• ঢাকা
  • সোমবার, ০৯ ডিসেম্বর, ২০১৯, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
প্রকাশিত: নভেম্বর ১৩, ২০১৯, ০৭:২৫ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : নভেম্বর ১৩, ২০১৯, ০৭:২৫ পিএম

জোবায়দা জবা’র কবিতা 

.
জোবায়দা জবা’র কবিতা 

ব্যস্ততা

সবারই হয়ত ব্যস্ততা আছে এই যেমন তোমারও আছে।
শুধু আমিই কেবল ডুবে থাকি তোমার ভাবনায় 
জীবন গন্ডি সীমানা নির্ধারিত আমার!
এই ধরো, তোমার ছবি দেখা, তোমাকে নিয়ে স্বপ্ন আঁকা,তোমার সাথে কথা বলা, 
আর সবচেয়ে বড় কাজ হচ্ছে তোমার জন্য 
অপেক্ষা করা!

অপেক্ষা! অপেক্ষা! অপেক্ষা! 

একসময় হয় প্রতীক্ষা!

অভিমান জমাট বাঁধে কখনওবা 
চোখের কোন বেয়ে গড়িয়ে পড়ে। 
আশ্চর্য হলেও সত্য, সবটাই তোমার অগোচরে! 
অনেক শুনেছি হাজারবার বুজেছি
 তোমার অসহ্য লাগছে! 

আজব আমি! সবটা বুঝেও না বোঝার ভান করি
শুনেছি মাদকের নেশা খুব মারাত্মক 
মোবাইল ফোনের নেশা আরও আধুনিক 
কিন্তু আমার আবেগের কাছে তোমার নেশা
ভয়ানক!মুঠো ফোন, ইয়াবা সব পানসে!
নিকোটিনের ধোঁয়ায় এ নেশা উড়ে না!

তুমি নামক বিবৃত অভিশাপ
আমার মনের রাজ্যে জাগরিত আশির্বাদ
চারপাশে সবাই আমাকে সুখী হওয়ার
অনেক উপায় শেখায়, কত সব উপদেশ! 
ছেলেবেলার সেই পিঁপড়ে গল্পের মতন
আরেকটা গেলে বিশটা হবে!
এমন করেই উড়িয়ে দেই।

ব্যস্ততা আমার আসে না, 
তুমিহীন কোন নেশাই আমাকে টানে না।
নিজেকে খোলা বইয়ের মতন অবসরে রাখি
হয়ত কোনদিন তুমি পাঠক হবে।

সুপ্ত একটা বাসনা উঁকি দেয় মনে
হারিয়ে যাই এমন কোন ব্যস্ত শহরে
দীর্ঘ  বিরতি হবে
তুমি আমার জন্য ভাবতে অবসর পাবে
অনুভব করবে আমার অনুপস্থিতি। 

হয়ে ওঠে না, পারি না, অকৃতকার্য আমি
ব্যস্ততার পরীক্ষায় শূন্য পেয়ে আসছি বরাবরই। 
মনের মাঝে তোমাকে ভালোবাসি লালন করাটাই 
আমার সারা জীবনের ব্যস্ততা!!

সাহিত্যিক

সে ছিল ছদ্মবেশ সে লেখক
কল্পনার রাজ্যে সে আমার দখলে ছিল
উন্মুক্ত কলমের দোহাই দিয়ে সে 
উলঙ্গ করেছে আমার আবেগ। 

সে নাস্তিক, মুক্ত চিন্তার আড়ালে মস্তিষ্ক ধর্ষক।
সাহিত্য নামের কলঙ্ক লেপ্টে দিয়ে 
ছন্নছাড়া করেছে আমার জীবনবেগ।

সে পুরুষ, যৌবনের তারুণ্যে সে প্রেমিক
ভালবাসার অস্ত্রে নষ্ট করেছে 
আমার সতীত্বের সুখ।

সে কবি,সে  প্রতারক উপমার বেড়াজালে 
অনাবৃত করেছে আমার ভিতর, আমার বাহির 
সৃষ্টি করেছে প্রণয়ের অসুখ। 

সে অলীক, তুচ্ছ মায়াজাল!
 ভর্ৎসনা তার ভন্ড লেখার উপর!
 যে সাহিত্যে তারে ছোঁয়া যাবে, পাওয়া যাবে না।
আর পেলেও সে আমার হবে না।

তৃতীয়পক্ষ 

ওদের ঘৃনা করো! ওরা নীচ!জঘন্য!
বেহায়া, নির্লজ্জ! পিছু ছাড়ে না কিছুতে!
ওরা,দস্যু!ওরা একরোখা! ওদের পাশে
 দাঁড়াবে না!খবরদার!দুদন্ড বসলে মান যাবে!
ওরা কিসব জাদুটোনা জানে মন্ত্র পড়ে তোমাকে
 ধোঁয়া করে দেবে সাবধান!ঘরে ঢুকতে দিও না!
জাত যাবে!

আমরা কি দোষ করেছি?হে ঈশ্বর!
 তুমি দিয়েছ এমনি কপাল! 
বাবা মায়ের আদর, ভাইবোনের স্নেহ -সম্মান
 আমাদেরও ভীষন টানে! এ বুকে দারুন হাহাকার!
সঙ্গীনী নিয়ে, পরিবারের সুখ 
আমাদেরও প্রাপ্তি ছিল মনে হয়!

চাই নিতো রাস্তায় রাস্তায় বাজার সদরে 
এ গোলি ওগোলি রোদে বৃষ্টিতে পদযুগলে মাড়িয়ে যেতে!
বেঁচে থাকার নিষ্ঠুর প্রয়াসে,
চেয়ে চিনতে, ছিনতাই করে পেট চালাতে!

দিনশেষে কেউ আমাদের জন্য অপেক্ষা করুক!
 ভালবাসার জোছনায় ভরিয়ে দিক জীবনটা
এমন অনেক লোভ আমাদেরও হয়। 

 

উচ্ছিষ্টের মতন ছুঁড়ে ফেলে দাও ওই একঘরে সমাজটাতে!
তোমরাই আলাদা করো!
তোমরাই তিরস্কার দেখাও!আর সব অঙ্গ
প্রতিবন্ধীরে করুনা দেখাও! কোটা করে দাও!বাড়িতে স্থান দাও! 
লিঙ্গ প্রতিবন্ধীর উপর তবে এমন বিচার কেন হয়?

হিজড়া নাম এঁকে দিয়ে মোদের  সমাজচ্যুত সাইনবোর্ড 
লেপ্টে দাও!তোমাদের অবহেলা আর তোমাদের আড়চোখ আমাদের
 করেছে হিংস্র একরোখা, জেদী
সুখ ছিনতাইকারী।

ভালবেসে কাছে টেনে দেখো আমিও 
খোদার সৃষ্ট তোমাদেরই মত মানবী।
হৃদয় মম বাস করে শত মমতাময়ী।