• ঢাকা
  • সোমবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৯, ৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬
প্রকাশিত: জুলাই ১২, ২০১৯, ০৮:৪৯ এএম
সর্বশেষ আপডেট : জুলাই ১২, ২০১৯, ০৮:৫২ এএম

সংসদীয় দলের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী

‘নৌকার বিরোধিতাকারীদের আর সহ্য করা হবে না’

জাগরণ প্রতিবেদক
‘নৌকার বিরোধিতাকারীদের আর সহ্য করা হবে না’

দলের মধ্যে কোন্দল-দ্বন্দ্বে জড়িত মন্ত্রী-এমপিদের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, উপজেলাসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যেসব এমপি নৌকার প্রার্থীর বিরোধিতা করেছেন তারা আগামীতে দলের মনোনয়ন পাবেন না। নৌকা মার্কা নিয়ে বিজয়ী হয়ে এলাকায় নৌকার বিরুদ্ধে কাজ করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে শুক্রবার (১২ জুলাই) দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) গভীর রাতে জাতীয় সংসদ ভবনের সরকারি দলের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার কাছে খবর আছে একাদশ নির্বাচনে নৌকা মার্কা নিয়ে ভোট করে জিতে এসে অনেকেই উপজেলা, ইউপি নির্বাচনসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নৌকা মার্কা প্রার্থীর বিরোধিতা করেছেন। আবার অনেক প্রার্থী দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে এসে নির্বাচন করেছে। আজকের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় এসব বিষয়ে আলোচনা হবে। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দেন তিনি।

শেখ হাসিনা দলীয় শৃঙ্খলা, সংসদে শৃঙ্খলা বজায় রাখাসহ যার যার নিজ এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখার উপর জোর দেন। বলেন, অনেকেই দলীয় শৃঙ্খলা ভেঙে নিজের ইচ্ছে অনুযায়ী চলছেন। এটা হতে দেয়া যায় না। এ বিষয়টি আমাকে এখন দেখতেই হবে। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী নিজ নিজ এলাকায় সংগঠন জোরদার করার নির্দেশনা দেন। এবং নিজ নিজ এলাকায় দলীয় কার্যালয় স্থাপনের কথা বলেন।

বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগের একাধিক সংসদ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী নিজ নিজ নির্বাচনি এলাকা এবং সংসদে পরিপূর্ণ শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য সংসদ সদস্যদের প্রতি তাগিদ দিয়ে বলেন, যার যার এলাকায় যান, দলীয় কর্মকাণ্ডে মনোযোগী হন, নেতা-কর্মীসহ জনগণের পাশে থাকুন, তাদের সুখ-দুঃখের সঙ্গী হয়ে কাজ করুন।

তিনি প্রত্যেক জেলা-উপজেলায় নিজস্ব দলের কার্যালয় স্থাপনের তাগিদ দিয়ে বলেন, যেসব জেলা বা উপজেলায় নিজস্ব দলীয় কার্যালয় নেই, দ্রুত সেখানে কার্যালয় নির্মাণ করতে হবে। এ ব্যাপারে তিনি পরিপূর্ণ রিপোর্ট দেয়ার জন্য বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকদের নির্দেশ দেন।  তিনি বলেন, এবারে আমরা বড় বাজেট পেশ করেছি। বাজেট যাতে বাস্তবায়ন হয় সে বিষয়ে আপনারা মনোযোগী হন, কাজ করুন, সহায়তা করুন।

সভায় সাবেক এক মন্ত্রীর এলাকায় দলীয় কোন্দলের কারণে উপজেলা নির্বাচনে এক কর্মীর মৃত্যুর কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আপনারা দলে কোন্দল করবেন না, মিটিয়ে ফেলুন, এটা মেনে নেয়া কঠিন। আপনারা নিজ নিজ এলাকায় শৃঙ্খলা বজার রাখুন, দলীয় কোন্দল বন্ধ করুন। একত্রিত হয়ে কাজ করুন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবার দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ বাজেট দেয়া হয়েছে। বাজেট বাস্তবায়নকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। তাই নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ যেন দ্রুত সম্পন্ন হয় সেদিকে নজর রাখবেন। উন্নয়নের কাজকে ত্বরান্বিত করুন। মনে রাখবেন, দেশের জনগণ আমাদের ওপর পূর্ণ আস্থা-বিশ্বাস রেখে ভোট দিয়েছে। জনগণের সেই ভোটের মর্যাদা আমাদের রক্ষা করতে হবে।

নির্বাচনের এতোদিন পরেও সাবেক মন্ত্রী-এমপিদের ন্যাম ভবন ও সরকারি বাড়ি না ছাড়ার সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, এগুলো দ্রুত ছেড়ে দিতে হবে। নতুন যারা মন্ত্রী-এমপি হয়েছেন তাদের থাকার ব্যবস্থা করে দিতে হবে। তিনি বলেন, অনেকে মন্ত্রী হয়ে সরকারি বাড়ি বরাদ্দ পাওয়ার পরও ন্যাম ভবনের ফ্লাট দখল করে রেখেছেন। তাদের পিওন, ড্রাইভার, গানম্যানরা এসব ফ্লাটে থাকছেন। ন্যাম ফ্লাট পিওন-ড্রাইভারদের জন্য নয়। ন্যাম ভবনের প্রতি যদি মন্ত্রীদের এতই দরদ থাকে, তবে মন্ত্রীর বাসভবন ছেড়ে এখানে চলে আসুন। আর যারা সাবেক মন্ত্রী-এমপিরা এখনও বাসা ছাড়েননি, দ্রুত তা ছেড়ে দিতে হবে।

বৈঠকে সংরক্ষিত মহিলা আসনের কয়েকজন সংসদ সদস্য তাদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির দাবি জানান। জবাবে বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী। 

সূত্র জানায়, বৈঠকে বক্তব্য রাখেন- সাবেক মন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ, প্রতিমন্ত্রী মুন্নুজান সুফিয়ান, হুইপ আতিউর রহমান আতিক, ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, এ কে এম শামীম ওসমান, মমতাজ বেগম প্রমূখ।

এইচএস/টিএফ

আরও পড়ুন