• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
প্রকাশিত: আগস্ট ১৪, ২০১৯, ১০:০০ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : আগস্ট ১৪, ২০১৯, ১০:০২ পিএম

বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে আনা যায়নি দীর্ঘদিনেও

হালিম মোহাম্মদ
বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে আনা যায়নি দীর্ঘদিনেও
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান - ফাইল ছবি

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় ফাঁসির দণ্ড নিয়ে বিদেশে পালিয়ে থাকা ৬ আসামির একজনকেও এখনো ফিরিয়ে আনা যায়নি। আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেছেন, সেসব দেশের আইনি জটিলতায় তাদের ফিরিয়ে আনা যাচ্ছে না। সম্প্রতি যেখানে বঙ্গবন্ধুর খুনিরা অবস্থান করছে সেখানে বাংলাদেশি অভিবাসীরা তাদের দেশে পাঠানোর দাবিতে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন- এমন খবরও রয়েছে। তবে সব মিলিয়ে খুনিদের দেশে আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। 

পুলিশ সদর দফতরের ইন্টারপোল শাখার মাধ্যমে পলাতক খুনিদের অবস্থান নিশ্চিত করা হয়। এদের মধ্যে নূর চৌধুরী কাডানায়, রাশেদ চৌধুরী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, শফিকুল হক ডালিম স্পেনে, মোসলেউদ্দিন জার্মানিতে এবং আবদুর রশিদের অবস্থান পাকিস্তানে বলে তথ্য রয়েছে। তবে আবদুল মাজেদের অবস্থান সম্পর্কে এখনও জানতে পারেনি সরকার। দণ্ডিত অপরজন আবদুল আজিজ পাশা পলাতক অবস্থায় জিম্বাবুয়েতে মারা যান।

পুলিশ সদর দফতরের ইন্টারপোল শাখার পদস্থ এক কর্মকর্তা জানান, খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আইনমন্ত্রীকে প্রধান করে ২০১০ সালের ২৮ মার্চ একটি টাস্কফোর্স গঠন করে সরকার। সেই টাস্কফোর্সে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সদস্য। মূলত পুলিশ সদর দফতরের ইন্টারপোল শাখার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের মধ্যে কে কোথায় অবস্থান করছে এ তথ্য বের করার পর তা টাস্কফোর্সকে জানানো হয়েছে। ইন্টারপোলের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার নথিও পৌঁছে দেয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট দেশের পুলিশের কাছে। এখন তাদের ফিরিয়ে আনার বিষয়টি টাস্কফোর্সই তদারকি করছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর পালিয়ে থাকা খুনিরা কে কোথায় আছে সেই তথ্য সরকারের কাছে আছে। পলাতক খুনিদের অবস্থান মোটামুটি শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের ফিরিয়ে আনার জন্য বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আমরা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা বিশ্বাস করি, বঙ্গবন্ধুর খুনিদের আমরা ফিরিয়ে আনতে পারব এবং আমাদের আদালতের দেয়া রায় আমরা বাস্তবায়ন করতে পারব। 

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর খুনিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার জন্য কোর্টের মাধ্যমেই সিদ্ধান্ত হয়েছে। আমরা প্রায়গুলোই বাজেয়াপ্ত করেছি। আরো খুঁজে বেড়াচ্ছি খুনিদের মধ্যে কার কোথায় সম্পত্তি রয়েছে। পেলে সেগুলোও আমরা বাজেয়াপ্ত করব। এ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় পলাতক বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে উভয় দেশে ল ফার্ম নিয়োগ করা হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত খুনিদের অবস্থান চিহ্নিত করতে এবং দেশে ফিরিয়ে আনতে গঠিত টাস্কফোর্স সর্বাত্মক কার্যক্রম গ্রহণ করছে। 

উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর সড়কের বাড়িতে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করে সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী সদস্য। ইতিহাসের সবচেয়ে নিষ্ঠুর ও বর্বরোচিত এই হত্যাকাণ্ডে সেদিন বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে প্রাণ হারান তার সহধর্মিণী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেহা মুজিব, পুত্র শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশু শেখ রাসেলসহ পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজি জামাল। হত্যাকাণ্ড থেকে বাঁচতে পারেননি বঙ্গবন্ধুর অনুজ শেখ নাসের, ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত, তার ছেলে আরিফ, মেয়ে বেবি ও সুকান্তবাবু, বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে যুবনেতা ও সাংবাদিক, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক শেখ ফজলুল হক মণি, তার অন্তঃস্বত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি এবং আবদুল নাঈম খান রিন্টু ও কর্নেল জামিলসহ পরিবারের ১৬ জন সদস্য ও ঘনিষ্ঠজন। এসময় বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে থাকায় প্রাণে রক্ষা পান।

হত্যার পরিকল্পনা ও যোগসাজশের অভিযোগে সাবেক ১২ জন সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালতে ফাঁসির দণ্ডাদেশ দেয়া হয়। ২০১০ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ৫ জনের ফাঁসির দণ্ড কার্যকর হয়। এরা হলেন- সাবেক লে. কর্নেল ফারুক রহমান, মহিউদ্দিন আহমেদ (আর্টিলারি), শাহরিয়ার রশিদ খান, একএম মহিউদ্দিন আহমেদ (ল্যান্সার) এবং সাবেক মেজর বজলুল হুদা।
এদের মধ্যে বজলুল হুদাকে থাইল্যান্ডের সঙ্গে বন্দিবিনিময় চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে সরকার ব্যাংকক থেকে এবং সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় যুক্তরাষ্ট্র থেকে সাবেক লে. কর্নেল একেএম মহিউদ্দিন আহমেদকে (ল্যান্সার) দেশে ফেরত আনে।

এইচ এম/ এফসি

আরও পড়ুন