• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬
প্রকাশিত: জুলাই ৩, ২০১৯, ০৭:৩৩ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : জুলাই ৩, ২০১৯, ০৭:৩৭ পিএম

জাতীয় চিত্রকলা প্রদর্শনী চলছে

জাগরণ প্রতিবেদক
জাতীয় চিত্রকলা প্রদর্শনী চলছে

 চলছে জাতীয় চিত্রকলা প্রদর্শনী। চিত্রকলায় গতানুগতিক ধারার বাইরে নতুন চিন্তা, কাজে নতুনত্ব নিয়ে সাজানো হয়েছে জাতীয় চিত্রশালার এ প্রদর্শনী। কাজ বাছাইয়েও নতুন চিন্তার প্রাধান্য বেশি দেয়া হয়েছে। তরুনদের কাজের প্রাধান্য বেশি পরিলক্ষিত হলেও বিষয়বৈচিত্র্য এবং কাজে নতুনত্বের ছোঁয়া এবারের জাতীয় চারুকলা প্রদর্শনীকে দিয়েছে ভিন্নমাত্রা। তিন শতাধিক শিল্পীর শিল্পকর্ম স্থান পেয়েছে এবারের প্রদর্শনীতে। বেশিরভাগ শিল্পকর্মে বিভিন্ন মিডিয়ার ব্যবহার শিল্প তৈরির সহজিয়া রীতিকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। সমাজ ও পরিবেশের নানা সংকট শিল্পকর্মে ফুটিয়ে তোলার পাশাপাশি সমাধানের বার্তাও পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন শিল্পীরা। 

শিল্পী হাবিবা আখতারের  ‘সীমাবদ্ধতার যন্ত্রণা’। মাধ্যম: ব্রোঞ্জ

অনুষ্ঠানে শিল্পকলা একাডেমি পুরস্কার ছাড়াও ‍চিত্রকলা, ভাস্কর্য, ছাপচিত্র, স্থাপনা-এই চারটি বিভাগে সম্মানসূচক পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। যথাক্রমে পুরস্কারগুলো পেয়েছেন শিল্পী রাফাত আহমেদ বাঁধন, শিল্পী তানভীর মাহমুদ, শিল্পী রুহুল করিম রুমী, শিল্পী সহিদ কাজী। প্রতিটির আর্থিক মূল্যমান ১ লাখ টাকা। এ ছাড়া বেঙ্গল ফাউন্ডেশন পুরস্কার পেয়েছেন শিল্পী উত্তম কুমার তালুকদার যার মূল্যমান ১ লাখ টাকা। দীপা হক পুরস্কার পেয়েছেন সুমন ওয়াহিদ যার মূল্যমান ২০ হাজার টাকা ও চিত্রশিল্পী কাজী আনোয়ার হোসেন পুরস্কার পেয়েছেন শিল্পী ফারিয়া খানম তুলি যার মূল্যমান ৫০ হাজার টাকা।

শিল্পী সহিদ কাজীর ‘সোনালি আঁশ’। মাধ্যম:  অ্যাক্রিলিক, কাঠ ও প্লাস্টিক। কাঠ ও প্লাস্টিক

গত সোমবার (১ জুলাই) বিকেলে জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে প্রদর্শনী উদ্বোধন ও পুরস্কার বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এবং বরেণ্য চিত্রশিল্পী মনিরুল ইসলাম। একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেন চারুকলা বিভাগের পরিচালক শিল্পী আশরাফুল আলম পপলু।

জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে শুরু হওয়া ২৩তম জাতীয় চারুকলা  প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়ার জন্য ৮৫০ জন শিল্পী আবেদন করেছিলেন। প্রাথমিক পর্যায়ে শিল্পকর্ম বাছাই কমিটিতে ছিলেন শিল্পী নাসরিন বেগম, শিল্পী মোস্তাফিজুল হক, শিল্পী শেখ সাদী ভূইয়া, শিল্পী মোহাম্মদ ইকবাল ও শিল্পী আনিসুজ্জামান। তাঁরা আবেদনকৃত শিল্পীদের মধ্যে ৩১০ জন শিল্পীর ৩২২টি শিল্পকর্ম বাছাই করেছেন। এর মধ্যে ১৫৯টি চিত্রকলা, ৪৫টি ভাস্কর্য, ৫০ টি ছাপচিত্র, ১৭টি কারুশিল্প, ৮টি মৃৎশিল্প, ৩৭টি স্থাপনা ও ভিডিও আর্ট, ৭টি কৃৎকলা (পারফরম্যান্স আর্ট)। পুরস্কারের জন্য সেরা শিল্পকর্ম বাছাইয়ে বিচারক হিসেবে ছিলেন শিল্পী আবদুস শাকুর শাহ, স্থপতি শামসুল ওয়ারেস, শিল্পী রণজীৎ দাস, শিল্পী ফরিদা জামান ও শিল্পী মোহাম্মদ ইউনুস।

অপু রাজবংশীর ভাস্কর্য ‘আত্মনাথ ১’ ।

 এবারে প্রদর্শনীতে অংশগ্রহনকারী শিল্পী শাকিলা চয়ন বলেন, ‘এবারের প্রদর্শনীতে অন্যান্য বছরেরর তুলনায় তরুনদের অংশগ্রহণ অনেক বেশি। কাজেও এক্সপেরিমেন্ট আছে কাজের গভীরতা আছে। যারা এ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন তারা সবাই এওয়ার্ড পাওয়ার যোগ্য। তাদের কাজ সেটা প্রমান করেছে। বিভিন্ন সময় এওয়ার্ড নিয়ে কথা উঠেছে। এবারে সেসব কিছুই নেই। আমার খুব ভালো লেগেছে শহিদ কাজীর কাজটি।  স’মিল নিয়ে একটি ইনস্টলেশন কাজ। কাঠ আছে,ছবি, রং, কাচঁ, ক্যানভাসে কাজ আছে। অনেক ধরনের মিডিয়া ব্যবহার করেছে। তাতে শিল্পের গভীরতা বেড়েছে বই কমেনি। অন্যান্য আরো কতগুলো কাজই প্রাণ ছুঁয়ে গেছে।’

শিল্পী শাকিলা চয়নের মনছায়া‘৯০

 আমাদের দেশের চিত্রকলার সবচে বড় পার্বন হলো জাতীয় চারুকলা প্রদর্শনী। প্রতিদিন শিল্পকলা এলাকা মুখরিত থাকে তরুন-নবীন শিল্পী,শিল্পরসিকদের উপস্থিতিতে। শিল্পকলায় গেলে প্রান ভরে যায় সৃষ্টিশীল কাজের এত বড় আয়োজন দেখে। চারদিকে ছড়ানো নতুন কাজ, চিন্তার নতুনত্বে ভরা কাজ ঘিরে থাকা বাংলাদেশে শিল্পচর্চার পীঠস্থান- বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। নিয়মিতভাবে দ্বিবার্ষিক এই প্রদর্শনীর আয়োজন করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। এই ধারাবাহিকতায় এবছর শুরু হয়েছে জাতীয় চারুকলা প্রদর্শনী। এবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে ২৩ তম আসর। 


প্রদর্শনী চলবে ২১ জুলাই পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা ও শুক্রবার বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এ আয়োজন সবার জন্য
উন্মুক্ত থাকবে।


/ডিজি

Islami Bank