি একটা ফল আনারসের কথা। আনারসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন মিনারেলস এবং ফাইবার। আনারস শুধু কেবল কাঁচা নয় রান্না করে এবং জ্যাম, জেলি বা সালাদ বানিয়েও খাওয়া যায়। বিস্তারিত জেনে নিন আজকের প্রতিবেদনে। পরামর্শ দিয়েছেন পুষ্টিবিদ আছিয়া পারভীন আলী শম্পা 

আনারসের পুষ্টি গুণ ||
 
প্রতি ১০০ গ্রাম ফ্রেশ আনারসে খাদ্য শক্তি পাওয়া যায় ৫০ কিলো ক্যালরি। এছাড়া ১০০ গ্রাম ফ্রেশ আনারসে কার্বোহাইড্রেট রয়েছে ১৩গ্রাম, প্রোটিন ০.৫ গ্রাম, খাদ্য আঁশ ১.৪ গ্রাম, ফ্যাট ০.১ গ্রাম, সুগার রয়েছে ৯.৯ গ্রাম, ভিটামিন বি-১ ০.০৪ মিলিগ্রাম, ভিটামিন-সি ৪৭.৮ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ১৮ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ০.০২ গ্রাম, আয়রন ১.২ মিলিগ্রাম। এছাড়া আনারসে প্রায় ৮৬% পানি রয়েছে।

 

উপকারিতা—

ইনস্ট্যান্ট শক্তি সরবরাহ করে
আনারসে যে কার্বোহাইড্রেট রয়েছে তার মধ্যে বেশির ভাগই গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ এবং সুক্রোজ অর্থাৎ সরল শর্করা যা দ্রুত শোষিত হয়ে দেহে শক্তি প্রদান করে। সুতরাং এনার্জি লেভেল যখন ডাউন তখন দ্রুত শক্তি পাবার জন্য আনারস খান বা আনারসের জুস খেতে পারেন।

ডায়াবেটিস হবার ঝুঁকি এবং উচ্চ রক্তচাপ কমায়
আনারসে যে খাদ্য আঁশ পাওয়া যায় তার ৯৯% ই অদ্রবনীয় বা ইন্সলিউবল খাদ্য আঁশ। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, হাইপার টেনশন এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিস হবার ঝুঁকি কমার সাথে নিয়মিত ইন্সলিউবল খাদ্য আঁশ গ্রহণের সম্পর্ক রয়েছে। সুতরাং যাদের উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে এবং যারা ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত হতে চান না তারা নিয়মিত আনারস খাবেন। তবে যারা এরইমধ্যে ডায়াবেটিস  আক্রান্ত হয়েছেন তারা অল্প পরিমাণে আনারস খাবেন।

 রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
সাধারণ জ্বর, সর্দি, কাশি সারাতে আনারস খুবই কার্যকর একটা ফল। আনারসে থাকা ভিটামিন সি এবং ব্রোলামিন জ্বর, সর্দি, কাশি প্রতিরোধ করতে এবং দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। তাই সাধারণ জ্বর কাশি বা ঠাণ্ডা লাগলে ওষুধ না খেয়ে আনারস খান।

কৃমি দমনে সাহায্য করে
আমাদের দেশে ধুলাবালি বেশি থাকার কারণে এবং দীর্ঘদিন কৃমি নাশক ওষুধ না খাওয়ার কারণে ছোট-বড় সবাই বিশেষ করে শিশুরা কৃমির সমস্যাতে আক্রান্ত হয়। যাদের কৃমির সমস্যা রয়েছে তারা খালি পেটে আনারস খাবেন। পর পর কিছুদিন খালি পেটে আনারস খেলে কৃমির সমস্যা চলে যাবে। তবে যাদের এসিডিটির সমস্যা রয়েছে তারা খালি পেটে আনারস খাবেন না।

 
 জার্নিতে বমি দূর করে
যেসব মানুষের জার্নি করলে বমি বা বমি বমি ভাব হয় বা অন্য সমস্যা হয় তারা জার্নির দিন সকালে খালি পেটে আনারসের রস খাবেন। তাহলে আর মোশন সিকনেস এর সমস্যা হবে না।

● ক্যান্সার এবং অন্যান্য রোগ প্রতিরোধ করে
আনারসে ব্রোলামিন নামক প্রোটিওলাইটিক এনজাইম রয়েছে, খাদ্য উৎসের মধ্যে এই উপাদানটি কেবল আনারসেই পাওয়া যায়। ব্রোলামিন প্রোটিন ভাঙ্গতে সাহায্য করে এবং ব্রোলামিনের রয়েছে অনেক স্বাস্থ্যগত উপকারিতা। ব্রোলামিনের এন্টি ইনফ্লামেন্টরি বা প্রদাহ-বিরোধী, এন্টি ক্লটিং বাজমাট-বিরোধী এবং এন্টি ক্যান্সার বা ক্যান্সার বিরোধী হিসাবে কাজ করে। এছাড়া ব্রোলামিন হাঁপানি দূর করতে এবং হজমে ও সহায়তা করে। সুতরাং যারা বাতের ব্যথা, রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়া বা অন্যান্য সমস্যা থেকে বেঁচে থাকতে চান তারা প্রতিদিন অল্প করে হলেও আনারস খেতে পারেন।

 রক্ত তৈরি এবং টিস্যু গ্রোথে সাহায্য করে
আনারসে থাকা কপার রেড ব্লাড সেল তৈরির কো-ফ্যাক্টর হিসাবে কাজ করে যা রক্ত তৈরির প্রক্রিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া আনারসে থাকা ফোলেট টিস্যু গ্রোথ এবং নরমাল সেল ফাংশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

হাড় মজবুত এবং হাড়ের সমস্যা দূর করে
যাদের হাড়ের বিভিন্ন রকম সমস্যা রয়েছ তারা নিয়মিত আনারস খাবেন। হাড়ের যেকোনো ধরনের সমস্যা দূর করতে আনারসের জুড়ি নেই। আনারসে থাকা ক্যালসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ এবং ফসফরাস হাড় মজবুত এবং গঠনে সাহায্য করে। এছাড়া যাদের ইউরিক এসিড বেশি হবার কারণে যারা কষ্ট পাচ্ছেন তারা নিয়ম করে টানা ১ মাস খালি পেটে বা খাবার ২ ঘণ্টা পর আনারস খেলে ইউরিক এসিডের সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন।
 

সতর্কতা ||
 

আনারস পুষ্টিকর হলেও আনারসে থাকা ব্রোলামিন গর্ভবতী মায়েদের জন্য গর্ভপাতের কারণ হতে পারে। সুতরাং যারা গর্ভধারণ করেছেন তারা আনারস খাবেন না।

যাদের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে না তারা খুব বেশি আনারস গ্রহন করবেন নয়া। আনারসে প্রাকৃতিক চিনির পরিমাণ বেশি তাই ডায়াবেটিস রোগীরা বেশি পরিমাণে আনারস খেলে গ্লুকোজ লেভেল বেড়ে যেতে পারে।

লেখক : পুষ্টিবিদ, বেক্সিমকো ফার্মা লিমিটেড 

Space for Advertisement