• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৭ আগস্ট, ২০২০, ২২ শ্রাবণ ১৪২৭
প্রকাশিত: জানুয়ারি ৬, ২০২০, ০১:৩৩ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : জানুয়ারি ৬, ২০২০, ০১:৩৩ পিএম

সীমা কুণ্ডু’র কবিতা

.
সীমা কুণ্ডু’র কবিতা

মৃদুভার

যেখানে যা কিছু জমে আছে
জমা আছে শ্যাওলার মত; শান্ত, কোমল
ছুঁতে চাওয়া মন তার কিছুই দেয়না বাদ।
স্পর্শহীন এক স্পর্শ 
ছুঁয়েছুঁয়ে যাবে সকাল সন্ধ্যা রাত
আমি অপেক্ষায় থাকি তার
গোধূলি এসে বলে এই নাও রুটিনসংবাদ!

আমি নিই! খুলে দেখি কী লেখা আছে তাতে!

মুছে ফেলো যেখানের যত অভিশাপ 
যদি জমে থাকে কোন ক্লেদ, কিছু অভিমান
কিছু হতাশা, অবিশ্বাস; মুছে নাও
চাপা বেদনার মত কিছু যদি থেকে থাকে
গভীর শ্বাসের সাথে বের করে আনো
বুকের গহিন হতে।
খুলে দাও বুক, মৃদু করো তার ভার
দেখো চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে 
অণু-অণু স্মৃতি; আমরাতো শুধু নিমিত্ত তার।

এখন গোধূলিলগন! হারানোর ভয়ও যদি থাকে
তারও কি কিছু বাকি বেশি আছে! 
জরির কালিতে লেখা
জানি সম্ভব নয়
তবু যদি কোনমতে সম্ভব হয় একবার হোক দেখা!

সেই শুভক্ষণ এলে নিজেকে গুছিয়ে নিয়ে চলি
মন চলে দ্রুত অথচ চলেনা চরণ আর
চোখে চোখ পড়তেই; তুমিই কি সেই?
হ্যাঁ; সেই মৃদুভার!

 কোথায় আমি হারাই বারে বার

ইচ্ছে করে হারিয়ে যেতে নীল আকাশের গায়
সবার চোখে ফাঁকি দিয়ে একলা পানসি নায়
যেতেযেতে মেঠোপথে সিঁথির মতন সোজা
গাঁয়ের মতন, মায়ের মতন ছেলেবেলা খোঁজা।

কাঁচাআমের ঘ্রাণের সাথে ঝিনুক হয়ে থাকি
ডাক দিয়ে যাক ভরদুপুরে নাম না-জানা পাখি
হারাই যদি জামের শাখে লালপিঁপড়ার দলে
কুড়িয়ে নেবে কেউ আমাকে শিউলি-বকুল বলে।

রাত্রি হলে হারিয়ে যাই জোনাকজ্বলা মাঠে
মায়ের সাথে কুপির আলোয় বর্ণমালা পাঠে
ঘুমের দেশে কল্পকথার ডালিমকুমার হয়ে
মাসি-পিসির বুকের ভেতর জুজুবুড়ির ভয়ে।

ছুটিয়ে ঘোড়া হটিয়ে দিতে যত্তরকম ভয়
পুচ্ছ তুলে তুচ্ছ করি সকল পরাজয়
বাঁশ বাগানে লীন হয়ে যাই বনবিড়ালের সাথে
এলিয়ে শরীর টংঘরের ওই পাতার বিছানাতে।

সূর্য যখন একটু চড়া খেলার সময় নাই
ঘন্টি শুনে হারায় এ প্রাণ কোন সে আঙিনায়
ছুটিরদিনে বিকেল ডাকে আয়রে চলে আয়
পাতার ফাঁকে অবুঝসবুজ বটঘুঘুদের পায়।

আয়রে খুঁজি কোথায় আছে বনকুসুমের মধু
বায়োস্কোপের হাতছানি আর কোথায় আছে জাদু
হারিয়ে যাব ঘুড়ির সাথে ও-পাড়ার ঐ মাঠে
হন্যে হয়ে খুঁজুক বাবা, কাকা গ্রামের হাটে।

রৌদ্রে যখন মাঠ কাঠকাঠ ব্যাঙের দেব বিয়ে
বৃষ্টি এলেই ঢাকব মাথা কলার পাতা দিয়ে
ভাসিয়ে দেব নৌকা করে কলামোচার খোল
সওয়ারি হোক খয়েররঙে ব্যাকুলমনের দোল।

ডাক যদি দেয় পূর্বপাড়ার কীর্তনের ঐ ভোজ
ভোঁ-দৌড় দেব, কেউ পাবে না আমার টিকির খোঁজ
আড়িয়া মেঘা, হাড়িয়া মেঘা, কুড়িয়া মেঘা বলে
মাথায় কুলো, উদোম গায়ে ঠিকই যাব চলে।

সন্ধ্যে হলে ফিরব ঘরে কাদায় লুটোপুটি
হাপুসহুপুস ঝোলাগুড় আর আউশচালের রুটি
মায়ের কাছে কৈফিয়তের হিসেবনিকেশ সেরে
গড়িয়ে নেব মাদুর পেতে দিনের ক্লান্তি ঝেড়ে।

কেউ জানে না বুঝি!
কেন আমি হন্যে হয়ে দিনগুলোকে খুঁজি!
কেউ জানে না আর
কোথায় আমি, কেন আমি হারাই বারে বার।

কুয়াশার  হাত

কুয়াশা বাড়িয়েছে হাত
উঠে এসো বলে নির্জন পথও ডেকেছে
একাকীত্ব নিয়ে ছুটে গেল যে অটোওয়ালা
পরের স্টপেজে নামিয়ে দিয়েই আসব; বলে গেল
গ্রাহক বিহীন মোটেল মাথা নুয়ে আছে
গোত্রহীন হোটেলের দিকে তির্যক দৃষ্টি নিয়ে

দুপুর গড়িয়ে গেল
চেঙ্গী'র জলে ভেসে যাবে বলে
বালির পরতে ডুবে গেল যে সর্বহারা
সে কি আসলেই সব হারিয়েছিল!

দুপুরকাব্য

এলোমেলো যদি হই এমন দুপুরে
বাহুতে মিলিয়ে বাহু, ঠোঁটে ঠোঁট
তাবৎ অসম্মতি রোদে যাবে পুড়ে

চলো! রোমাঞ্চিয়া উঠি
এক নিদ্রা, এক জাগরণে
দুপুর যাক টুটি!