• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৯, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
প্রকাশিত: নভেম্বর ১৪, ২০১৯, ০৭:০৭ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : নভেম্বর ১৪, ২০১৯, ০৭:৩৯ পিএম

পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি নিয়ে সংসদে তীব্র ক্ষোভ 

জাগরণ প্রতিবেদক
পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি নিয়ে সংসদে তীব্র ক্ষোভ 
সংসদে মোহাম্মদ নাসিম- ফাইল ছবি

লাফিয়ে লাফিয়ে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সরকার দলীয় সিনিয়র সংসদ সদস্যরা। এ বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি তারা পেঁয়াজ আমদানিতে শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। কেউ আবার এটিকে ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন।

বৃহস্পতিবার (১৪ ডিসেম্বর) রাতে সংসদ অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিষয়টির অবতারণ করেন সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম। 

এরপর আলোচনায় অংশ নেন সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী ও বর্তমানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি তোফায়েল আহমেদ, সাবেক চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ ও বিরোধী দল জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মুজিবুল হক চুন্নু বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

বাণিজ্য ও অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, এত সুদক্ষ একটি মন্ত্রিসভা, তার দু’জন মন্ত্রী এখানে আছেন। তাদের অনুরোধ করতে চাই। পেঁয়াজের ঝাঁজ বেশি হয়ে গেছে। জনগণের মধ্যে একটা রিঅ্যাকশন হচ্ছে। আজকে পর্যন্ত যে খবর আছে প্রায় ২০০ টাকা হয়ে গেছে পেঁয়াজের কেজি।

তিনি বলেন, আমরা এতো জনপ্রিয় সরকার, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে কাজ করে যাচ্ছি। কি কারণে প্রতিদিন বেড়ে যাচ্ছে পেঁয়াজের দাম? বাণিজ্যমন্ত্রী যখন সংসদে বলেন ১০০ টাকার নিচে নামবে না, তখন তো ব্যবসায়ীরা সুযোগ পেয়ে যায়। তাই অনুরোধ করব প্রয়োজনে বিদেশ থেকে আমদানি করছেন বলেছেন। তারপরেও কেন দাম বাড়ছে? ব্যাপারটা বোধগম্য না। এতে আমাদের সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ভারতে গিয়ে বলেছিলেন পেঁয়াজের ঝাঁজ বেড়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রী অনুরোধ করেছিলেন পেঁয়াজের রফতানি বন্ধ করবেন না। পেঁয়াজের ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। তিনি বলেন, বাণিজ্যমন্ত্রীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। মানুষের মধ্যে রিঅ্যাকশন খারাপ হবে।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেন, বুলবুলের কারণেও পেঁয়াজের দাম একটু বেড়েছে। আজ পত্রিকায় দেখলাম পেঁয়াজের কেজি ২শ টাকা। এটা কোনোদিনও আমরা ভাবিনি। আমরা আগেই মূল্যায়ন করি আমাদের উৎপাদন কত, চাহিদা কত, শর্ট কত। যেটা শর্ট সেটা তুরস্ক, মিশর, মিয়ানমার থেকে আগেই আমদানি করি। 

অর্থমন্ত্রীকে উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, যারা পেঁয়াজ আমদানি করেন, তাদের শুল্কমুক্ত সুবিধা দেন। অন্তত কিছুদিনের জন্য এটি করা হোক। ডিউটিটা শূন্য করে দেন। অর্থমন্ত্রী এ ধরনের একটি ঘোষণা দিলে পেঁয়াজের দামে প্রভাব পড়বে।

আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ও সাবেক চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ এ প্রসঙ্গে বলেন, আসলেই বাজারে প্রচুর পেঁয়াজ রয়েছে। এটা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। প্রধানমন্ত্রী এর আগে অনুরোধ করেছিলেন পেঁয়াজ কম খেতে। সেটাতে মানুষ সাড়া দিয়েছেন। পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি সরকারের বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র। সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে। এজন্য দুর্নীতিবাজরা এটা করতে পারে। এটা মানা যায় না। এব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া দরকার।  প্রধানমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি আমি আহবান জানাই। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবেন, যাতে পেঁয়াজের দাম কমে। মানুষের দুর্ভোগ দূর হয়।

জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, দু’দিন আগে বাণিজ্যমন্ত্রীর পক্ষে শিল্পমন্ত্রী বললেন পেঁয়াজের বাজার সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। মন্ত্রী এ কথা বলার পরদিনই পেঁয়াজের কেজি দেড়শ টাকা হয়ে গেল। আজ (বৃহস্পতিবার) দুইশ টাকা কেজি। নিউজে দেখলাম পেঁয়াজের দাম না পাওয়ায় ভারতের কৃষকরা কাঁদছে। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে আমাদের এত ভালো সম্পর্ক। প্রধানমন্ত্রী যদি নিজে ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নেন তাহলে হয়তো এ সমস্যাটা থাকতো না।

চুন্নু আরও বলেন, বাজারে প্রচুর পেঁয়াজ রয়েছে। তারপরেও দাম বাড়ছে। এর বিরুদ্ধে একটি অভিযান চালানো দরকার। তাহলে সমস্যাটা আর থাকবে না। সন্ত্রাসীরা ক্রসফায়ারে মারা যায়। যারা পেঁয়াজের দাম বাড়াচ্ছে, তাদের একজন মারা যাক না। আমি মনে করি পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি সরকারের বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র। এটা দেখা দরকার। জরুরি ভিত্তিতে এর বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ব্যবস্থা নেয়া দরকার।

এইচএস/বিএস