• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২১, ১৪ মাঘ ১৪২৭
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৯, ০১:০৯ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৯, ০২:৩৮ পিএম

ক্যাসিনোর ব্যবসা শুরু হয়েছে বিএনপির আমলে : কাদের 

ক্যাসিনোর ব্যবসা শুরু হয়েছে বিএনপির আমলে : কাদের 
ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের

শুধু ছাত্রলীগ-যুবলীগ নয়, সারা দেশে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর অন্যায়, অনিয়ম, দুর্নীতি অপকর্মের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, দুর্নীতি, অপকর্ম, শৃঙ্খলা ভঙ্গ এসবের জন্য অনেকেই নজরদারিতে আছেন এবং সময় মতো ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

তিনি আরও বলেছেন, গুটি কয়েক মানুষের জন্য পুরো পার্টি তো বদনামের ভাগিদার হবে না।  ‘কোন গড ফাদারই রেহাই পাবে না।’ 

শুক্রবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ধানমন্ডির আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।  

ওবায়দুল কাদের বলেন, এটা হচ্ছে আমাদের নেত্রী, দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অপকর্মের বিরুদ্ধে অন্যায়, অনিয়ম, দুর্নীতি অপকর্মের বিরুদ্ধে তিনি জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েই অগ্রসর হচ্ছেন। অনেকে বলতে পারেন যে, সরকার আসার পর তো ৮ মাস সময় গেল, কাজের প্রথম দিকেই তো অ্যাকশনটা শুরু হয়ে গেছে। এখানে ঢালাওভাবে ছাত্রলীগ-যুবলীগের প্রশ্ন নয়, আওয়ামী লীগেও এসব অপকর্ম যদি কেউ করে সেটারও খোঁজ-খবর তিনি নিচ্ছেন। দুর্নীতি, অপকর্ম, শৃঙ্খলা ভঙ্গ এসবের জন্য কিন্তু অনেকেই নজরদারীতে আছে এবং সময়মত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এটা রাজধানী কেন্দ্রিক এটা ঠিক নয়, সারা দেশে যেখানেই অপকর্ম, দুর্নীতি, অনিয়ম হবে, শৃঙ্খলা ভঙ্গ হবে সর্বত্রই একই নিয়মে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা কার্যকর হবে।

বিএনপির অভিযোগ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাদের বলেন, ঢাকাকে ক্যাসিনোর শহর বানিয়েছে বিএনপি। তাদের সময় এই ক্যাসিনোগুলো ছিল। সে ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে অ্যাকশন নেয়া হচ্ছে। সরকারের প্রথম বছরেই কিন্তু অ্যাকশন নেয়া হয়েছে। সময় তো এখনও ফুরিয়ে যায়নি। এমন তো নয় যে, ইলেকশনকে সামনে রেখে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। আমরা তো প্রথম ৮-৯ মাসেই এসব ব্যবস্থা নেয়া শুরু হয়েছে। বিএনপির সময়ও তো এই ক্যাসিনোগুলো ছিল, তখন তো তারা কোন অ্যাকশন নেয়নি। বিএনপি যা করতে পারে নি, সেটা আওয়ামী লীগ সরকার করছে। এতে সরকার ও আমাদের দলের ভাবমূর্তি বাড়ছে এবং সেটাই বিএনপির গাত্রদাহের কারণ।
 
এত দিন প্রশাসন থেকে কেন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি এমন প্রশ্নের জবাবে সরকারের এই মন্ত্রী বলেন, ‘কেউ মদদ দিয়ে থাকলে, কিংবা আশ্রয়-প্রশয় দিয়ে থাকলে পুলিশ কমিশনার বলেছেন, পুলিশের মধ্যেও যদি কেউ এসব অপকর্মের সঙ্গে জড়িত থাকে তবে পুলিশও নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করবে না। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে তাদেরও পরিকল্পনা আছে।’ 

যুবলীগ চেয়ারম্যানের বক্তব্য প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, যুবলীগ চেয়ারম্যান কি বলেছেন, আমি ঠিক শুনি নি। আমি ঠিক বিষয়টা জানি না, না জেনে আমি ঠিক উত্তর দিতে পারছি না।  
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গুটি কয়েক মানুষের জন্য গোটা পার্টি তো বদনামের ভাগিদার হবে না। এসব অকর্ম করছে গুটি কয়েক লোক। তারা ছাত্রলীগের, যুবলীগের কিংবা আওয়ামী লীগের হোক গুটি কয়েক লোক, যারা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করছে অপকর্ম করে। যাতে জনগণের কাছে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। অনেকেই নিরবে হয়তো অনেক কিছু হজম করছে। কিন্তু এই অ্যাকশনটা হওয়ার পর সারা দেশে সাধারণ মানুষ খুব খুশি। 

সহযোগী সংগঠনের এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ায় আওয়ামী লীগ বিব্রত কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইউ আর ভেরি হ্যাপী। আমাদের সরকার প্রধানের ওপর আমরা খুব খুশি। তিনিই অ্যাকশন নিতে পারেন, কাজেই সরকার প্রধানের ইমেজ বাড়লে আমাদের পার্টিরও ইমেজ বাড়বে।
      
বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান দুদুর বক্তব্য প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এটাকে বিচ্ছিন্ন বক্তব্য বলে মেনে নিতে পারছি না। কারণ বিএনপি নেতারা অতীতেও আমাদের নেত্রীকে হত্যা করা হবে, সরিয়ে দেওয়া হবে, বঙ্গবন্ধু যেই পথে গেছেন, শেখ হাসিনাও সেই পথে যাবেন, এ ধরনের বক্তব্য তারেক জিয়া থেকে বিএনপির অনেক নেতাই বিভিন্ন সময় মন্তব্য করেছেন।    
 
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীম, দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবাহান গোলাপ, দূর্যোগ ও ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী আব্দুস সবুর প্রমুখ।
    
এএইচএস/বিএস 
 

আরও পড়ুন