• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৯, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
প্রকাশিত: আগস্ট ২৫, ২০১৯, ০৯:১৭ এএম
সর্বশেষ আপডেট : আগস্ট ২৫, ২০১৯, ০৯:৪১ এএম

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রতি ঘণ্টায় জন্ম নিচ্ছে ৪ শিশু

হালিম মোহাম্মদ 
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রতি ঘণ্টায় জন্ম নিচ্ছে ৪ শিশু

টেকনাফের উখিয়ায় ৩২ রোহিঙ্গা শিবিরে প্রতি ঘণ্টায় জন্ম নিচ্ছে ৪ শিশু। সরকারের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গা পরিবারগুলোকে জন্ম নিয়ন্ত্রণের কথা বলা হলেও সেটি মানছে না তারা। বেসরকারি এনজিও সংস্থাগুলোর ত্রাণ ও অর্থ সুবিধা পেতে রোহিঙ্গারা অধিক সন্তান জন্ম দিচ্ছেন বলে অনেকেই মনে করছেন। 

স্থানীয় সিভিল সার্জনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতিদিন প্রায় ৮৫ থেকে ৯০ জন শিশুর জন্মগ্রহণ করছে। প্রতি বছরে যার সংখ্যা দাঁড়ায় ৩১ হাজার ২৫ ও ২ বছরে ৬২ হাজার ৫০।

গতকাল শনিবার (২৪ আগস্ট) রাতের ১০টায় জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের পরিসংখ্যানের বরাত দিয়ে কক্সবাজারের জেলা সিভিল সার্জন ডা. আবদুল মতিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ডা. আব্দুল মতিন বলেন, মিয়ানমার সেনা বাহিনীর নির্যাতনের মুখে দেশটির রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা। তারা অবস্থান করছে উখিয়া-টেকনাফের ৩২টি ক্যাম্পে। এসব ক্যাম্পে প্রতি ঘণ্টায় ৪ জন রোহিঙ্গা শিশু জন্ম গ্রহণ করছে। 

পরিকল্পিত উখিয়া চাই’র বেসরকারি এনজিওর আহ্বায়ক নূর মোহাম্মদ সিকদার বলেছেন, এনজিও সংস্থা রোহিঙ্গা শিশুদের এবং মায়েদের জন্য সামান্য পরিমাণে অর্থ বরাদ্দ দিয়ে তাদের সন্তান প্রসবে উৎসাহিত করছে। তারা মনে করছে, সন্তান হলেই তার জন্য আলাদা ভরণ-পোষণ পাওয়া যাবে। তাই ত্রাণের আশায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শিশু জন্মের সংখ্যা বাড়ছে। সরকারের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গা পরিবারগুলোকে জন্ম নিয়ন্ত্রণের কথা বলা হলেও সেটি মানছে না তারা।

এখন শঙ্কার বিষয় হচ্ছে বাংলাদেশে জন্ম নেয়া এবং বেড়ে ওঠা রোহিঙ্গা শিশু-কিশোরদের নাগরিকত্ব নিয়ে ভর্বিষ্যতে প্রশ্ন উঠতে পারে। সব মিলিয়ে অধিক হারে রোহিঙ্গা শিশুর জন্ম নিয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে রোহিঙ্গা শিশুদের নাগরিকত্ব বিষয়ে অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ দেশে জন্ম নেয়া রোহিঙ্গা শিশুদের জন্মসূত্রে বাংলাদেশি বলা যাবে না।

অভিবাসন ও শরণার্থী বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে দ্রুত দিক-নির্দেশনা দেয়া উচিত। যেসব শিশু বাংলাদেশে জন্ম নিচ্ছে তাদের তালিকা, জন্ম তারিখ, ব্লাড গ্রুপসহ প্রয়োজনীয় তথ্য থাকা উচিত।

সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল মতিন এ বিষয়ে বলেন, জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করতে রোহিঙ্গা নারীদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে তারা আগে থেকে না জানার কারণে একটু সময় লাগছে।

তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গাদের সেবায় নিয়োজিত ইন্টার সেক্টর কো-অর্ডিনেশন গ্রুপের (আইএসসিজি) দেয়া তথ্য অনুসারে, বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে ৬৩ শতাংশ নারী। এদের মধ্যে ১৩ শতাংশ কিশোরী এবং ২১ শতাংশ গর্ভবতী ও প্রসূতি। শিশুদের মধ্যে ৬-১৮ বছর বয়সী শিশুর হার ২৩ শতাংশ, ৫ বছরের কম বয়সী শিশুর হার ২১ শতাংশ।

এইচ এম/একেএস

আরও পড়ুন