• ঢাকা
  • রবিবার, ২৬ মে, ২০১৯, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬
Bongosoft Ltd.
প্রকাশিত: এপ্রিল ১৮, ২০১৯, ০৪:৪৮ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : এপ্রিল ১৯, ২০১৯, ০২:৪৫ এএম

বৈশাখে রচিত পঙক্তিমালা

শাপলা সপর্যিতার কবিতা

জাগরণ ডেস্ক
শাপলা সপর্যিতার কবিতা

 

 ১. স্বদেশ

তুমি আসার আগেই দখল হয়েছে এই পৃথিবীর সব জলাধার
কত দূরে গেলে আর পাবো বল মিলনের সুযোগ্য আবাস!
কর্ষিত ভূমির প্রতি ইঞ্চিতে লেখা রয়েছে জানো না রক্তের দাগ!
নির্বীর্যের বসবাস এখানে আজ, মৃত্যুর তুমুল উল্লাস শোনা যায়।

 

যদিও কোজাগরী চাঁদ ঢালে পূর্ণিমা, তবু
পূর্ণ হয়ে ওঠেনা ওই মাধবী রাত
কপালে  নীল হয়ে ফুটে থাকে
গত জনমের সব রক্তের দাগ, আনটাচড্...............

 

 

৩. 

বিবাগী আগুনে জ্বলে যাবে চাঁদ 
জোৎস্নায় ধরা দেবে গাঢ় অন্ধকার 
অতঃপর ছলনাময়ী লুকোবে এসে
পৃথিবীর প্রাচীন গুহায় আবার
আলসে দেহ মেলে শুয়ে পড়বে
চাঁদেরই কিনারায় পুনর্বার....

 

কিছু সুগারকিউব এখনও রেখেছি যতনে
কিছু ভেসে গেছে জলে গ্রীনটির আস্ফালনে
তবু ভেসে ওঠে মায়ের মুখ অতল বেদনার ঘোরে
তবু বাজে রোদ্দুর ঘনঘোর বর্ষার অন্ধকারে
কে ছিলে গো তুমি জননীর অবগুন্ঠণে!!!
এও কি সম্ভব!! এত ব্যাথা ...

তুমিই জাগালে !!!

 

হন্তারকের মুখে মৃত্যুর কারুণ্য হাস্যম্পদ
প্রতারকের চোখে জল এক অদ্ভুত প্রচ্ছদ
পানশালার পরিকীর্ণ সীমানায় বসে অযাচিত ভোজন
পৃথিবীর সব কোমল ঘ্রাণকে আটকে দিয়েছে, সে
একটি যাদুর বোতল। রেখেছে পাতাল গর্ভে।
আর সুদীর্ঘ বছর ব্যাপী ফেনিয়ে তুলেছে প্রগাঢ় মদ…..

 

খুব কাছে বসে তুমি দেখে গেছ আমার চোখ
চোখের ভেতর পাখির বাসা। পাখির বাসায়
স্বপ্নের নিহত শরীর। খুব কাছে এসে একদিন
খাবারে মিশিয়েছ বিষ। রাতের গলায় নীলকন্ঠ
বেঁধে ছেড়ে দিয়েছ তাকে দিনের খোঁজে। আর
কি তবে ভোর হয়! খুব কাছে এসে যেদিন বলেছ
ভালোবাসি, পরজন্মে বুঝেছি সে ছিল মরণ।

 

৭.

আপনি তো আরো আগেও আসতে পারতেন
যেমন ধরুন, পাতা ঝরে যাবার আগে 
যেমন, মিথ্যের আগে আগে
ধরুন, স্বপ্নের আগে 
অথবা তেলে জলে বন্ধ দুচোখ 
অন্ধ হবার আগে।
আপনি তো ইট কাঠ পাথরেরও আগে আসতে পারতেন?
পারতেন একজন নারীর মানুষ হয়ে উঠবার আগে
কিংবা ধরুন, একজন মানুষের মৃত্যুর আগেই
আপনি আসতে পারতেন....

 

৮.

তুমি ঘুমোলে আমি বিড়ালের মতো চলি
রাতের কার্নিশে একা, জেগে থাকি
তোমার বইয়ের সব অক্ষরজুড়ে হাঁটি
পায়ের নিচেই আছে নরম আলোর ছায়াছবি....
তুমি ঘুমিয়েছ.....

৯.

বিষ ঘৃণা করি, স্পর্শে পাপ
যদি পার দিতে অবাধ উষ্ণ জল
জন্মলগ্ন সংস্কার ধুয়ে ফেলি সব
অন্ধ চোখে খুলে দেই প্রেমের প্রতিমা
ধ্যানে বিন্যস্ত করি আবার নতুন
নখ থেকে নৈবেদ্যে পৌঁছে যাক উন্মার্গ কামনা.…

১০

ছুঁতে পারিনা, আমি
তোমাকে লিখতে পারিনা
জানাতে পারিনা, আমি
তোমাকে জানতে পারিনা
এই হত্যা জখম আক্রোশের মাঝখানে
তুমি কোথায়, কেমন আছ, প্রিয়তম।
সকাল..একচিলতে রোদের আলোতে শূন্য উঠোন ভরে ওঠে
তারপর নিখোঁজ আমার বাকি দিন বাকি সব রাত।
তোমাকে লেখা চিঠিগুলো তোমার কাছে পৌঁছুবার আগেই 
ভুল ঠিকানায় রাষ্ট্র হয়ে গেলে রোজ
ভুল ব্যাখ্যায় ভরে ওঠে দলিল। 
এই দূর্বিনীত হিংস্রতার মাঝে
তুমি আছ কি নেই আমি জানতে পারিনা।
উদ্বিগ্ন অস্থির কিছু অন্ধকার বুকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছি গতরাতে, ঘুমোবো আজ, আগামী রাতগুলোও, অবশ্যই।
তবু কাজলে ঢেকে রাখি চোখের জল
কপালের টিপে লুকোই দুশ্চিন্তার ভাঁজ
শোনো....তবু আকাশে মেঘে মেঘে ভেসে ওঠে 
কোনো রাজকন্যার মুখ
জলের নিচে কেঁপে ওঠে কোনো আধো ভাঙা ঘর
তবু বিশ্বাসে বেঁচে থাকে প্রেম
তবু ভালোবাসি তোমায়
ভালোবাসি এই পোড়া দেশেরই মাটি।
 

Space for Advertisement