• ঢাকা
  • শনিবার, ০৭ ডিসেম্বর, ২০১৯, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
প্রকাশিত: আগস্ট ৪, ২০১৯, ০৭:৪০ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : আগস্ট ৪, ২০১৯, ০৭:৪৬ পিএম

ফারহানা নীলার কবিতা

.
ফারহানা নীলার কবিতা

 মানুষ কতটা একা!

খুব জেনে গেছি মানুষ কতটা একা!
নিজস্ব বলয়ে কেউ নেই
থাকেনি কেউ!
মধ্যাহ্ন ছায়া দীর্ঘতম... সেও তো থাকেনি সাথে।
কতটা সময় অপচয়ে জানা হয় একাকী প্রহর,
কতটা ক্ষয়ে যায় জীবন বেলাশেষে!

বন্ধু ছিলে না তুমি,
বন্ধু হওনি তুমি!
কতবার আমি বাড়িয়েছি হাত, পেতে হাতের নাগাল।
কতটা সময়ের অপচয়ে জেনে গেছি বন্ধু তুমি নও!
কতটা পথ হেঁটে গেছি একা বিরাণ জনপদে...
জেনে গেছি বন্ধু নও তুমি অবশেষে।

বন্ধুর মত এসেছিলে
বন্ধুর পথের বাঁকে হারিয়েছো অচেনার মত।
কতটা নিরাশায় আশা ভেঙে গেছে,
কতবার আমি হয়েছি একাকী... জানে মন জানে!
বন্ধু থাকোনি তুমি জীবনের ধূসর রঙে.... 
বন্ধু ভেবে তবুও হেঁটে চলি জীবনের পথে দিনশেষে। 

উচ্ছিষ্ট আবেগের ফসিল

অনন্তর এক বিভ্রান্তি নিয়ে বিপাকে ঝিম মেরে থাকে 
কতিপয় ভালবাসার উচ্ছিষ্ট আবেগের ফসিল।
এই যে তুমি এলে, হাতের পর হাত, 
আকাশের পর আকাশ, মনের মাঝে মন....
কই! আমি তো তার কিছুই বুঝিনি!
ব্যাঙ ত্বকের মত খসখসা ছোঁয়ায় একদিন ভালবাসা ছিল 
কথাটি লেখা হয়তো ছিল; পুরাণে একবার তো পড়েছিলাম!

মায়াময় স্বরে নাম ধরে ডেকেছিলে, তোমার দেওয়া নাম ওটা! 
কেবল যখন প্রগাঢ় ভালবাসা ভর করে কদাচিৎ তুমি ডাকো ও নামে....
রূক্ষ কর্কশ স্বরলিপি তখন বাজে কানে,
জন্মান্ধ বোধ আমার আগুপিছু কত কি তো ভাবে!
হয়তো কোনো প্রয়োজন জন্মেছিল; নিদেনপক্ষে কোনো কারণ তো ছিল!
আমি তার কিছুটা জানি.... 
ভালবাসার আদালতে চুল পরিমাণ ছাড় দেবে না তুমি!
আর জামিন যোগ্যও তো নই আমি!

জ্বরের ঘোরে প্রলাপের মত ডেকেছি তোমায়,
খুব করে জড়াতে চেয়েছি তোমার শীতলতা!
ততদিনে বুঝে গেছি সর্পকুলের মত বদলে 
খোলস তুমি হতে থাকো অন্য কোনো জন!
তুমি কপালে হাত ছোঁয়াতেই পুড়ে গেছে তোমার অনুভূতির সাতকাহন।
অনুভবে আমি তার কিছুই বুঝিনি.... 
শুধু জেনেছি একদিন ভালবাসার জমটুপিতে ছিল রাজ্যের আঁধার;
 কপিকলে হেঁচকা টান... 
অপরাধী তো আমিই ছিলাম!

তবুও জানালার ওপাশে তোমার ছায়ার মত দোলে বিবশ শূন্যতা,
ঝুল বারান্দায় বাতাসের কানাকানি আর
 আনাগোনা তোমার সাথে থাকার সময়ের দিকভ্রান্ত উন্মাদনা!
এখনো ডোর বেলে বাজে অনন্ত নিষাদ; বিষাদের আস্তরণে
 একাকিত্বের প্রলেপ মেখে ঢেকে রেখেছি চূর্ণ চূর্ণ ক্ষত।
আয়নার ভাঙা কাঁচে চৌচির হতে দেখেছি তাবৎ পূর্নাঙ্গ অবয়ব!

এখন তাই আমি, তোমার অবয়বহীনতা নিয়েই দিব্যি বাঁচি....
 খুব করে বেঁচে তো থাকি নিঃস্ব হবার আগেই!
শুনেছি তুমি নাকি দেউলে এখন....
 ভালবাসার শেষ কথাটিও তামাদি!

আমার রাত্রিদিন

 সব সুখ নিয়ে
দুঃখটুকু আমায় দিয়ে
ফেরারী বসন্তের আবছায়া আলোয়
হারিয়ে গেছো তুমি।
বুঝিনি আমি কোন পথে
গেছো তুমি!

এখনো ঘোর বরষা
ভিজিয়ে নেয় আমার রাত্রিদিন।
আঁধার কালো মেঘের কাছে
পাঠিয়েছি চিঠি।
জানি না পেয়েছো কি তুমি!

কখনো আমি বাঁধিনি গিঁট
সুখ আঁচলে।
কতবার ডুবেছি দুখ অতলে
কত লোনা মিশে গেছে জলে!
জানি না দেখেছো কি তুমি!

সেই তোমাকে খুঁজি

 এতটা চিনতে চাইনি তোমায়,
যতটুকু চেনায় থাকে না আড়াল।
চেনামুখ, চেনা চোখ, চেনা খুব এই তুমি....
তোমাকেই আমি চিনে গেছি।
তবুও আমি আজো অচেনার মত সেই তোমাকে খুঁজি।

চেনা ভুল, চেনা ফুল, চেনা কোনো সুর
খুব করে চাই অচেনার মত হোক।
ভুল করে আমি ভুলে যেতে চাই
ভুল করে আজো অচেনার মত সেই তোমাকেই খুঁজি।

এতটা চিনে নিতে তোমায়
ধরেছি ক্ষরণ।
এতটা চেনা তুমি এনেছো আমার অকাল মরণ।
পথ ভুলে আমি
তোমার শিথানে রেখেছি শতেক ভুল।
ভুল ফুলে গাঁথা মালা হাতে
আজো অচেনা সেই তোমাকে খুব খুঁজি।