• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৯, ০৯:১৩ এএম
সর্বশেষ আপডেট : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৯, ০৯:১৪ এএম

ব্রিটিশ হাইকমিশনারের প্রেস ব্রিফিং

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে চীন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে

জাগরণ ডেস্ক
রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে চীন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে
ব্রিফিং করছেন ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটারটন ডিকসন এবং ডিএফআইডি বাংলাদেশের প্রধান জুদিথ হার্বাটসন- ছবি : ইউএনবি

রো হি ঙ্গা  স ঙ্ক ট

..............

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে চীনের ‘অনেক বেশি কার্যকর’ ভূমিকা রাখতে হবে উল্লেখ করে বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটারটন ডিকসন বলেছেন, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বিশ্বের অনেকগুলো দেশের সম্পৃক্ততা দরকার। আমরা দেখেছি মিয়ানমারে চীনের অনেক বেশি সম্পৃক্ততা রয়েছে। যা খুব ভালো একটা ব্যাপার। 

রোববার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ব্রিটিশ হাইকমিশনার তার বাসভবনে গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে আলাপকালে এসব কথা বলেন। এ সময় ডিপার্টমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (ডিএফআইডি) বাংলাদেশের প্রধান জুদিথ হার্বাটসন উপস্থিত ছিলেন। ইউএনবি

হাইকমিশনার বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় রোহিঙ্গারা যাতে তাদের জন্মভূমি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিরাপদে, স্বেচ্ছায় এবং মর্যাদাপূর্ণভাবে ফিরে যেতে পারে তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত লি জিমিং সম্প্রতি বলেন, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সমাধান ও মধ্যস্থতার জন্য ‘সক্রিয়ভাবে’ কাজ করতে চীনারা তৈরি আছে।

চীনারা যেমন বলেন, প্রতিবেশীরা হলো পরিবারের সদস্যদের মতো যারা একে অপরের পাশে দাঁড়ায়। যদি প্রয়োজন হয় দুই প্রতিবেশী এবং বন্ধুদের সহায়তার ক্ষেত্রে চীনারা পিছিয়ে থাকবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর থেকে বাংলাদেশ এখন ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে, যাদের বেশিরভাগ কক্সবাজার দিয়ে এসেছে।

রাষ্ট্রদূত জিমিং সম্প্রতি কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরগুলো পরিদর্শন করেছেন যা এই অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা, উন্নতি ও সমৃদ্ধি বাড়ানোর ক্ষেত্রে চীনাদের ‘দৃঢ় সংকল্প’র প্রতিফলন বলে মনে করছেন।

রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরে যাবে এটা বিশ্বাস করেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ব্রিটিশ হাইকমিশনার বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন তারা ফেরত যাবেন। রাখাইন রাজ্যে অনুকূল পরিবেশ থাকলে রোহিঙ্গারা শেষ পর্যন্ত তাদের বাড়িতে ফিরে যেতে চান।’

ব্রিটিশ কূটনীতিক রাখাইন রাজ্যে ফিরে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরির ওপর জোর দিতে বলেন, যাতে রোহিঙ্গারা নিরাপদে ফিরে যেতে পারে।

হাইকমিশনার ডিকসন এবং ডিএফআইডি বাংলাদেশের প্রধান হারবার্টসন জানান, যুক্তরাজ্য কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে সহযোগিতা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আরও ৮৭ মিলিয়ন পাউন্ড দেবে।

২০১৭ সালের আগস্ট থেকে রোহিঙ্গা সঙ্কট মোকাবেলায় যুক্তরাজ্যের চলমান সহায়তা এখন বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ালো ২২৬ মিলিয়ন পাউন্ডে।

অতিরিক্ত এ অর্থায়নে রোহিঙ্গাদের খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপদ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন, যৌন সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের সহায়তা ও কাউন্সেলিং প্রদান এবং অসহায় ব্যক্তিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে।

রোহিঙ্গা সঙ্কটের ফলে কক্সবাজারের স্থানীয়দের অর্থনৈতিক ও প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর যে প্রভাব পড়ছে তা প্রশমন তথা কক্সবাজার জেলার উন্নয়নে ২০ মিলিয়ন পাউন্ড বরাদ্দ রয়েছে।

কক্সবাজার জেলার সমগ্র জনগোষ্ঠী যেন আন্তর্জাতিক সহায়তার সুফল লাভ করে তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে যুক্তরাজ্য।

মিয়ানমারের ওপর জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলের (ইউএনএসসি) জারি করা ‘বিশ্বব্যাপী ব্যাপক অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা’ আরোপের বিষয়টির ক্ষেত্রেও সমর্থন জানিয়েছে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট। তারা মিয়ানমারকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অস্ত্র সরবরাহ, সকল ধরনের অস্ত্র বিক্রয় বা স্থানান্তর, যুদ্ধোপকরণ, অন্যান্য সামরিক ও নিরাপত্তা সরঞ্জামাদি স্থানান্তর, পাশাপাশি প্রশিক্ষণ বা অন্যান্য সামরিক বা নিরাপত্তা সহায়তা বাতিল করার আহ্বান জানিয়েছে।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট তাদের সর্বশেষ বার্তায়, ইউএনএসসিকে আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় গুরুতর অপরাধের জন্য দায়ী এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও সম্পদ জব্দ করার মতো ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানায়।

এসএমএম

আরও পড়ুন