• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৯, ১ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬
প্রকাশিত: অক্টোবর ১৭, ২০১৯, ০৯:৫৮ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : অক্টোবর ১৭, ২০১৯, ০৯:৫৮ পিএম

সীমান্তে পরিকল্পিত অস্থিরতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র কী না?

জাগরণ প্রতিবেদক
সীমান্তে পরিকল্পিত অস্থিরতা  সৃষ্টির ষড়যন্ত্র কী না?
সীমান্তের প্রতীকী ছবি

বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এখন অনন্য উচ্চতায়। গত সপ্তাহেই ভারত সফর করে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরমধ্যে বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) রাজশাহী সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফ গোলাগুলিতে একজন বিএসএফ সদস্য নিহতের ঘটনার পেছনে কোনও গভীর ষড়যন্ত্র কাজ করছে কি- না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার সরকার যখন কঠোর অবস্থান নিয়েছে, দলের অভ্যন্তরে শুরু করেছে শুদ্ধি অভিযান ঠিক সেই মুহূর্তে সীমান্তে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে দুদেশের মধ্যে সম্পর্ক শিথিল করার অপচেষ্টা কোনও মহল থেকে পরিকল্পিতভাবে করা হচ্ছে কি- না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে।

বিএসএফ’র দক্ষিণবঙ্গ সীমান্ত অঞ্চলের ডিআইজি এসএস গুলেরিয়া দাবি করেছেন, কয়েকজন ভারতীয় মৎসজীবীকে বর্ডার গার্ডস বাংলাদেশ বা বিজিবি আটকে রেখেছে, এই অভিযোগ পেয়ে তারা সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ বাহিনীর ৫ সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে পোস্ট কমান্ডার বিজিবি’র সঙ্গে পতাকা বৈঠক করতে বিজিবি-র চৌকিতে গিয়েছিল, তারপরেই ঘটনা নাটকীয় মোড় নেয়। বৈঠকের পরেও আটক ভারতীয় মৎসজীবীকে ছাড়তে রাজি হয় নি এবং বিএসএফ’র সদস্যদের ঘিরে ফেলতে শুরু করে বিজিবি সদস্যরা।

গুলেরিয়ার দাবি— পরিস্থিতি অন্যদিকে মোড় নিচ্ছে দেখে বিএসএফ দল যখন স্পিডবোটে ফিরে আসছিল তখন হঠাৎই বিজিবি সদস্যরা গুলি চালায়।

অবশ্য রাজশাহী জেলা বিজিবির কমান্ডিং অফিসার লেফটেনেন্ট কর্নেল ফেরদৌস মাহমুদ বিবিসিকে জানান, বিএসএফের সৈন্য নিহত হবার কোনও তথ্য প্রমাণ পায় নি বিজিবি। 

দুই দেশের মধ্যে অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকে বিএসএফ দাবি করেছে তাদের একজন সৈন্য নিহত হয়েছে। কিন্তু আমরা এর কোন তথ্য প্রমাণ পাই নি। এখন দুই দেশই বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সন্ধ্যায় দুইপক্ষ আবারও পতাকা বৈঠকে বসেছে।

২০০১ সালে জাতীয় নির্বাচনের আগ মুহূর্তে এমন প্রচেষ্টা হয়েছিলো। সে সময় ক্ষমতাসীন ছিল শেখ হাসিনা নেতৃত্বধীন আওয়ামী লীগ সরকার। ওই বছরের ১৫ এবং ১৬ এপ্রিল সিলেট সীমান্তে পদুয়ায়, ১৮ এপ্রিল কুড়িগ্রামের রৌমারী এবং ১৯ এপ্রিল পুনরায় পদুয়া সীমান্তে ভারতীয় বিএসএফের সাথে বিডিআরের সশস্ত্র সংঘর্ষ হয়।

১৮ এপ্রিল বাংলাদেশ আর ভারতের সীমান্ত-রক্ষী বাহিনীর মধ্যে সবচেয়ে ভয়ানক আর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে এদিন নিহত হয়েছিলেন ১৮ জন ভারতীয় সীমান্ত-রক্ষী। কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তের গ্রাম বড়াইবাড়িতে এই সংঘর্ষের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এক কঠিন সঙ্কটের মুখে পড়ে।

বাংলাদেশের ইতিহাসে ভারতের সঙ্গে সীমান্তে এরকম সংঘর্ষের নজির আর নেই। ভোররাত থেকে ছয় ঘণ্টা টানা সংঘর্ষ চলার সময় দুই দেশের সীমান্ত-রক্ষী বাহিনীর উচ্চ পর্যায়ে জরুরি কথাবার্তা চলছিল। কিন্তু তাতেও সংঘর্ষ থামে নি। ভারতীয় সীমান্ত-রক্ষী বাহিনীর বহু সদস্য নিহত হওয়ার পরই কেবল তারা পিছু হটে।

বিডিআর–বিএসএফ- এর সেই সংঘর্ষের পর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কে শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়। সীমান্ত জুড়ে এক অস্থিরতা তৈরি হয়। ভারত পাল্টা আক্রমন করতে পারে– এমন আশঙ্কা ছিল সীমান্তবর্তী বাংলাদেশীদের মধ্যে। তবে দুদেশের সরকারের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে কথা-বার্তার মাধ্যমে উত্তেজনা তাৎক্ষণিকভাবে প্রশমিত হয়, স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসে সীমান্তে।

এসএমএম