• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল, ২০২০, ২৪ চৈত্র ১৪২৬
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২, ২০২০, ১২:৪৩ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : ফেব্রুয়ারি ২, ২০২০, ১২:৪৩ পিএম

‘একোয়াকালচার বিজ্ঞান’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন

জাগরণ প্রতিবেদক
‘একোয়াকালচার বিজ্ঞান’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সিস্টেমের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলন কক্ষে ‘একোয়াকালচার বিজ্ঞান’ বইটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়। ফটো : সংগৃহীত

ড. মুহাম্মদ মাহফুজুল হক, মো. মেহেদী আলম এবং নিয়াজ আল হাসানের একোয়াকালচার বিজ্ঞান বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে।
 
গত শুক্রবার (১ ফেব্রুয়ারি) ময়মনসিংহ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সিস্টেমের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলন কক্ষে বইটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়। এই গ্রন্থটির প্রকাশক সেফ (সাস্টেইনেবল একোয়াকালচার ফর ফিউচার আর্থ)।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের প্রফেসর ড. মো. আহসান বিন হাবিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী। এছাড়া বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. লুৎফুল হাসান, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সিস্টেমের পরিচালক প্রফেসর ড. মো. আবু হাদী নূর আলী খানসহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বইটির প্রসঙ্গে লেখকরা বলেন, আমরা আশা করি একোয়াকালচার বিজ্ঞান বইটি শিক্ষার্থী, শিক্ষক, গবেষক, উন্নয়নকর্মী ও চাষীদের বিভিন্নভাবে কাজে লাগবে। শিক্ষার্থীরা তাদের বিষয়ভিত্তিক পড়াশোনার জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান পাবেন, গবেষকগণ নতুন নতুন গবেষণার ক্ষেত্র সম্পর্কে ধারণা পাবেন এবং চাষীরা মৎস্য চাষ সংক্রান্ত নতুন তথ্য ও বিভিন্ন সমস্যার সমাধান খুঁজে পাবেন। 

‘একোয়াকালচার বিজ্ঞান’ বইয়ের মোড়ক 

তারা বলেন, কৃষিবিদদের প্রথম শ্রেণির মর্যাদা দিয়েছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার জন্মশতবার্ষিকীতে বইটিতে তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পেরে আমরা আনন্দিত। এছাড়া বইটি উৎসর্গ করেছি, মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ তিনজন ছাত্র ম. জামাল হোসেন, আব্দুল মতিন খন্দকার (টিপু) এবং মনিরুল ইসলাম আকন্দের প্রতি।

বইটির বিষয়ে লেখকরা বলেন, একোয়াকালচার বলতে এক কথায় জলজ জীবের চাষকে বুঝায়। একোয়াকালচার এর একোয়া একটি ল্যাটিন শব্দ যার অর্থ পানি। আর  কালচার বলতে চাষ বুঝায়। চাষ শব্দটির ব্যাপকতা ক্ষেত্র বিশেষে বিভিন্ন রকম হতে পারে। কিন্তু মৎস্য ক্ষেত্রে এর ব্যাপকতা সীমাহীন। মৎস্য চাষ বা একোয়াকালচারের প্রধান কর্মকাণ্ডগুলো হলো মাছের আধার (যেমন: পুকুর, খাঁচা, পেন, রেসওয়ে, রিসার্কোলেটোরি একোয়াকালচার সিস্টেম, ট্যাংক ইত্যাদি) ডিজাইন ও নির্মাণ করা। আধারে মাছের পোনা মজুদ, মাছের পুষ্টি চাহিদানুযায়ী খাদ্য তৈরি ও প্রয়োগ, স্বাস্থ্য পরিচর্যা ও রোগের চিকিৎসা করা এবং নির্দিষ্ট সময় পর বৈধ একক বা যৌথ মালিকানার ভিত্তিতে মৎস্য আহরণ করা।

“ক্যান থো বিশ্ববিদ্যালয় একোয়াকালচারের উপর চার বছরের স্নাতক ডিগ্রি দিচ্ছে, স্নাতকোত্তর ডিগ্রি তো আছেই। কিন্তু উক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ২০০৮ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অবার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যৌথভাবে দেশি-বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চতর একোয়াকালচার বিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি চালু করেছে। একোয়াকালচার বিজ্ঞানের এরূপ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিকাশ বাংলাদেশে শিক্ষা, গবেষণা ও উন্নয়নে সুবিশাল ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু এ বিকাশমান ও পরিবর্তনশীল প্রায়োগিক বিজ্ঞানের উপর বাংলা ভাষায় আধুনিক বিজ্ঞানভিত্তিক এবং তথ্য-নির্ভর বই সেভাবে প্রচলিত হয়নি। এ সমস্ত বিভিন্ন কারণে মাতৃভাষায় আধুনিক জ্ঞান সম্বলিত একোয়াকালচার বিজ্ঞান বইটি লেখায় আমাদের এ ক্ষুদ্র প্রয়াস। বইটিতে আধুনিক একোয়াকালচার ভ্যালু-চেইনের বিভিন্ন সেগমেন্টের গুরুত্ব বিবেচনায় রেখে বাংলাদেশের একোয়াকালচারকে বৈশ্বিক একোয়াকালচারের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে চিন্তা করে উৎপাদন থেকে রপ্তানি বাজার পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভূক্ত করে ১৩টি অধ্যায় রচনা করা হয়েছে।”

টিএস/আরআইএস