• ঢাকা
  • শনিবার, ২৮ মে, ২০২২, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৬, ২০২২, ০৫:২৪ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : জানুয়ারি ১৬, ২০২২, ১১:২৪ এএম

জীবন চলে বাঁশির সুরে সুরে

জীবন চলে বাঁশির সুরে সুরে
ছবি - মৌলভীবাজার শহরের হযরত সৈয়দ শাহ মোস্তফা (র.) উরুস ও মেলায় বাঁশি বাজাচ্ছেন ফজলুর রহমান।

পুলক পুরকায়স্থ//

বসেছে মেলা। হই-হুল্লোড় চারিদিকে। হঠাৎ শোনা গেলো বাঁশির করুণ সুর। এগিয়ে গিয়ে দেখা মিললো বাঁশি বাজাচ্ছেন ফজলুর রহমান।

মৌলভীবাজার জেলা শহরে অনুষ্ঠিত হযরত সৈয়দ শাহ মোস্তফা (র.) উরুস ও মেলায় দেখা হয় চুয়াত্তরোর্দ্ধ এই বাঁশি বিক্রেতার সঙ্গে।

ফজলুর রহমান বাঁশের বাঁশি তৈরি করে আর তা বাজিয়ে বাজিয়ে বিক্রি করে বেড়ান গ্রাম থেকে শহর, শহর থেকে গ্রামের পথে-প্রান্তরে।

ফজলুর রহমান জানান, কিশোরগঞ্জের ভৈরবে তার বাড়ি। ১৯৬২ সালে চৌদ্দ বৎসর বয়সে শিখেছিলেন বাঁশি বাজানো। স্ত্রী, ৪ ছেলে ১ মেয়ে নিয়ে তার সংসার। এক ছেলে বিদেশ থাকে। ছোট ছেলে প্রতিবন্ধী। অন্য ছেলেমেয়েদের বিয়ে হয়ে গেছে। ৭৪' সালে সাভারের একটি জুট মিলে চাকরি হয়। চাকরিরত অবস্থায় বাঁশের বাঁশি তৈরি করে বিক্রি করতেন। তখনও বাজাতেন বাঁশি।

আলাপ কালে জানা যায়, চাকরি থেকে অবসরের পরপর তিনি শখের বাঁশের বাঁশি তৈরি করতেন। সেই সাথে দেশের বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত মেলায় বাঁশি বাজিয়ে বাঁশি বিক্রি করেন।

বাঁশিওয়ালা বলেন, 'বয়স হয়েছে অনেক। এবারের এই মেলা হয়তো শেষ মেলা, আর বাঁশি বাজাতে পারবো কিনা জানি না।'

তিনি জানান, ছেলেরা সংসার চালায়, এখন কোন অভাব অনটন নেই। তারপরও বাঁশি বাজানোর নেশায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে বেড়ান। এখন বাঁশি তৈরি করেন না, পাইকারি কিনে অল্প লাভে বিক্রি করেন। ছেলেরা আসতে দেয় না, লুকিয়ে আসেন তিনি।

বিক্রি কেমন হচ্ছে। এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এখন আর আগের মতো বাঁশের বাঁশি বিক্রি হয় না। যান্ত্রিক যুগে এই বাঁশির সুর কেউ চায় না শুনতে, কিনতেই চায় না। তবে মাঝেমধ্যে ছোট্ট বাচ্চাদের জন্য কেউ কেউ বাঁশি কিনে নেন।

ফজলুর রহমান বলেন, 'জীবনের পড়ন্ত বেলায় এসে বাঁশি বাজাতে গিয়ে, শ্বাস নিতে এখন বড় কষ্ট হয়। কিন্তু শখের কাছে শারীরিক যন্ত্রণা যে হার মানে না।'

শুধুমাত্র শরীরকে সুস্থ ও মানসিক প্রশান্তির জন্য এই বাঁশিকে আমরণ আগলে রাখতে চান বলে জানান তিনি।

 

এসকেএইচ//