• ঢাকা
  • শনিবার, ০৭ ডিসেম্বর, ২০১৯, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
প্রকাশিত: নভেম্বর ১৩, ২০১৯, ০৬:৪০ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : নভেম্বর ১৩, ২০১৯, ০৬:৪০ পিএম

রোহিঙ্গা সমস্যা সৃষ্টির পেছনেও ছিল জিয়াউর রহমান : প্রধানমন্ত্রী

জাগরণ প্রতিবেদক
রোহিঙ্গা সমস্যা সৃষ্টির পেছনেও ছিল জিয়াউর রহমান : প্রধানমন্ত্রী
একাদশ জাতীয় সংসদের পঞ্চম অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা - পিআইডি

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতার হত্যার পর বিভিন্ন হত্যা ক্যু এর রাজনীতি শুরু হয়। এরপর ১৯৭৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যা আর ১৯৭৮ সালে তৈরি হয় রোহিঙ্গা সমস্যা। আর এ সব কিছুর পেছনে ছিল জিয়াউর রহমানের হাত। বুধবার (১৩ নভেম্বর) বিকালে একাদশ জাতীয় সংসদের পঞ্চম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারীর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গা সমস্যা সৃষ্টির পেছনে জিয়াউর রহমানের হাত ছিল। রোহিঙ্গা সমস্যা সৃষ্টির পেছনে জিয়াউর রহমানের যে হাত রয়েছে- এতে কোনো সন্দেহ নেই। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতার হত্যার পর বিভিন্ন হত্যা ক্যু এর রাজনীতি শুরু হয় এবং এরপর পার্বত্য চট্টগ্রামে সমস্যার সৃষ্টি হয়। এটা ছিল ১৯৭৭ সালে, তারপর শুরু রোহিঙ্গা সমস্যা ১৯৭৮ সালে, এটা হল বাস্তবতা। যাই হোক, আমরা সবসময় এটার শান্তিপূর্ণ সমাধানে বিশ্বাস করি। আমি ইতোমধ্যে উদ্যোগও নিয়েছি। 

আওয়ামী লীগের সদস্য শহীদুজ্জামান সরকারের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে দুই প্রতিবেশী দেশ ভারত ও চীনের সক্রিয় ভূমিকা আশা করছি। শুধু ভারত ও চীন নয়, মিয়ানমারের সঙ্গে বর্ডার সম্পৃক্ত রয়েছে এমন দেশগুলোর (ভারত, চীন, থাইল্যান্ড, লাওস) সঙ্গে এরইমধ্যে কথা বলেছি। আমি চীন সফরে গিয়েছিলাম, চীনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে। চীনের প্রেসিডেন্ট কথা দিয়েছেন- এ বিষয়ে তারা যথাযথ পদক্ষেপ নেবে।

‘এরপর ভারত সফরে গিয়েছিলাম। সেখানেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছি। প্রত্যেকের কাছ থেকে ভালো সাড়া পেয়েছি। তারা চলমান রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান অনুধাবন করছেন। তবে তারা চান তাদের সঙ্গে মিয়ানমারের যে সর্ম্পক রয়েছে সেটা বজায় রেখেই রোহিঙ্গারা যাতে তাদের দেশে ফিরে যেতে পারে। রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে ইতোমধ্যে মিয়ানমারের সঙ্গে চুক্তিও হয়েছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, তারা রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে চেয়েছে। রোহিঙ্গারা যাবে কিন্তু হঠাৎ করে এর মধ্যে তারা নিরাপত্তার অজুহাতে বেঁকে বসলো। রোহিঙ্গারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এখন এটা মিয়ানমারের ওপর নির্ভর করছে, রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তাদের নিয়ে যাওয়া। এই সমস্যা সমাধানে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলো উদ্যোগ নিয়েছে। আলোচনা চলছে। ভারত ও চীন রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে সমর্থন দিয়েছে। তারাও আলোচনা করছে।

জাতীয় পার্টির মসিউর রহমান রাঙ্গার প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা বলেন, সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বিবেচনায় দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোয় প্রাকৃতিক গ্যাস রফতানির কোনো পরিকল্পনা আমাদের নেই। বাংলাদেশ থেকে ভারতের ত্রিপুরায় বাল্ক এলপি গ্যাস রফতানির কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আমাদের বেসরকারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিদেশ থেকে আমদানি করা এলপি গ্যাস সিলিন্ডারে ভরে ভারতে রফতানি করে মুনাফা অর্জন করতে পারবে। এতে বাংলাদেশের কোনো ধরনের জ্বালানি সমস্যা সৃষ্টি তো হবেই না, উপরন্তু আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের আরও একটি নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হল।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহারে ভারতের সঙ্গে এসওপি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর ফলে ভারত আমদানি-রফতানির জন্য এই বন্দর দুটি ব্যবহার করতে পারবে। এটি উভয় দেশের জন্যই লাভজনক। ভারতের পাশাপাশি অদূর ভবিষ্যতে নেপাল ও ভুটান আমাদের বন্দর ব্যবহারের সুযোগ নেবে বলে আশা করি। চীনের দক্ষিণ-পঞ্চিমাঞ্চলের রাজ্যগুলো এ বন্দর দুটি ব্যবহার করতে চাইলে স্বাগত জানানো হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধে সরকারের পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দুর্নীতি দমন কমিশন দুর্নীতিবিরোধী অভিযান অর্থাৎ দুর্নীতি অনুসন্ধানে তদন্ত এবং প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিগত ১০ বছরে দুর্নীতি দমন কমিশন ১৩ হাজার ২৩৮টি অভিযোগের অনুসন্ধান, ৩ হাজার ৬১৭টি মামলা রুজু এবং ৫ হাজার ১৭৯টি চার্জশিট দাখিল করেছে।

তিনি বলেন, তাৎক্ষণিক দুর্নীতিবিরোধী অভিযান পরিচালনার জন্য দুদকের এনফোর্সমেন্ট ইউনিট সদা তৎপর রয়েছে। উক্ত ইউনিট প্রতিনিয়ত ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সারাদেশে জেলা, উপজেলা, পৌরসভা এমনকী ইউনিয়ন পর্যায়ে বিভিন্ন দফতরে তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করছে। এছাড়া আসামি গ্রেফতারে অভিযান পরিচালনা করে আসছে। ২০১৯ সালে এ পর্যন্ত দুর্নীতি দমন কমিশন ১৬টি ফাঁদ মামলা দায়ের করেছে। ৬৮ জন আসামি গ্রেফতার করেছে। তাছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে দুর্নীতি দমন কমিশন ক্যাসিনোর সাথে জড়িত বিভিন্ন ব্যক্তির সম্পদের তথ্য চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন দফতরে পত্র প্রেরণ করেছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখতে দুর্নীতি দমন কমিশন সর্বদা বদ্ধপরিকর। তাছাড়া বাংলাদেশের কোন কোন ব্যক্তি সিঙ্গাপুরে ক্যাসিনো খেলেছে সে সম্পর্কিত তথ্য প্রেরণের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন সিঙ্গাপুর সরকারকে অনুরোধ করেছে। 

রওশন আরা মান্নানের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি একটি বহুমাত্রিক ব্যাধি। দুর্নীতি যেকোনো দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক উন্নয়ন এমনকী রাজনীতি পরিবেশের প্রধান অন্তরায়। দুর্নীতি গণতন্ত্রের ভিত্তিকে দুর্বল করে দেয়। অনেক ক্ষেত্রে সন্ত্রাসবাদ এবং জঙ্গিবাদকে উৎসাহিত করে। তাই দুর্নীতি দমনে বর্তমান সরকার অঙ্গীকারাবদ্ধ। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার ধারাবাহিকতা বাংলাদেশের উচ্চ আয়ের দেশ হওয়ার পথে এগিয়ে চলেছে। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন. আমরা আগেই বলেছি, বাংলাদেশের মাটিতে থেকে, মাটি ব্যবহার করে কেউ কোনো দেশে বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতা, সন্ত্রাসী তৎপরতা চালাবে এটা হতে পারবে না। বাংলাদেশের মাটিকে সন্ত্রাসী তৎপরতার জন্য কাউকে ব্যবহার করতে দেব না। এটা তাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করা যাবে না। কারও সঙ্গে শত্রুতা নয়, সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব- এই নীতিতে আমরা বিশ্বাসী।

এইচএস/

আরও পড়ুন