• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ৬ ফাল্গুন ১৪২৬

জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণগণনা

মুজিববর্ষ
প্রকাশিত: জানুয়ারি ৫, ২০২০, ০২:৫৭ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : জানুয়ারি ৫, ২০২০, ০২:৫৭ পিএম

এ সপ্তাহের গল্প

প্রেম

লাবণ্য সায়মা রহমান
প্রেম

কুসুম প্রেমে নিমজ্জিত হইলো, নাকি পতিত হইলো? যখন কুসুমের বয়েস ষোলো পূর্ন হইলো মন তার আনচান করে ব্যাকুল হইয়া প্রাণ ভরে কার অপেক্ষায় উদাস নয়নে জানালায় মাথা হেলাইয়া সময় ক্ষেপন করে? কুসুমের ভারী প্রেমিক স্বভাব। গৃহে কেনো রয়না মন? কেনোই বা এমন হইতেছে ঠাহর করিতে পারেনা সে। সখীকূল পরিবার পরিজন সকলই মিছে লাগে ক্যানো? শান্তি পায়না অন্তর, নিদ্রায় সে কার অবয়ব দেখে জাগিয়া ওঠে?

কুসুম প্রেমে পতিত হইলো কি করিয়া? একি তবে নিসর্গের খেয়াল? সে তো এমন চায় নাই তবে কেনো সহসা এমন পরিবর্তন তার ভেতরে দানা বাধিলো? কি এমন ঘটিলো অজান্তে? জানে না সে বোঝে না সে রহস্য কুসুম।শুধু জানে ষোড়শী হইয়া বড় বিপাকে আছে সে।এই বিপাকের সংজ্ঞা নাই তার কাছে। শুধু জানে উড়ু উড়ু মন থিতু হতে চায় কার তরে? 

কুসুমের প্রেম বায়বীয় নয়তো? মেঘের দেশে ভেসে বেড়ায় নাকি প্রেম? দখিনা বাতাস হয়ে জড়ায় তারে মাধবীলতার সুরভী মাখিয়া আহা ষোড়শী অন্তর বড় উচাটন কার তরে? ভাবিয়া ভাবিয়া কুসুমের কাটে দিবস রজনী। এ পরিবর্তন কুসুমকে প্রস্ফুটিত করতে চায় পুষ্পে নয় তো? 


পর্ব ২ 
এই যে বরিষণ, শ্রাবণ বরিষণ কেনো হে? এতো যে অঝরে ঝরিছে সে এ কার ইশারায়? কুসুমের হৃদমাঝারেও যেনো ঝরিছে অঝরে সে স্রোতধারা। আহা একি ক্রন্দন নাকি সিক্ত হইয়া ওঠার বাসনায় এমনটা ঘটে বোঝেনা কুসুম সত্যই বোঝেনা। এ ধারা যে নোনা অশ্রু হয়ে কপোল বেয়ে নামে সে খেয়ালই বা কে রাখে। হায় বিরহী বরিষণ কেনো ভিজাইয়া দাও কোমল পরাণ? 

প্রকৃতি সাজিয়াছে আপন খেয়ালে হয়তোবা তবু তারই প্রভাব গ্রাস করিয়া লয় কুসুমের অন্তর। কার তরে এ বিরহী দশা কুসুম কি ঠাহর করিতে পারে এক্ষণে? আবছা ভাসে তার মুখায়বব, কেমন কোমলে কঠিনে মেশানো সে রুপ তারে নিস্তার নাহি দেয়। সত্যই কি তার তরে এ বিরহ নাকি এ মনের খেয়াল? অনুভূতির বসত যখন আপন অন্তর তবে অন্যের ভূমিকা কোথায় এখানে? 

কুসুম একটু একটু করিয়া বুঝিয়া লয় সে হিসেব, প্রেম জাগে নিজ অন্তরে তার দায় অন্য কারো নয়। তার তরে যে প্রণয় বিকশিত হইতে চাহে কেনো সে বুঝিবে তার রুপ, বুঝিতেই হইবে এ কোনো বেদ বাক্য নয়। যদি অপরজন এক অনুভবে  বসত করে সে পরম সৌভাগ্য। কুসুম কায়মনবাক্যে প্রার্থনা করে সে অন্তর যেনো বোঝে তারে।
পর্ব ৩ 
অভিমানী মন ভার হইয়া রহে কাজলা মেঘের মতোন, নাকি অভিমান জমিয়া জমিয়া তুষার শুভ্র রুপ নেয় গিরি শৃঙ্গে? প্রেমে অভিমান আবশ্যক নইলে কি আর প্রেম জমে? কিন্তু কার তরে এ অভিমান সেটাও বিবেচ্য এইখানে। সেই যে সে সুদর্শন যুবক যারে ভাবিয়া ভাবিয়া অভিমান জমে কুসুমের মনে সে থাকে দূর দেশে, তার দেখা নাহি মেলে তবু প্রেম জাগে তারই তরে, বিরহ জাগে অভিমানও থাকে সঙ্গে।

একদা এক গোধুলিক্ষনে কি কারনে উঠোনের কোনে বসিয়া কুসুম চিত্রাঙ্কনে মগ্ন ছিলো, সহসা সে যুবক আসিয়া তাহার ভ্রাতার সন্ধান করিলো তড়িৎগতিতে। এক লহমার সাক্ষাৎ কি করিয়া মনে এতো আবেগ উছলিয়া দেয় ভেবে নাহি পায় কুসুম।আহা মায়ায় ভরা দুখানি আঁখি হরিণ হরিণ সে নয়ন কেনো গাঁথিয়া রইলো অন্তরে, তারে নিস্তার নাহি দেয়। এক টুকরো হাসি ঠোঁটের কোনে যেনো ছবি হইয়া রহিলো কুসুমের স্মৃতিপটে।

যে অভিমানে অন্তর তাহার ভারাক্রান্ত সে কথা সে জানাইবে কি করে? সেও তো দূরবাসী একজন, অবুঝ মন মানে না যে বারন কুসুমের অন্তরে সে জাগিয়া থাকে প্রেমের মূর্তি হইয়া, দেবতার মতো তার তরে পূজো অর্চনা চলে সর্বক্ষন। আহা কুসুমের ঘোর যে কাটিতে চাহে না।জমিয়া থাকে বিরহ হায় জমিয়া ওঠে অভিমান প্রেমের তরে।
পর্ব ৪
প্রেম চাহে স্পর্শ চাহে তো? তাহার মদির ছোঁয়ায় ঘোর ঘোর নেশা জাগাইতে মন কি আনচান করিয়া উঠে না? সে ছোঁয়া স্বর্গসুধা ঢালিয়া দেয়। প্রেমে তো এহেন স্পর্শ আবশ্যক আহা তবু দূরে যে রয় তারে কি করে ছোঁয়া যায়?  যায় না কিন্তুক চাওয়াটা হয় সুতীব্র। তারে ছুঁয়ে দেখার জন্য ব্যাকুল পরাণ কাঁপিয়া কাঁপিয়া উঠে রোদন হইয়া অশ্রু ঝরে সে তো তারে কাছে পাইবার তরে।

কুসুমেরও এমতো অবস্থা সে সুদর্শনকে কাছে পাইবার নিমিত্তে কতো কি কল্পনায় আকিয়া লয় সে, একটুকু ছোয়া হইলে কি সুখ অনুভব হইবে ভাবিয়া শিহরিত হয় কুসুম। সে ভাবনায় শরীরে বিদ্যুৎ খেলিয়া যায়, চমকিয়া উঠে প্রাণ, লাজে রাঙ্গা হইয়া যায় শুধু ভাবনায়। তাহারে ছুইয়া দেখার তীব্র বাসনা অঙ্গার হইয়া জ্বলে ইশ্ ইশ্।

আলিঙ্গনের স্বপ্নও জাগে, নিবিড় নিভৃত আলিঙ্গনে হারাইয়া যাইতে সাধ হয় কুসুমের প্রেমময় অন্তরে। আর চুম্বন? মনের ভাবনায় আলতো এবং গভীর চুম্বনের স্বপ্ন খেলিয়া বেড়ায় আহা কুসুমের অন্তর প্রেমে মগ্ন হইতে চায়। এর চাইতে অধিকতর ভাবনা ভাবিতে পারে না কুসুম সে বড় লজ্জার কথা হায়। কুসুম প্রেমে ডুবিয়া রয় একা একাই।

পর্ব ৫
মৃন্ময়ী মনে হয় নিজেকে কুসুমের, ভেজা মৃত্তিকার মতো নয়তো কাঁদার মতো লাগিতে থাকে যেক্ষনে যেরুপ ধারন করিতে পারার ক্ষমতা না থাকিলে কি প্রেম হয়? সে যে আর নিজেতে নাই সে কথা বেশ বুঝিতে পারে কুসুম, কি এক শক্তি গ্রাস করিয়া লয় তার সমস্ত সত্ত্বা। কুসুম হারায় স্বকীয়তা।

জলের মতো কি তরল নয় বায়বীয় রুপ ধারন করিয়াছে সে এখন? লোকে বলে প্রেমে জল হইয়া যাইতে হয় নইলে সে মিশিয়ে পারে না অপরের সঙ্গে। নিজেকে বিলীন করিয়া অপরের রুপ ধারনের নামই নাকি প্রেম?  তাইতো কুসুম কখনো সোঁদামাটি কখনো জলের রুপ ধারন করিয়ে বাঁচে।

আহা প্রেম কি করিয়া এতো শক্তি ধারন করে পরিবর্তনের? একজন মানুষকে অন্য মানুষে রুপান্তরের শক্তির নামই প্রেম। নয় কি? এ কাংখা প্রাকৃতিক বহু অভিযোজনে সে রুপ পায় আধুনিক কিন্তু প্রেম আসলে প্রকৃতির খেলা তাতে আমি তুমি কিংবা কুসুম খেলার পুতুলসম।
পর্ব ৬
যে ক্রীড়ানক এই ক্রীড়ায় কুসুমকে আসক্ত করে তাহার নাম প্রকৃতি বা নৈসর্গ। তিনি আপন মহিমা সমুজ্জ্বল রাখার নিমিত্তে মানুষের অন্তরে বা ভাবনায় জাগিয়ে রাখে প্রেম। প্রেমলীলায় মায়া থাকে অমোঘ টান থাকে অভিমান বিরহ সকল কিছুই থাকে আর তাইতো এর সকল কিছু ধারন করে প্রেমে মত্ত হয় কুসুম।

যে মানুষটির জন্য কুসুমের অদৃশ্য কিন্তু দৃঢ টান জন্মায় তিনি কেমন করিয়া ঠাহর করিয়া লন। এ যেনো চুম্বকশক্তি। নিবিড় এবং প্রবল প্রত্যাশার কোনো বিষয় নাকি মানুষ পায়ই পায়  শুধু চাইতে বা ডাকতে জানতে হয়।
তাইতো শুভদীপের অন্তর দ্রবীভূত হইয়া যায় কুসুমের অকৃত্রিম প্রেমে। এ যেনো অমোঘ মিলন বিধাতার লিখে দেয়া কপাল লিখন।

কুসুম ও শুভদীপ যুগলের প্রেম অমরত্ব লাভের পথে এগিয়ে যেতে থাকে। প্রথমে আঁখির তারায় কথোপকথন তাহার পর পত্রের মাধ্যমে ভাব বিনিময় করিয়া এগিয়া চলে তাহাদের প্রেমের যাত্রা। আহা সুখে পরিতোষে দশদিক যেনো পূর্ন হইয়া উঠে।


পর্ব ৭
সে পূর্নতায় অবগাহন করিয়া শুভদীপ আর কুসুম সভ্যতার পথকে আগাইয়া লইয়া যাইবার নিমিত্তে সন্তান প্রাপ্ত হয় ওহ্ তাহাদের প্রণয় সুখের ফসল হইয়া আগমন ঘটে এক স্বর্গীয় শিশুর। জীবন প্রস্ফুটিত হয় কুসুমের সুরভিত পুষ্পদল মেলিয়া সে প্রস্ফুটনে শুভদীপের অবদান অসীম। 

প্রেম পূর্নতা পায় কি মিলনে না বিরহে? এমতো কিছু ভাবিবার অবকাশ থাকে না কুসুমের কিংবা শুভদীপের কেননা তাহাদের জীবন বহিয়া যাইতে থাকে আনন্দধারায়, আহা মধুর মিলনে তৃপ্ত হয় পরাণ। কিন্তু সে সুখ চিরস্থায়ী নহে তাহারা জানেনা।

প্রকৃতির নিয়মই হইলো শুরু এবং শেষের খেলা যে কারনে প্রেম আসে তাহার উদ্দেশ্য পূর্ন হইলে প্রেম ফুরায় সত্যই ফুরায় সে কথা তুমি আমি কিংবা কুসুম নয় শুভদীপ সকলেরই মানিতে হইবে। ফুরায় প্রেম যে পথে তবু সে প্রবাহিত হয় অন্য পথে অন্য রুপে।জীবন বহিয়া চলে সে রেশ লইয়া আমরা ভালোবাসা কিংবা প্রেমের রেশ টানিয়া অজান্তে নয় প্রকাশ্যে তবু সুখী হইবার চেষ্টায় মগ্ন থাকি।