• ঢাকা
  • বুধবার, ০৫ অক্টোবর, ২০২২, ২০ আশ্বিন ১৪২৯
প্রকাশিত: এপ্রিল ১৬, ২০২২, ০২:০৮ এএম
সর্বশেষ আপডেট : এপ্রিল ১৬, ২০২২, ০২:০৮ এএম

জন্মজয়ন্তী

শুভ জন্মদিন হে গুণী

শুভ জন্মদিন হে গুণী

আশির দশকে টেলিভিশন নামক ইলেকট্রনিক বাক্সটি আমাদের বাঙালি জীবনে বিনোদনের মোক্ষম বাহন ছিল। মফস্বলের নিভৃত শহর চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমার শৈশব কেটেছে, সম্ভবত ১৯৮০ সালের মে মাসে আব্বা একটা ১৭ ইঞ্চি সাদাকালো টেলিভিশন কিনেছিলেন, নাশন্যাল প্যানাশনিক ব্রান্ডের। ১৯৮২ সালে আব্বা যখন নাটোরে বদলি হলেন তখনও আমাদের সাদাকালো টেলিভিশন। তবে আকারে ১৭ ইঞ্চি বৃদ্ধি পেয়ে ২০ ইঞ্চি হয়েছে, টেলিভিশনের ব্রান্ডও পরিবর্তন করে এবার আব্বা ফিলিপস্ টেলিভিশন কিনলেন। বেশ জমিয়ে কার্টুন ছবি, দু-একটি ইংরেজি সিরিয়াল, রাত আটটার বাংলা সংবাদ, সপ্তাহের নাটক, গানের অনুষ্ঠান এবং মাঝে মাঝে ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান দেখতাম। বাঁশের ডগায় এন্টিনা বেঁধে বিটিভি দেখতে হতো, আবার কলকাতা দূরদর্শন দেখতে হলে বাঁশ ঘুরিয়ে উত্তর-দক্ষিণ কোণে বাঁকা করতে হতো এন্টিনাকে। মাঝে মাঝে ফ্রিকুইন্সি থাকত না, তখন কত রকম চেষ্টা যে করতাম, সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। ১৯৮৪ সালে বিটিভির ঈদ ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান আনন্দ মেলায় মোটা ফ্রেমের চশমা চোখে আবেদ খান নামের সুদর্শন একজন উপস্থাপককে দেখেছিলাম। ভদ্রলোক বিনম্র স্বরে কথা বলেন, শুদ্ধ উচ্চারণ তাঁর, আবার তুমুল জনপ্রিয় সাংবাদিকও। তাঁর আকর্ষণীয় বাচন এবং বিনয় আমাদের কোমল মনকে দারুণ প্রভাবিত করেছিল। ১৯৮৪, ১৯৮৬, ১৯৯১ সালে ও ২০১৫ সালে বিটিভির ঈদ আনন্দ মেলার উপস্থাপনা করেন আবেদ খান ও ড. সানজিদা আখতার। এরপর বিটিভির বেশকিছু অনুষ্ঠানে আবেদ খান অনিবার্য হয়েছিলেন। প্রযোজক নাওয়াজীশ আলী খানকে অশেষ ধন্যবাদ জানাতে হয়, কারণ তিনি আবেদ খানের বহুমুখী প্রতিভার অন্যতম একটি বিচ্ছুরণকে দর্শক-শ্রোতার সামনে পরিবেশনের সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছিলেন। আবেদ খানের সৃজনশীল এই কর্ম মাধ্যমটি নইলে অপূর্ণ থেকে যেত। নব্বই দশকে (১৯৯৬-৯৯ সালে) অনুসন্ধানমূলক টেলিভিশন রিপোর্টিং সিরিজ ‘ঘটনার আড়ালে’ নামে একটি জনপ্রিয় অনুসন্ধানী অনুষ্ঠান হয়েছিল আবেদ খানের সঞ্চালনায়। খুব উৎসাহ নিয়ে দেখতাম।

দেশের এমন জনপ্রিয় টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব ও খ্যাতনামা সাংবাদিক আবেদ খানের সঙ্গে চেনাজানা হবে এমনটা কোনোদিন কল্পনাতেও ছিল না। হঠাৎ করেই ২০০০ সালে তাঁর সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ হলো। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে আমার মামা নাট্যজন মমতাজউদদীন আহমদের সঙ্গে গিয়েছিলাম। সেদিন সেখানে আবেদ খান, আহমদ মযহার, লুৎফর রহমান রিটন অপেক্ষা করছিলেন মামার জন্য। মামা কিছুক্ষণ আড্ডা দিয়ে আবেদ খানকে নিয়ে এলেন অফিসার্স ক্লাবে, লুচি সিঙ্গারা আর দেশি মুরগির টিকিয়া খেলাম। আবেদ খান তখন জননন্দিত সাংবাদিক হিসেবে চুটিয়ে কলাম লিখছেন বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে। বেশ নাম যশ তাঁর। রুচিশীল সাংবাদিক বলে তাঁর অন্য রকম একটা ইমেজও ছিল। শান্ত ও পরিশীলিত মানুষ আবেদ খান। সজ্জন ও শুদ্ধাচারী ব্যক্তিত্বের অধিকারী নিপাট ভদ্রজন এই মানুষটির সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতেই মুগ্ধ হয়েছিলাম। ভারি মিষ্টি দেখতে, ধবধবে সাদা গায়ের রং, মিশমিশে কালো চুল আর পরিপাটি পোশাক-আশাক। তাঁর সঙ্গে পরিচয়ের এই সুবর্ণ সুযোগটি আমার জীবনভাবনায় বিরাট পরিবর্তন এনেছিল। সংস্কৃতির সচেতন উদ্যোগ যে মানবিক মূল্যবোধ ও মননের জগৎকে সুশোভিত করতে সক্ষম এমন ভাবনা তখনও আমার মধ্যে প্রবল ছিল না। সেদিন আবেদ খানই আমার ভাবনাকে স্বচ্ছ করেছিলেন। আবেদ খান ও মমতাজ মামা ছিলেন হরিহর আত্মা। মমতাজ মামার চেয়ে বয়সে কনিষ্ঠ তাঁর এই বন্ধুটিকে আমি ‘আবেদ মামা’ ডাকার অভাবিত সুযোগ লাভ করেছিলাম। এরপর থেকে তিনি আমার আবেদ মামা। আমার ভরসা ও বিশ্বাসের অন্যতম নিরাপদ আশ্রয়স্থল তিনি। আবেদ মামা আমার মাকে আপা বলেই সম্বোধন করেন। গত বছরও আমার অসুস্থ মা’কে আবেদ মামা দেখতে রাজশাহী গিয়েছিলেন। যৎসামান্য অতিথি সেবা করার চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু মামা শারীরিকভাবে সুস্থ ছিলেন না।

সাংবাদিকতার সূত্রে আবেদ খানের সংযোগ ১৯৬২ সালে, প্রায় আটান্ন বছরের অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ জীবন। সফল সার্থক সাংবাদিক হিসেবে গগনচুম্বী জনপ্রিয়তা তাঁর জীবনকে পরিপূর্ণ করেছে। স্বদেশের সংবাদমাধ্যমে কলামিস্টকে তিনিই পেশায় রূপান্তরিত করেছেন। তাঁর ক্ষুরধার কলামে সাহিত্যের এক গাঢ়তম ছোঁয়া আছে। অনুকরণীয় এক রচনাশৈলী দিয়ে তিনি কলাম লিখেন, পাঠকচিত্ত এতে প্রশান্ত হয়। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের আগস্টে ইত্তেফাকে ‘ওপেন সিক্রেট’ তাঁর ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন। ‘ওপেন সিক্রেট’ প্রকাশিত হলে তা তৎকালীন সরকারের নজরে আসে। ‘ওপেন সিক্রেট’কে বাংলাদেশের তদন্তমূলক সাংবাদিকতার এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় বলে বিবেচনা করা হয়। ভোরের কাগজে তাঁর বিখ্যাত কলাম ‘প্রাঙ্গণে-বহিরাঙ্গনে’ এবং ‘টক অব দা টাউন’ জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছেছিল। দৈনিক সংবাদে ‘তৃতীয় নয়ন’ তাঁর অনবদ্য কলাম। ‘গৌড়ানন্দ কবি ভনে শুনে পুণ্যবান’ কলামটি দৈনিক জনকণ্ঠে প্রকাশিত অন্যতম পাঠকপ্রিয় কলাম। এটি স্যাটায়ার-ধর্মী  কলাম ছিল। ১৯৯৫ সাল থেকে জনকণ্ঠে সম্পাদকীয় পাতায় তিনি ‘অভাজনের নিবেদন’ এবং প্রথম পাতায় ‘লেট দেয়ার বি লাইট’ শিরোনামের মন্তব্য প্রতিবেদন লিখতেন। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের তীব্র সমালোচনা এবং সমসময়ের রাজনীতি নিয়ে কলাম দুটোতে আবেদ খান অকপটচিত্তে দেশের রাজনৈতিক ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন একজন দেশদরদি ধারাভাষ্যকারের মতো। আবেদ খানকে জনকণ্ঠের মাধ্যমে দেশব্যাপী ব্যাপক পরিচিত করার ক্ষেত্রে আরেক প্রথিতযশা সাংবাদিক তোয়াব খানের অবদান অনস্বীকার্য। তিনি দৈনিক ‘প্রথম আলো’-তে ‘কালের কণ্ঠ’ নামে একটি কলাম লিখতেন। এর বেশ কিছুদিন পর দৈনিক কালের কণ্ঠ নামে একটি পত্রিকা প্রকাশ করেন। তিনিই ছিলেন ‘কালের কণ্ঠে’র সম্পাদক এবং প্রকাশক। কিছু অনলাইন পোর্টালেও লিখেছেন আবেদ খান। সম্প্রতি তাঁর সম্পাদিত দৈনিক জাগরণে রাজনৈতিক ইতিহাসমূলক কলামগুলো ইতিহাসের নিরিখে অমরত্ব পাবে বলে বিবেচনা করি। তিনি অজানা ইতিহাস নিয়ে নতুন একটি অনুসন্ধানী কলাম ‘মেজর মঞ্জুর ও জিয়া হত্যার পূর্বাপর’ শিরোনামে লিখে চলেছেন। বাংলাদেশে টকশোর সূচনা হয়েছিল আবেদ খানের হাত দিয়েই। একুশে টেলিভিশনে প্রথম তিনিই ‘প্রতিবেদন’ শিরোনামে টকশো শুরু করেছিলেন।

আবেদ খান মহান মুক্তিযুদ্ধের একজন বীর সৈনিক। ১৯৭১-এর পয়লা মার্চ তিনি পুরান ঢাকার নারিন্দা-ওয়ারী অঞ্চলে ‘স্বাধীন বাংলা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠনে মুখ্য ভূমিকা রাখেন। তিনি এই কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন। এবং যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতিপর্বে এই উদ্যোগ বিরাট একটি চ্যালেঞ্জ ছিল। ১৯৭১ সালে ২৫ মার্চের কালোরাতে ট্যাংকার নিয়ে পাকিস্তানি-হানাদার বাহিনী ইত্তেফাক ভবনে আগুন জ্বালিয়ে দেয়, পাক হামলার সময় তিনি ইত্তেফাকের বার্তা বিভাগে কর্মরত ছিলেন এবং অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান। ধ্বংসের তাণ্ডবলীলায় মত্ত হানাদারদের নির্মম নির্যাতন তিনি স্বচক্ষে দেখেন। সংবাদ, ডেইলি পিপল, ইত্তেফাক ভবন এবং সারা ঢাকায় পাক হানাদার বাহিনীর ভয়াল ধ্বংসলীলার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে আকাশবাণী কেন্দ্রের মাধ্যমে স্বনামে যাবতীয় ঘটনা বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরেন। বাংলা এবং ইংরেজি ভাষায় তাঁর সাক্ষাৎকার স্বকণ্ঠে প্রচারিত হয় প্রথম বাঙালি কর্মরত সাংবাদিক হিসেবে। এরপর তিনি আকাশবাণী কলকাতা কেন্দ্র থেকে নিয়মিত সাপ্তাহিক অনুষ্ঠান ‘জবাব দাও’ স্বরচিত ও স্বকণ্ঠে প্রচার করেন এবং তা প্রতি সপ্তাহে দু’বার প্রচারিত হওয়ায় প্রভূত জনপ্রিয়তা অর্জন করে। এরই পাল্টা হিসেবে তখন রেডিও পাকিস্তান ‘জবাব নিন’ নামে কথিকা প্রচার শুরু করে। বিশ্ববাসী তাঁর দেওয়া বিবরণ জেনে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে অকুণ্ঠ সমর্থন দেন। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তিনি ৮নং সেক্টরে নাম অন্তর্ভুক্ত করান। মেজর আবু ওসমান চৌধুরী তখন সেক্টর আটের ভারপ্রাপ্ত সেক্টর কমান্ডারের দায়িত্বে ছিলেন। পরবর্তী সময়ে মেজর মঞ্জুর এই সেক্টরের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আবেদ খান ১২টি বাম দলের সমন্বয়ে জুন মাসে গঠিত ‘জাতীয় মুক্তিসংগ্রাম সমন্বয় পরিষদ’-এর পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম সংগঠক ছিলেন। আহ্বায়কের দায়িত্বও পালন করেন তিনি।

দেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আবেদ খান প্রথম সারির যোদ্ধা। নব্বই এর গণঅভ্যুথান, জিয়ার সেনাশাসন বিরোধী সাংস্কৃতিক আন্দোলন, একাত্তরের ঘাতক দালালদের শাস্তির দাবির আন্দোলন, গণ-আদালত, বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের দাবি, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় কার্যকরের দাবিতে গণজাগরণেও তিনি অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ে, হকারদের দাবির সংগ্রামেও আবেদ খান সম্মুখযোদ্ধা। কখনো কোনো লোভের কাছে তিনি পরাস্ত হননি, কোনো গ্লানি তাঁকে স্পর্শ করতে পারেনি। বিপর্যয়ের মাঝে দিন কেটেছে কখনও কখনও, তবু আপোস করেননি। বাংলাদেশের ভূমিতে এই মুক্তিযোদ্ধার সুস্পষ্ট রাজনৈতিক বিশ্বাস ও দর্শন আছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণে আবেদ খানের যত আগ্রহ ও আকাঙ্ক্ষা। তিনি সামাজিক সমতায় বিশ্বাসী। তাঁর অকুণ্ঠ সমর্থন আছে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নে। চিন্তা ও কর্মের এমন মিল থেকেই তিনি আজও চলমান আন্দোলনে একসাথে পথ চলছেন।

আবেদ খান বিস্তর লিখেছেন, কিন্তু দুই মলাটে আবদ্ধ করেছেন সামান্যই। তাঁর অনেক লেখা এখনও বই আকারে প্রকাশিত হয়নি। এসবে আবেদ খানের সীমাহীন অলসতা দেখেছি। ষড়যন্ত্রের জালে বিপণ্ন রাজনীতি (১ম ও ২য় খণ্ড) অভাজনের নিবেদন, গৌড়ানন্দ কবি ভনে শুনে পুণ্যবান, কালের কণ্ঠ, প্রসঙ্গ রাজনীতি, হারানো হিয়ার নিকুঞ্জপথে (গল্প সংকলন), আনলো বয়ে কোন বারতা, বলেই যাব মনের কথা, গৌড়ানন্দসমগ্র, অনেক কথা বলার আছে, দেশ কি জঙ্গিবাদের অভয়ারণ্য হবে, ও রাজকন্যে তোমার জন্য, স্বপ্ন এলো সোনার দেশে আমাদের টুকুনবাবু ইত্যাদি তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ। আবেদ খানের অনেক কলাম এখনও গ্রন্থবদ্ধ হয়নি। তাঁর সঙ্গে বেশকিছু গ্রন্থের যৌথ সম্পাদনা করার দুর্লভ সুযোগ আমার হয়েছে। এমন উদার সম্পাদক আমি দেখিনি। অন্যের মতামতকে তিনি সম্মান ও শ্রদ্ধা দিয়ে বিবেচনা করেন। স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ করে দেন। এই মহৎ গুণটি এই সময়ে বিরল।

অমূল্য দেশদরদি বীরমুক্তিযোদ্ধা আবেদ খান আটান্ন বছর ধরে সাংবাদিকতার পেশায় যুক্ত আছেন, কিন্তু অতিশয় দুঃখ ও বেদনার কথা তিনি এখন অবধি কোনো জাতীয় স্বীকৃতি পেলেন না। এটা জাতির জন্য লজ্জাজনক ঘটনা, বেদনার তো বটেই। আজ ৭৮-এ পদার্পণ করলেন। কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে শতায়ু হতে হবে আপনাকে। শুভ জন্মদিন আবেদ খান।

 

 

লেখক : সাংবাদিক, গবেষক ও সংস্কৃতি কর্মী।