• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৯, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
প্রকাশিত: নভেম্বর ১৯, ২০১৯, ০৯:২১ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : নভেম্বর ১৯, ২০১৯, ০৯:২১ পিএম

এখনই পদক্ষেপ চায় সুশীল সমাজ  

পেঁয়াজ সংকটের ফাঁদ : সিন্ডিকেটের পকেটে কষ্টের টাকা 

মেহ্দী আজাদ মাসুম : 
পেঁয়াজ সংকটের ফাঁদ : সিন্ডিকেটের পকেটে কষ্টের টাকা 

পেঁয়াজের চাহিদা এবং জোগানের সঠিক কোন পরিসংখ্যান না থাকলেও ব্যাবসায়ীদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ উৎপাদিত হয় দেশেই। চাহিদার বাকিটা হয় আমদানি। এই আমদানির প্রায় পুরোটাই ভারত নির্ভর। তবে ২৯ সেপ্টেম্বর ভারতের রপ্তানী বন্ধ করে দেয়ার খবর প্রকাশিত হওয়ার পরই সারা দেশে অস্থির হয়ে ওঠে পেঁয়াজের বাজার। 

৩৮ থেকে ৪৬  টাকার পেঁয়াজ দ্রুতই বেড়ে হয়ে যায়  ৮০ থেকে ৯০ টাকা। সর্বশেষ ৫০ দিনের মাথায় তা ২০০ থেকে ২২০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, ভারতের রপ্তানী বন্ধ করে দেয়ার দিনেই কেন দেশে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পাবে? ভারত থেকে ৮ থেকে ১০ টাকায় আমদানি করা প্রতি কেজি পেঁয়াজ কোন অজুহাতে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা ৮০ থেকে ৯০ টাকা এবং সর্বশেষ ২০০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রয় করলো।

আর কোন সিন্ডিকেটের পকেটে গেলো সাধারণ মানুষের এই কষ্টের টাকা, তা নিয়ে যেন কারোই কোন মাথা ব্যথা নেই। সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, বাংলাদেশ ৮ থেকে ১০ টাকায় ভারত থেকে প্রতি কেজি আমদারি করা পেঁয়াজ যারা প্রথম ধাপে ৮ থেকে ৯  গুন বাড়িয়ে ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রয় করলো, তাদের বিরুদ্ধে এখনই তদন্ত করে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া উচিৎ। 

অন্যথায় পেঁয়াজের পর শুধু লবনই নয়, আরো অনেক নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষদের মাঝে অসন্তোষ সৃষ্টির প্রচেষ্টা হতে পারে। হতে পারে নিজেদের পকেট ভারী করার পাশাপাশি বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে কোন নীল নকশার বাস্তবায়ন।

বাংলাদেশ কনজিউমার এ্যাসোসিয়েশনের (ক্যাব) চেয়ারম্যান গোলাম রহমান বিষয়টি নিয়ে দৈনিক জাগরণকে বলেন,  ‘ভারত রপ্তানি বন্ধ করে ২৯ সেপ্টেম্বর। খবরটি এই দিনই গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। আর এই দিনই পূর্বের ৮ থেকে ১০ টাকায় ভারত থেকে আমদানী করা পেঁয়াজ কেন প্রথম দিন ৬০ থেকে ৭০ টাকা, ধাপে ধাপে ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রয় হবে? কেন তা ২০০ থেকে ২২০ টাকায় গিয়ে ঠেকবে? এই ৫০ দিনে সাধারণ মানুষদের কষ্টের টাকায় কারা আখের গোছালো, কারা এই সিন্ডিকেট, তা খুঁজে বের করা খুবই জরুরী।’

অধিকার মহাসচিব এ্যাডভোকেট আদেলুর রহমান শুভ্র দৈনিক জাগরণকে বলেন, ‘আমার কথা স্পষ্ট, যারা পেঁয়াজ নিয়ে সিন্ডিকেট করে সাধারণ মানুষকে বিপদগ্রস্থ করে তুলেছিলো, তদন্ত করে তাদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে। তা না হলে এরাই আগামীতে গোটা দেশকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।’

বাণিজ্য মন্ত্রী টিপু মুনশি এ বিষয়ে আজ (১৯ নভেম্বর) সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনের পর দৈনিক জাগরণকে বলেন, সরকারের নানা উদ্যোগে পেঁয়াজের বাজার ‘অতিদ্রুত’ স্বাভাবিক হয়ে আসবে। পেঁয়াজের মূল্য কারসাজিতে জড়িত এমন আড়াই হাজার অসাধু ব্যবসায়ীকে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। সারা দেশে আরো কয়েক হাজার ব্যবসায়ীর তালিকা করা হয়েছে। শিগগিরই তথ্য প্রমানের ভিত্তিতে এদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিষয়টি নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও সব জেলা প্রশাসন তদারকি অব্যাহত রেখেছে।’

এমএএম/এমএইচবি

আরও পড়ুন