• ঢাকা
  • বুধবার, ০৫ আগস্ট, ২০২০, ২১ শ্রাবণ ১৪২৭
প্রকাশিত: মার্চ ১৩, ২০২০, ০৪:৪৪ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : মার্চ ১৪, ২০২০, ০৭:৩০ পিএম

বিবাহিত জীবনে সুখে থাকার উপায়

সবিশেষ
বিবাহিত জীবনে সুখে থাকার উপায়
সাজ্জাদ-শারমীন দম্পতি

একটা কথা প্রায় প্রচলিত— পুরুষ মানুষ দুই প্রকার। জীবিত আর বিবাহিত। সত্যিই কি বিয়ের পর পুরুষের সুখ চলে যায়? তাদের মন বিষিয়ে ওঠে? কিন্তু উপায় কী।

হ্যা, বিশেষজ্ঞরা বের করেছেন, বিবাহিত কিংবা দাম্পত্য জীবনে কীভাবে সুখে থাকা যায়।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে ‘সম্পর্ক’ বিশেষজ্ঞ টি তাশিরো বলেছেন, আপনি যদি অসাধারণ কাউকে পেতে চান, তাহলে আপনার জীবনসঙ্গী খুঁজে পাওয়া সত্যিই কঠিন হয়ে পড়বে।

তাশিরো তার এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, যদি একটি ঘরের মধ্যে মধ্যম মান, আয়, চেহারা ও উচ্চতার ১০০ জন পুরুষ থাকেন, তাহলে সেখানে মাত্র ১৩ জন বিবাহযোগ্য পুরুষ পাওয়া যাবে। আর যদি কেউ ওই ১০০ জনের মধ্য থেকে আকর্ষণীয়, ছয় ফুট লম্বা কিংবা ৮৭ হাজার ডলার আয় করা কোনও পুরুষকে খোঁজেন, তাহলে মাত্র একজন পুরুষের দেখা মিলবে। আর কৌতুকবোধসম্পন্ন, দয়ালু, এমনকি রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা আছে এমন পুরুষের সন্ধান করা হয়, তাহলে ১০০ জন পুরুষের মধ্যে একজনই পাওয়া অসম্ভব।

ভড়কে গেলেন। ভাবছেন কাকে নিয়ে সংসার সাজাবেন? বিবাহিত জীবনে সুখে থাকবেন কীভাবে?

তাশিরোর যুক্তি হলো— টাকা-পয়সা, সৌন্দর্য বিবাহিত জীবনকে সুখী করতে পারে না। অন্তত একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত।

তার মতে, একটি ভালোবাসাময় সুখী বৈবাহিক সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য সবার মধ্যে যে গুণটি থাকা প্রয়োজন, তা হলো—আন্তরিকতা।

আন্তরিক বলতে তিনি এমন কাউকে বুঝিয়েছেন, যিনি হবেন বিনীত, নমনীয়, বিশ্বাসযোগ্য, ভালো স্বভাব, সহযোগী মনোভাবাপন্ন, ক্ষমাশীল, উদার ও ধৈর্যশীল।

অন্য আরেক দল গবেষক মনে করে, ভালোবাসাই একজন নারী ও একজন পুরুষের মাঝে হৃদয়ের অটুট বন্ধন তৈরি করে দেয়। তৈরি করে সাংসারিক বন্ধন। ভালোবাসা ব্যতীত কোনও সাংসারিক কিংবা দাম্পত্য জীবন সুখের হয় না।

স্বামী ও স্ত্রী একে অন্যের পরিপূরক। একজনকে বাদ দিয়ে অন্যজন শূন্য, ফাঁকা।

একজন সুন্দর মনের ও সুন্দর গুণের স্ত্রী সংসারকে তার নিজের আলোয় আলোকিত করে তুলতে পারেন। সাজিয়ে তুলতে পারেন সংসার জীবনকে সুখের স্বর্গীয় বাগানের মতো করে। তবে এই কাজের জন্য দরকার প্রেমিক স্বামীর স্ত্রীর প্রতি ঐকান্তিক মায়া-মমতা ও সুগভীর ভালোবাসা। এই ভালোবাসা থাকলে দেখবেন, বিবাহিত জীবনে সুখ কাকে বলে। 

দুটি মানুষ মিলে একটি পথে চলার নামই বিয়ে। আর এই পথ চলা তখনই সুমধুর হয় যখন বিশ্বাস আবেগ-অনুভূতি দিয়ে একে অপরের উপর নির্ভরশীল হয়। সুখে-শান্তিতে থাকার জন্য মানুষ বিবাহিত জীবন বেছে নেয়। এই বৈবাহিক জীবনটা সুখের করতে চায় সবাই। অনেকের ক্ষেত্রেই যেটা হয়ে থাকে সেটা হচ্ছে তারা শুধু সুখের পানে চেয়েই থাকেন। কিন্তু বৈবাহিক জীবনে সুখ চাওয়ার জন্য কিছু করণীয় আছে সেটা তারা কখনও মনে করেন না।

করণীয়গুলো হলো—

● প্রতিটি মানুষই আলাদা। কিন্তু চেতনা ও জীবনদৃষ্টির সঙ্গে মিল রয়েছে— এমন কাউকে জীবনসঙ্গী হিসেবে গ্রহণ করুন।

● প্রেমে কোনও দায়-দায়িত্ব নেই। কিন্তু বিয়ে হচ্ছে দেয়া-নেয়ার। বিয়েতে দায়িত্ব-কর্তব্য দুটোই রয়েছে।

● বিয়ে হোক প্রতিদিন একই ব্যক্তির সঙ্গে। অর্থাৎ স্বামী-স্ত্রী একে অপরে নিত্য নতুন প্রেমে পড়ুন।

● জীবনসঙ্গী/সঙ্গিনীকে বিয়ের প্রথম দিন থেকেই দিনে অন্তত একবার বলুন, ‘আমি তোমাকে ভালবাসি।’ এতে  দু’জনের ক্ষেত্রে নির্ভরতা বাড়বে।

● সম্পর্কের উন্নয়ন নির্ভর করে কথা বলা ও যোগাযোগের ওপর। খেয়াল রাখুন কখন কাকে কোন অবস্থায় কী বলছেন। যত সুন্দরভাবে, শ্রদ্ধার সঙ্গে বলবেন ততো আপনার কথার প্রভাব বাড়তে থাকবে।

● পারস্পরিক ইতিবাচক ও ভালো ধারণাগুলোকে সব সময় লালন করুন। বাস্তবেও সম্পর্ক হবে ইতিবাচক।

● জৈবিক, বংশধারা, হৃদয়িক এবং আত্মিক-আধ্যাত্মিক এ চারটি খুঁটি পারিবারিক ভারসাম্য রক্ষা করে।

● স্বামী-স্ত্রীর ব্যাপারে অহেতুক খুঁতখুঁতে হবেন না। কঠোর ভাষায় কখনও তার ভুল ধরিয়ে দেবেন না। ভুলগুলোকে সময় সুযোগমতো সুন্দরভাবে বুঝিয়ে দিন।

● একজন পুরুষ ও একজন নারী কিংবা দু’জন পুরুষ বা দুজন নারীও চিন্তায় কখনও এক হয় না। তাই পার্থক্যগুলো বাদ দিয়ে সাধ্যমতো মতৈক্যের সৃষ্টি করুন।

● বিশ্বাস বিশ্বস্ততা ভালবাসা ও সহমর্মিতা বিবাহিত জীবনে নিয়ে আসে স্বর্গীয় আনন্দ।

● বিপরীত লিঙ্গের প্রতি মাত্রাতিরিক্ত আকর্ষণকে নিয়ন্ত্রণ করুন। একটি ছেলে ও একটি মেয়ের মধ্যে শোভন আচরণের সীমাকে বজায় রাখুন।

● আপনার স্বামী/স্ত্রীর চেয়ে নিজেকে ডিগ্রি, সামাজিক মর্যাদা, বিত্তবৈভবে শ্রেষ্ঠ মনে করবেন না। বিবাহিত জীবনে একজন আরেকজনের অংশীদার। আপনার সাফল্যে স্বামী/স্ত্রীর যে কোনও ভূমিকা অকপটে স্বীকার করুন।

● বর্তমানকে নিয়ে বাঁচুন। অতীতে আপনার কি কষ্ট ছিল বা কি পান নি তা নিয়ে আফসোস না করে বর্তমানকে আনন্দময় করে তুলুন। ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করুন।

● রূপের প্রশংসা সাময়িক। গুণের কদর চিরন্তন। তাই গুণকে বিকশিত করুন। পরিবারে ও পরিবারের বাইরে আপনার মর্যাদা বেড়ে যাবে।

ছবি ।। সাজ্জাদ খোশনবীশ ও ডা. শারমীন সারাহ 

।। ইন্টারনেট অবলম্বনে সামরীন সায কাশফিয়া

এসএমএম