• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১৩ মে, ২০২১, ৩০ বৈশাখ ১৪২৮
প্রকাশিত: এপ্রিল ১১, ২০২১, ০৮:২২ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : এপ্রিল ১১, ২০২১, ০৮:২৩ পিএম

বইমেলায় বিদায়ের বিষণ্ণ সুর

বইমেলায় বিদায়ের বিষণ্ণ সুর

প্রতি বছর অমর একুশে বইমেলা যেখানে ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হয়, সেখানে করোনা মহামারির কারণে এবার অনুষ্ঠিত হলো ১৮ মার্চ থেকে। তবে মার্চের শেষে করোনা প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় বইমেলা সংকুচিত করে আনে কর্তৃপক্ষ। ফলে এবার মেলা জমে ওঠার সুযোগ পায়নি। এতে প্রকাশকরা বেশ আশাহত। আশাহত লেখক-পাঠকরাও। যে পরিমাণ টাকা বিনিয়োগ করে স্টল নির্মাণ, বিক্রয়কর্মীদের রাখা হয়েছে তা পুষিয়ে উঠতে না পারায় তাদের মুখে বিরাজ করে বিষাদের ছায়া। 

আর মাত্র একদিন পরেই শেষ হচ্ছে বাঙালির প্রাণের মেলা। এ নিয়ে লেখক-প্রকাশকদের মধ্যে যেমন ছিল বিদায়ের বিষণ্ণ সুর তেমনি তারা এ বিদায়কে বিষাদময় বিদায় হিসেবে দেখছেন।

হতাশা প্রকাশ করে পুঁথিনিলয় প্রকাশনীর ব্যবস্থাপক আফজাল অরণ্য বলেন, “বইমেলা আসলে বাঙালির প্রাণের মেলা। অনেক প্রতিকূলতা মাথায় নিয়ে এবার বইমেলা শুরু হয়েছিল। এমনিতে গত এক বছর ধরে ক্ষতির সম্মুখিন ছিলাম। এবারের মেলায় এসে আরো বেশি পরিমাণে ক্ষতির সম্মুখিন হলাম। সবমিলে আমরা হতাশ। বিদায়টা আসলে আমাদের জন্য কোনোভাবেই সুখকর নয়।”

সাহিত্যদেশ প্রকাশনীর প্রকাশক শফিক সাইফুল বলেন, “প্রতিটি বিদায়ই কষ্টের। তবে এবারের বিদায়টা আরো বেশি কষ্টের। বসে থাকাটাও আরও কষ্টের। বসে থেকে প্রকাশকদের পুঁজি ক্ষয় হচ্ছে। বইমেলা আরো আগেই বন্ধ করে দেওয়াটা উচিত ছিল।”

নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও এবারের বইমেলাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তরুণ কবি অরবিন্দ চক্রবর্তী। তিনি বলেন, এবারের বইমেলাটা কবে শুরু হলো আর কবে শেষ হচ্ছে— এটা ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না। তবুও অভাবনীয় বিষয় হলো, অবশেষে আমাদের বইমেলাটা হলো। পরিমাণে কম হলেও পাঠকরা এসেছে। এটা সত্যিই বিস্ময়কর। সবকিছু মিলে এবারের বইমেলাটা আমি ইতিবাচকভাবেই দেখি। তবে প্রকাশকরা যে ইনভেস্ট করেছে সেভাবে তাদের টাকা উঠেনি। তাদের জন্য এক ধরনের খারাপ লাগা আছে। আশা করছি আগামী বছর বইমেলাটা আমরা স্বাভাবিকভাতেই পালন করতে পারব।”

কবি ও সংগীতশিল্পী শুভ্রা দেবনাথ বলেন, “বিদায়টা আসলে কষ্টের। এত প্রতিকূলতার মধ্যেও যে এবার বইমেলা হলো সেটা আসলে অনেক বড় বিষয়। আশা করি ভবিষ্যেতেও আরও সুন্দর করে, আরো সুস্থভাবে হবে বইমেলা— সে শুভকামনা থাকলো।” 

মেলার বিদায়টা লেখকের জন্য শোকের উল্লেখ করে কথাসাহিত্যিক স্বকৃত নোমান বলেন, “অনিশ্চিয়তার মধ্য দিয়েও এবারের বইমেলা হয়েছে। কিন্তু অনেক নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে বইমেলাটা শেষে হচ্ছে। প্রতি বছর যে মেলা পেয়ে থাকি, সে মেলা এবার আমরা পাইনি। মেলার সেই প্রাণ, পাঠকের যে ভীড় সেটা আমরা পাইনি। সে কারণে লেখক হিসেবে আমার দহন রয়েছে। কারণ, যেসব পাঠক সারাদেশ থেকে আসে তারা নানা কারণে আসতে পারেনি। বইমেলার শেষ হওয়ার মধ্য দিয়ে অনেক পাঠকের সঙ্গে দেখা হয় ও বন্ধন তৈরি হয়। সেই দেখা-সাক্ষাতটা এক বছরের জন্য শেষ হয়ে যায়। ফলে প্রত্যেক লেখকের মধ্যে এক ধরনের শোকও কাজ করছে।”

স্বকৃত নোমান আরো বলেন, “এক ধরনের আনন্দও কাজ করে যে আমরা আবার নতুন করে আগামী বইমেলার জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকব। আশার করছি, সমস্ত সংশয় ও বিপদ কাটিয়ে আগামী বইমেলা আমরা সুন্দর ও সুস্থভাবে করতে পারবো— সেই সুন্দর দিনের প্রতীক্ষায় থাকলাম।”

কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা বলেন, “বইমেলায় এই বিষাদের সুর মেলার শুরু থেকেই ছিল। তবু আমি বিদায় দিচ্ছি না মেলাটাকে। এক বছর পরে তো মেলাটা হবেই। আমি মনে করি, বইমেলাটা অনলাইন সংস্করণ করে দেশে এবং বিদেশে প্রচার করাটা উচিত ছিল। সেটা আমরা আগে করিনি। ভবিষ্যতে মেলা করতে হবে, এ কাজটি করতে হবে। তাহলে এখানে জমে উঠুক বা না উঠুক; অনলাইনে হলেও জমবে। কারণ, ঘরে বসে আমরা খাবার কিনছি, তাহলে ঘরে বসে আমরা বই কিনতে পারবো না কেন?”

রোববার ছিল বইমেলার ২৫ তম দিন। মেলা শুরু হয় বেলা ১২ টায়, চলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। আজ নতুন বই এসেছে ৪৭টি।  গল্প-৪, উপন্যাস-৭, প্রবন্ধ-২, কবিতা-১৬, গবেষণা-১, ছড়া-২, জীবনী-২, বিজ্ঞান-১, ভ্রমণ-২, ইতিহাস-১, ধর্মীয়-৩, অনুবাদ-৩ ও অন্যান্য বিষয়-৩টি বই।

সোমবার মেলার শেষ দিন। বেলা ১২টায় শুরু হয়ে বিকেল ৫ টায় শেষ হবে।