• ঢাকা
  • সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৮ আশ্বিন ১৪২৬
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৯, ০৮:৩৫ এএম
সর্বশেষ আপডেট : সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৯, ০৮:৩৯ এএম

ঘুরে দাঁড়ানোর সামর্থ নেই জামায়াত-শিবিরের : মনিরুল 

হালিম মোহাম্মদ 
ঘুরে দাঁড়ানোর সামর্থ নেই জামায়াত-শিবিরের : মনিরুল 
সিটিটিসির প্রধান মনিরুল ইসলাম

রাজধানীসহ সারাদেশে সক্রিয় হয়ে উঠার চেষ্টায় রয়েছে জামায়াত-শিবির। তারা নিজেদের শক্তিশালী করতে অর্থের যোগানের পাশাপাশি সদস্য সংগ্রহে কাজ চলমান রয়েছে। শুধু তাই নয়, রাজধানীসহ সারাদেশে তারা নিজেদের জানান দিতে সম্প্রতি কয়েকটি বোমা হামলা চালিয়েছে। এ গুলো হচ্ছে, রাজধানীর গুলিস্তানে, মালিবাগ সিআইডি অফিসের সামনে ও সাইন্সল্যাবরেটরী মোড়ে মন্ত্রীর গাড়ি বহরের অদুরে বোমা হামলা। 

এছাড়া রাজধানীর ফার্মগেট খামার বাড়ি  রাস্তায় ও পল্টন মোড়ে রাস্তায় বোমা পেতে রাখা। একের পর এক বোমা হামলা এবং জনবহুল এলাকায় বোমা পুতে রাখার ঘটনায় প্রশাসনকে ভাবিয়ে তুলেছে। অপরাধ বিশেষজ্ঞ ও জঙ্গি দমন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করতে একটি গোষ্ঠী এ নাশকতার ঘটনা ঘটাচ্ছে। এর জন্য স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি যুদ্ধাপরাধী, জামায়াত-শিবিরের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ জড়িত থাকার কথা বলা হয়েছে। এ সব ঘটনা ঘটিয়ে তারা নিজেদের সক্রিয় থাকার কথা প্রশাসনকে জানান দিচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন অপরাধ বিশ্লেষকরা।
 
বিশেষজ্ঞদের মতে, জামায়াত-শিবিরের এহেন তৎপরতাকে নিবৃত্ত করতে সারাদেশে অভিযান চালিয়ে গত ৩ মাসে প্রায় ৩ শতাধিক নেতাকর্মী গ্রেফতার করেছে আইন শৃ্খংলা বাহিনী। এছাড়া যুদ্ধাপরাধীদের পরিবারের প্রতি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি কারাগারে আটক জঙ্গিদের জামিন দেয়ার বিষয়ে আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে তদারকি করছে সিটিটিসির কর্মকর্তারা। তারা প্রতিদিনই কারাগারের বন্দি জামিনের বিষয়টি মনিটরিং করছেন।   
       
বিশেষ করে রাজধানীর আশপাশে, কুমিল্লা, ঝালকাঠি, পঞ্চগড়, টাঙ্গাইল, সুনামগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ এবং চট্টগ্রামে জামায়াত শিবিরের তৎপরতা বেশি রয়েছে। উল্লেখিত জেলা শহরগুলোতে ব্যাপক ভাবে অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জেলা পুলিশ সুপার  এসপি জানিয়েছেন। তারা এসব বিষয়গুলো মনিটরিং করছেন। 
  
এদিকে পুলিশ সদর দফতর সূত্রে জানা গেছে, জামায়াত-শিবিরে নাশকতা কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা মিটিং থেকে গ্রেফতার করা হচ্ছে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের। এর মাঝে বঙ্গবন্ধু সেতুতে নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে জামায়াত-শিবিরের ৩৬ নেতাকর্মীকে আটক করে পুলিশ। 

পুলিশ জানায়, বঙ্গবন্ধু সেতুতে নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে জামায়াত-শিবিরের ৩৬ জন নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, বনভোজনের নামে তারা সেখানে নাশকতার পরিকল্পনা করছিলো। মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইলের গোপালপুর থেকে তাদের আটক করা হয়।

পুলিশ জানায়, তাদের কাছে বিভিন্ন ধরনের জিহাদি বই পাওয়া গেছে। আটকদের  মধ্যে কয়েকজনের নামে আগে থেকেই গোপালপুরসহ দেশের বিভিন্ন থানায় নাশকতার মামলা ছিলো।
এ বিষয়ে গোপালপুর থানার ওসি মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, আটক  জামায়াত-শিবিরের লোকজন দেশের বৃহৎ স্থাপনা বঙ্গবন্ধু সেতুতে নাশকতার পরিকল্পনা করেছিল। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য পূর্বে তারা বনভোজনের নামে সেতু এলাকায় রেকি করেছে। এর আগেও তারা নৌকা ভ্রমনে গিয়ে সরকার উৎখাতে বিভিন্ন ধরনের পরিকল্পনা করেছিল। 

অপরদিকে গত শুক্রবার (০৬ সেপ্টেম্বর) ঝালকাঠিতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারিসহ ১৬ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। ওইদিন সকালে জেলা পৌর শহরের শিতলাখোলা এলাকার একটি বাসা থেকে তাদের আটক করা হয়।

পুলিশ জানায়, শহরের শিতলাখোলা এলাকার এজিএম মহিউদ্দিন খোকনের বাসা ভাড়া নেয় জামায়াতের এক নেতা। ওই বাসায় গোপন বৈঠকে বসেন জামায়াতের স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা। সেখানে নাশকতার পরিকল্পনা করা হচ্ছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ফরিদুল হক, পৌর জামায়াতের আমির আব্দুল হাইসহ ১৬ জনকে আটক করে সদর থানা পুলিশের একটি দল। পরে ওই বাসার মালিক ও জনতা ব্যাংকের সাবেক এজিএম মহিউদ্দিন খোকনকেও আটক করে পুলিশ।

এ বিষয়ে ঝালকাঠির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম এম মাহমুদ হাসান জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জামায়াত নেতারা বৈঠকের কথা স্বীকার করেছে। এ ব্যাপারে পুলিশ বাদী হয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা দায়ের করেছে। 

এছাড়া সুনামগঞ্জে গোপন বৈঠক থেকে জামায়াতের ৬ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। পুলিশ জানায়, সুনামগঞ্জে গোপন বৈঠককালে বেশ কিছু প্রচারপত্রসহ জামায়াতে ইসলামীর ৬ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গত বুধবার মধ্যরাতে সদর উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের জর্জরিয়া গ্রাম থেকে জেলা ডিবি পুলিশের একটি দল তাদের  গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- মো. হোসেন, ইয়াসিন আলী, আবদুর রহিম, শমসের আলী, সাইদুর রহমান, জসিম উদ্দিন।
সুনামগঞ্জ ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর কাহি মুক্তাদির হোসেন গত সপ্তায় বৃহস্পতিবার জানান, সরকার বিরোধী গোপন বৈঠকের খবর পেয়ে ডিবি পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় বেশ কিছু প্রচারপত্রসহ (লিফলেট) ৬ জামায়াত নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। তবে ওই বৈঠকে থাকা আরও কমপক্ষে ১৫-২০ জন দৌঁড়ে পালিয়ে যান।

অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার হাজীগঞ্জে গোপন বৈঠক করে নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে জামায়াতের মহানগর আমিরসহ ৯ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতের আমির মাওলানা মাইনুদ্দিন, সদস্য, আনোয়ার, রাশেদ বেপারী, আলামিন, শহিদুল ইসলাম পিন্টু, হারুন অর রশিদ, জয়নাল আবেদিন ও জাকির হোসেন। জানা গেছে, শুক্রবার সকালে হাজীগঞ্জের একটি বাসায় নাশকতার উদ্দেশে মহানগর আমিরসহ ৫ জন গোপন বৈঠক করছিল। পরে তাদের দেয়া বক্তব্যর প্রেক্ষিতে আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও ৪জনকে আটক করা হয় ।

ফতুল্লার থানার ওসি এস এম মঞ্জুর কাদের জানান, গোপন বেঠক করার সময় মহানগর জামায়াতের আমিরসহ মোট নয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এছাড়া পঞ্চগড়ে গোপন বৈঠক থেকে ৪ জামায়াত নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে কয়েকটি সিডি ও ইসলামী বই জব্দ করে পুলিশ। গ্রেফতাররা হলেন- পঞ্চগড় পৌর জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির ও জগদল দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক জয়নাল আবেদীন (৪৩), পঞ্চগড় বাজার ইউনিট জামায়াতের আমির নাজিম উদ্দিন (৪৮), সেক্রেটারি মো. আতিক (৩০) এবং অবসরপ্রাপ্ত মাদরাসা শিক্ষক জামায়াত কর্মী শহিদুল ইসলাম (৬২)।

রাত সাড়ে ৮টার দিকে জেলা শহরের ধাক্কামারা এলাকার ডিস্টিলারিজ খালপাড়ায় ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি শহীদুল্লাহ পাটোয়ারী বাদলের বাড়িতে জামায়াত নেতাকর্মীদের গোপন বৈঠকের খবরে অভিযান চালায় পুলিশ। বৈঠকে ১০-১২ জন জামায়াত নেতাকর্মী ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন পালিয়ে গেলেও চারজনকে আটক করা হয়।
গত বুধবার দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে কুমিল্লা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে জামায়াত শিবিরের ১০ নেতাকর্মীকে  গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিদর্শক ফিরোজ মিয়া ও কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক মো. সালাউদ্দিন এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

পুলিশ জানায়, নাশকতামূলক বিভিন্ন অভিযোগে বুধবার সন্ধ্যায় নগরীর লাকসাম রোডে কুমিল্লা টাওয়ারের সামনে থেকে জেলা ডিবি পুলিশ এক শিবির নেতাকে এবং ইপিজেড রোড থেকে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে। 

এবিষয়ে সিটিটিসির প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, জঙ্গি ও জামায়াত শিবিরের কার্যক্রম একই সূতোয় গাথা।এদের হামলা করার মতো সামর্থ নেই। তারপরও বিষয়টি উড়িয়ে দেয়া যায় না। জঙ্গি ও জামায়াত-শিবিরের নাশকতার বিষয়টি মাথায় রেখেই রাজধানীসহ সারাদেশে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সাড়াশি অভিযান চলমান রয়েছে। জামায়াত-শিবিরের নাশকতা এবং জঙ্গি সংক্রান্ত বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপারের উপর বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে। তারা সে ভাবেই জঙ্গি দমনে এবং জামায়াত-শিবিরের নামকতা ঠেকাতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে জানান মনিরুল ইসলাম। 

এইচএম/বিএস 
 

আরও পড়ুন

Islami Bank