• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২০, ৩১ আষাঢ় ১৪২৭
প্রকাশিত: জানুয়ারি ২১, ২০২০, ০৫:৫০ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : জানুয়ারি ২১, ২০২০, ০৫:৫৪ পিএম

পালং শাক খাওয়ার হেলথ বেনেফিটস

আছিয়া পারভীন আলী শম্পা
পালং শাক খাওয়ার হেলথ বেনেফিটস

যারা,প্রায়ই কোষ্ঠকাঠিন্য,বদ হজম বা ফোলিক এসিডের অভাবে ভুগছেন তাদের জন্য পালংশাক খুবই উপকারি।পুষ্টি চাহিদা পূরণের জন্য অনেক সময় আমরা নানা ধরণের ভিটামিন বা ফাইবার সাপ্লিমেন্ট কেনার ব্যাপারে আগ্রহী হই। সেক্ষেত্রে,কম দামি অথচ অধিক পুষ্টিগুণ সম্পন্ন এই সবুজ শাকটি আমাদের অনেক জরুরী পুষ্টি উপাদানের চাহিদা খুব সল্প ব্যয়ে এবং প্রাকৃতিক ভাবে পূরণ করতে পারে।

সুতরাং,আজ জানাবো পালংশাকের পুষ্টিগুণ এবং বিভিন্ন ধরণের স্বাস্থ্য উপকারিতা সমূহ।

পালং শাকের পুষ্টিগুণ

প্রতি ১০০ গ্রাম পালংশাকে রয়েছে ২৫ ক্যালরি।প্রোটিন রয়েছে ২.৮ গ্রাম,০.৮ গ্রাম ফ্যাট,১.৬ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট ১.৬ গ্রাম,ফাইবার ২.৮ গ্রাম।

নিয়মিত পালং শাক খাওয়ার উপকারিতা

  • গাঢ় সবুজ রঙের পালংশাকের রয়েছে নানারকম পুষ্টিগুণ।ধারণা করা হয়,এই সবজিটি মূলত পার্শিয়ান সবজি।তবে দ্বাদশ শতাব্দীতে এই সবজিটি ইউরোপে বিস্তার লাভ করে।পরবর্তীতে,পালংশাকের টেস্ট এবং হেলথ বেনেফিটের কারণে সারাবিশ্বে এর পরিচিতি ছড়িয়ে পড়ে।
  • পালংশাককে পুষ্টির পাওয়ার হাউজ ও বলা চলে।কারন,পালংশাকে রয়েছে ফোলিক এসিড,বিটা ক্যারোটিন, লিউটিন,ক্লোরোফিল,পটাশিয়াম,ভিটামিন-সি,ই,কে সহ অন্যান্য ভিটামিন এবং মিনারেলস।শুধু,পুষ্টি নয় স্বাদের কথা বিবেচনা করলেও পালংশাক খুবই সুস্বাদু।
  • সারাবিশ্বে,পালংশাক নানাভাবে রান্না করে খাওয়া হয়।কখনো পনিরের সাথে,যা আমাদের পাশের দেশ ভারতে পালক পনির নামে পরিচিত এবং ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়।এছাড়া,স্যূপ,জুস হিসাবে কিংবা ডালের সাথে পালংশাক মিক্স করে রান্না করা হয়।
  • আমরা জানি,ফোলিক এসিড গর্ভবতী মায়েদের জন্য খুবই জরুরী একটি পুষ্টি উপাদান। কারন,গর্ভকালীন সময়ে এই পুষ্টি উপাদানের অভাব হলে গর্ভস্থ শিশুদের নিউরাল টিউব ডিফেক্টস হয়।তাই,গর্ভকালীন সময়ে ফোলিক এসিডের চাহিদা পূরণের জন্য নিয়মিত খাদ্য তালিকায় এই সবুজ শাকটি রাখতে পারেন।
  • পালংশাকে উচ্চ পরিমাণে পটাশিয়াম রয়েছে যা রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি,পালংশাকে নাইট্রেট রয়েছে যা হার্ট অ্যাটাক প্রতিহত করার পাশাপাশি,হার্টে চর্বি জমা প্রতিরোধ করে।সুতরাং,যারা উচ্চ রক্তচাপ সহ হৃদরোগের নানা জটিলতায় ভুগছেন তারা নিয়মিত এই সবজিটি খাদ্য তালিকায় রাখুন।
  • পালংশাকে উচ্চ পরিমাণে ভিটামিন-এ থাকে যা আমাদের চুল এবং ত্বক এবং টিস্যুর জন্য গুরুত্বপূর্ন।চুলের আর্দ্রতা ধরে রাখার জন্য সিবাম প্রোডাকশন অপরিহার্য।দেহে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন-এ না থাকলে সিবাম প্রোডাকশন ব্যহত হয়।ফলাফল চুলের স্বাস্থ্য খারাপ হয়ে যায়।যারা,হেলদি চুল চান তারা নিয়মিত ফ্রেশ পালংশাকের জুস খান।পাশাপাশি,টিস্যুর বিকাশের জন্য ও ভিটামিন-এ জরুরি।
  • পালংশাকে যে লিউটিন এবং জিয়াজ্যান্থিন থাকে তা আমাদের চোখের ম্যাকুলায় সংরক্ষিত থাকে।যা রেটিনার অংশ হিসাবে বিবেচিত এবং প্রাকৃতিক সানব্লক হিসাবে কাজ করে।যা,সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে আমাদের চোখকে সুরক্ষা প্রদান করে।সুতরাং,চোখের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে হলে নিয়মিত পালংশাক রাখতেই হবে।
  • পালংশাক ভিটামিন-কে এর সমৃদ্ধ উৎস।হাড়ে ক্যালসিয়ামের সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে অস্টিওক্যাল্ক নামক প্রোটিন উৎপাদনে ভিটামিন-কে সাহায্য করে।অর্থাৎ,শক্তিশালী হাড়ের জন্য ভিটামিন-কে সমৃদ্ধ পালংশাক খুব ভাল সয়াহক হিসাবে কাজ করতে পারে।
  • পালংশাকের আলফা-লিপোলিক এসিড ডায়াবেটিস রোগীদের সুগার নিয়ন্ত্রন করতে সহায়তা করে,ইনসুলিন সেন্সিটিভিটি বৃদ্ধি করে এবং পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি দূর করতে  সাহায্য করে।
  • যদিও সবাই জানে,তবুও আরেকবার বলতে চাই,শাকের ভিটামিন এবং মিনারেলস যাতে নষ্ট না হয় সেজন্য কাটার আগে খুব ভালভাবে পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে নেয়া উচিত এবং টুকরা যথা সম্ভব বড় করে কাটা উচিত।

সাবধানতা:

পালংশাকে উচ্চ পরিমাণে অক্সালেট রয়েছে।যা কিডনিতে পাথর সৃষ্টি করতে পারে।তাই যাদের,ইতিমধ্যে কিডনিতে পাথর হয়েছে তাদের উচিত পালংশাক গ্রহণ না করা।এছাড়া,পালংশাকে উচ্চ পরিমাণে পটাশিয়াম রয়েছে যা কিডনি রোগীদের জন্য ক্ষতিকর।সুতরাং,যাদের কিডিনিতে যেকোন ধরণের সমস্যা রয়েছে তারা ডাক্তারের পরামর্শ না নিয়ে পালংশাক খাবেন না।

লেখক : পুষ্টিবিদ, বেক্সিমকো ফার্মা লিমিটেড।