• ঢাকা
  • সোমবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২১, ১২ মাঘ ১৪২৭
প্রকাশিত: জানুয়ারি ১২, ২০২১, ০৩:৩৮ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : জানুয়ারি ১২, ২০২১, ০৪:০৬ পিএম

শিশুর ইন্টারনেট আসক্তি!

জাগরণ ডেস্ক
শিশুর ইন্টারনেট আসক্তি!

করোনায় স্কুল-কলেজ বন্ধ। শিশুরা ঘরে থেকে আরো আকৃষ্ট হচ্ছে ইন্টারনেট ব্যবহারে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমও এখন চলছে অনলাইনে। দীর্ঘ সময় তাই ইন্টারনেট নিয়েই কেটে যাচ্ছে শিশুদের। এর প্রভাবও পড়ছে শিশুদের ওপর। মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, ইন্টারনেটে আসক্ত শিশুরা মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ের ওপর মনোযোগ হারাতে পারে শিশুরা।

এমন অবস্থায় শিশুকে গাইডলাইনে রাখার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। ডিজিটাল যুগে ইন্টারনেট ব্যবহার বন্ধ করা তো সম্ভব নয়, তবে এই ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কিছু বিষয়ে নজর রাখতে পারেন অভিভাবকরা।

প্রয়োজনীয় অ্যাপস

নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই নিরাপত্তাবিষয়ক কিছু অ্যাপ ইন্সটল করা উচিত। শিশুরা আলাদা মোবাইল ব্যবহার করলে সেখানে শুধু প্রয়োজনীয় অ্যাপগুলো ইন্সটল করে দিন।

প্যারেন্টাল কন্ট্রোল অ্যাপস

বাবা বা মায়ের ডিভাইসও শিশুরা ব্যবহার করে থাকে। সে ক্ষেত্রে সেফ ব্রাউজার হিসেবে প্যারেন্টাল কন্ট্রোল অ্যাপস ব্যবহার করুন। এই অ্যাপে এনাবল-ডিসাবল করার অপশন রয়েছে। প্রয়োজনমতো ব্যবহার করা যায়। মোবাইল, ল্যাপটপ বা পিসিতে ইন্সটল করে রাখুন। যখন বাচ্চারা ব্যবহার করবে তখন সেটি চালু করে দিন।

সিকিউরিটি অ্যাপস

সিকিউরিটি-বিষয়ক কিছু অ্যাপস আছে। যেগুলো ইন্সটল করলে অন্যান্য অ্যাপসেও অ্যাডাল্ট কন্টেন্টগুলো নিয়ন্ত্রণে থাকবে। শিশুরা কখন কী দেখছে, তা নিয়ে আতঙ্কিত থাকতে হবে না। এ ছাড়া পিসি ও ল্যাপটপের ব্রাউজার এক্সটেনশন ইন্সটল করে রাখলেও অ্যাডাল্ট কন্টেন্ট আসা বন্ধ হয়ে যাবে।

প্যারেন্টাল কন্ট্রোল ই-মেইল

শিশুদের ব্যবহৃত মোবাইলে প্যারেন্টাল কন্ট্রোল ই-মেইল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে  শিশুরা কী দেখছে, তা নজরদারি করা সম্ভব। শিশুদের ই-মেইল অ্যাকাউন্ট খুলতে জন্ম তারিখটি সংযুক্ত করতে হয়। যদি ১৩ বছরের নিচে শিশুদের অ্যাকাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে গুগল প্যারেন্টাল কন্ট্রোলের অধীনে খোলার শর্ত দেবে। সে ক্ষেত্রে অন্য একজনের ই-মেইল অ্যাকাউন্ট চাইবে। এখানে বাবা কিংবা মায়ের ই-মেইল অ্যাকাউন্টটি যুক্ত করে নিন।

অ্যাপে চাইল্ড ভার্সন ব্যবহার করুন

ফেসবুক ও মেসেঞ্জারের ক্ষেত্রে চাইল্ড ভার্সন ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। শিশুদের এই অ্যাকাউন্ট খুলে দিন। এ ক্ষেত্রে শিশুরা ব্যবহার করলেও অভিভাবকরা তা তদারক করতে পারেন।

ইন্টারনেট সংযোগে সচেতন হতে হবে

ইন্টারনেট সংযোগের ক্ষেত্রে সেফ ইন্টারনেটের ফিচারটি আছে কি না, তা দেখে নিন। ফিচারটি থাকলে সার্ভিস প্রোভাইডারদের কাছ থেকেই কিছু সাইট বা কন্টেন্ট ব্লক করে দেওয়ার ব্যবস্থা থাকে। সম্ভব হলে সংযোগের ইউজার নেম ও পাসওয়ার্ডটি নিজের কাছে নিয়ে রাখুন। এতে ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকবে।

ব্যবহারের সময় ঠিক করে দিন

সারা দিনে কত সময় ইন্টারনেট ব্যবহার করবে, তা ঠিক করে দিন। নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিলে শিশুদের ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপর নিয়ন্ত্রণ আনা সহজ হবে। শিশুদের সারা দিনের রুটিনে অন্যান্য খেলা, বই পড়া যুক্ত করুন। যদি আপনার শিশু ইন্টারনেট ব্যবহারে মর্জি করে তবে কৌশলে কানেকশনটি বন্ধ করে দিন কিছু সময়ের জন্যে। শিশু মনোযোগ অন্যদিকে নিয়ে যেতে সাহায্য করুন।

শিশুকে সময় দিন

অনেক শিশু খেলার সঙ্গী না পেয়েই ইন্টারনেটে আকৃষ্ট হয়ে পড়ে। আপনার শিশুকে সময় দিন। কখনো খেলার সঙ্গী হয়ে যান, কখনো আবার শিশুর সঙ্গে রংতুলিতে মেতে যান, অথবা গিটার বা যেকোনো বাদ্যযন্ত্র নিয়ে শিশুকে বিনোদনের মধ্যে রাখুন, যা ইন্টারনেট থেকে খুঁজে বেড়াবে সে আনন্দটুকু পরিবারের মধ্য থেকেই শিশুকে দিন। এ ছাড়া ইন্টারনেট ব্যবহারের সময় আপনিও শিশুর সঙ্গে বসুন। শিক্ষামূলক বিভিন্ন চ্যানেল এবং ওয়েবসাইট উৎসাহিত করুন। নতুন কিছু শিখতে বা তৈরি করতে তাদের আগ্রহী করে তুলুন।